গিফট শপ ব্যবসা সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জসমূহ! ব্যবসার ধারনা

গিফট শপ ব্যবসা সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জ সমূহ

গিফট শপ ব্যবসা

গিফট শপ ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা! 

যেকোন অনুষ্ঠানে গিফট দেওয়া এখন সামাজিক নিয়মের মধ্যেই পড়ে। আগে শুধু বড়রা ছোটদের বা সমবয়স্কদের গিফট দিত। তবে এখন চিত্রটা বেশ ভিন্ন। সময়ের পাল বদলে এখন ছোটরাও বড়দের জন্য বিশেষ দিনগুলিকে কেন্দ্র করে গিফট দেয়। এই গিফট দেওয়া ভালবাসা প্রকাশের অন্যতম বহিপ্রকাশ।

আমাদের দেশে মা এবং বাবা দিবস প্রচুর জাকঁকমকপূর্ন ভাবে উদ্যাপন করা হয়। ফলে শুধু এই দিনটিকে কেন্দ্র করে প্রচুর কেনাকাটা করা হয়। ছেলে মেয়েরা তাদের সাধ্য অনুসারে টিফিনের টাকা জমিয়ে বাবা, মায়ের জন্য উপহার কিনে।

আবার ভালবাসা দিবস, বন্ধু দিবস, ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও গিফট দেওয়ার প্রচলন আছে। সারা বছরই কারো না করো জন্মদিনের উৎসব থাকে। সুতরাং ব্যবসাটির চাহিদা উপেক্ষা করার মত না। যেকোন ব্যবসায়ীর জন্য একটি সম্মানজনক এবং লাভজনক পেশা হতে পারে গিফট শপের ব্যবসা।

গিফট শপ ব্যবসা শুরু করতে যেসকল বিষয়গুলি জানা  প্রয়োজন

১। মূলধন

তুলনামূলক কম মূলধনে আপনি এই ব্যবসাটি করতে হবে। আপনি ৪ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে এই ব্যবসাটি করতে পারেন। প্রথমেই ১০ লাখ টাকার পণ্য না কিনে আপনি অল্প অল্প করে চাহিদা বুঝে বিনিয়োগ বাড়াতে পারেন। তবে দোকানের ডেকোরেশনের জন্যও আপানাকে কিছু টাকা খরচ করতে হবে।

২। কি কি পণ্য থাকবে

গিফট শপ যেহুতু সুতরাং এখানে আপনাকে নানা রকমের গিফট আইটেম আনতে হবে। যত রকমের পণ্য আপনি আনতে পারবেন ততই আপনার দোকানের চাহিদা তৈরী হবে। ফটোফ্রেম, মগ, শোপিস, ঘড়ি, পুতুল, চারিব রিং, খেলনা, গহনা, সাজগোজের জিনিস, রান্নার আসবাবপত্র সহ অনেক ধরনের পণ্যের সমাহার আপনাকে ক্রেতার সামনে গ্রহনযোগ্য করে তুলবে। 

পণ্য যখন বিভিন্ন রকমের, তখন আপনাকে বিভিন্ন জায়গা থেকেই পণ্য সংগ্রহ করতে হবে। যেমন, গুলিস্থান, নিউমার্কেট, কাঁটাবন, চকবাজার, বাইতুল মোকারাম মার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেট সহ আরো বিভিন্ন জায়গা থেকে সুলভ মূল্যে পণ্য আনতে হবে। অনেক পণ্য কাঁচের হতে পারে বা প্লাস্টিকের।

সুতরাং সেগুলো সাবধানে নিয়ে আসতে হবে যেন ভেঙ্গে না যায়। কারন একটি পণ্য ক্ষতিগ্রস্থ হলে সেটি কিন্তু আপনি কোন ভাবেই বিক্রি করতে পারবেন না।

৩। সম্ভাব্য ক্রেতা এবং তাদের চাহিদা

প্রতিটি ব্যবসার সম্ভাব্য ক্রেতা থাকে এবং তাদের চাহিদাও ভিন্ন ভিন্ন্ হয়। যেমন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সামনের বইয়ের দোকানে আপনি যদি শুধুমাত্র বাংলা বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেন তবে কত গুলো ক্রেতাকে আকর্ষন করতে পারবেন এবং কতদিন সেখানে ব্যবসা করতে পারবেন?

যে কোন ব্যবসায়ী দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা নিয়েই ব্যবসা করতে আসে। আপনি কোথায় এবং কাদের লক্ষ্য করে ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

একটি গিফট শপে আপনার সম্ভাব্য ক্রেতা এবং তাদের চাহিদার কথা আপনাকে মাথায় রেখে ব্যবসা করতে আসতে হবে।

৪। পণ্যের মূল্য নির্ধারন

একটি গিফট শপের সম্ভাব্য ক্রেতা কারা? স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরাই মূলত সম্ভাব্য ক্রেতা। এই ক্রেতাদের কাছে কত টাকা থাকতে পারে, সেই কথা বিবেচনা করেই তেমন মূল্যের পণ্য আনা উচিত।

খুব বেশি দামের পণ্যের বদলে, একটু কম দামের মধ্যে সুন্দর গিফটের চাহিদা প্রচুর। আবার নাইনটি নাইন, ওয়ান ফিফটি ওয়ান কিংবা ফাইভ হান্ড্রেড এমন আর্কষনীয় কিছু অফার ক্রেতার জন্য রাখতে পারেন।

৫। আপডেট থাকা

প্রতিনিয়ত সময় বদলে যাচ্ছে, বদলে যাচ্ছে চাহিদা। একই জিনিস খুব বেশি দিন মানুষের ভাল লাগে না। সুতরাং নতুন নতুন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।

গিফট আইটেমের মধ্যে মানুষ এখন বিভিন্নতা চ্য়া। যেমন মগ একসময়ের খুব জনপ্রিশ গিফট হিসাবে প্রসিদ্ধ থাকলেও বর্তমানে অনেকেই গিফট আইটেম হিসাবে মগ এড়িয়ে চলে। তবে আর্কষণীয় এবং ভিন্ন ধরনের মগের চাহিদাও আছে।

গিফট শপের দোকান আপনাকে নতুন পণ্য একং বিভিন্ন ধরনের ইউনিক পণ্য দিয়ে সাজতে হবে, যেন ক্রেতা আকৃষ্ট হয়।

৬। দোকান সাজানো

একটি সাজানো গোছানো দোকানে অন্য একটি সাধারন দোকানের থেকে বেশী বিক্রি হওয়ার সুযোগ থাকে। এছাড়া, দোকানের ডিসপ্লে ১৫ দিন পর পর পরিবর্তন করতে পারলে বা ওলট পালট করে সাজাতে পারলে বিক্রি বেড়ে যেতে পারে। 

গিফট শপের ব্যবসা কেন করবেন

১। চলমান চাহিদা

ধরুন কোন স্কুলের সামনে আপনার একটি গিফট শপ আছে। প্রতিদিনই কারো না কারো জন্মদিন থাকে। একজনের নিশ্চয় একটি বন্ধু থাকে না।

সুতরাং ২/৩ জন বন্ধু থাকলে তারা আলাদা আলাদা গিফট নিতে পারে। শিক্ষার্থী হিসাবে তাদের অন্য মার্কেটে যাওয়ার সুযোগ কম। আপনার কাছে যদি তারা কম মূল্যে বিভিন্ন ধরনের গিফট আইটেম পায় তবে বাইরে যাবে কেন?

২। কম কর্মী প্রয়োজন

আপনার যদি মাঝারি সাইজের গিফট শপ হয় তাহলে আপনি একজন কর্মী নিয়েই ব্যবসা চালাতে সক্ষম। আপনি চাইলে ক্যাশের অংশটুকু দেখতে পারেন এবং আপনার কর্মী অন্যান্য সকল কিছুর দেখাশোনা করতে পারবে। দাম নির্ধারিত করা থাকলে বিষয়টি আরো সহজ হয়ে উটবে।

৩। অনলাইন এবং অফলাইন

প্রযুক্তির এই যুগে আপনি যদি আপনার ব্যবসাকে অনলাইনে নিয়ে যেতে পারেন তবে বেশ ভাল ব্যবসা করতে পারবেন। অনলাইনে ঘরে বসে অনেকেই বিভিন্ন উপহার সামগ্রী কিনে। আবার বিশেষ দিন গুলিতে চাহিদা বেড়ে যায় ব্যাপক আকারে।

নিজস্ব দোকানের পাশাপাশে আপনি যদি অনলাইন সেক্টরেওও কাজ করতে পারেন, তবে আপনার ব্যবসা খুব দ্রুত এগিয়ে যাবে।

অনলাইন ব্যবসার জন্য আপনি আপনার এলাকার জন্য নিজস্ব ডেলিবারি ম্যান এবং দূরের ক্ষেত্রে কুরিয়ার সার্ভিসের সাহায্য নিতে পারেন। ক্রেতাাই সাধারণত এই খরচ বহন করেন।

৪। সারা বছর ব্যবসা করার সুযোগ

বেশ কিছু ব্যবসা আছে, যেগুলো মৌসুমের উপর নির্ভর করে। যেমন শীতকালীন পোশাকের চাহিদা শুধুমাত্র শীতকালেই থাকে। শীতকালের পর ঐ ব্যবসায়ীকে অন্য ধরনের পণ্য বাজারে নিয়ে আসতে হয়।

কিন্তু গিফট শপের দোকানে একই ধরনের পণ্য দিয়ে আপনি সারা বছর ব্যবসা করতে পারবনে। উৎসবমুখর জাতি হিসাবে আমদের দেশে সারা বছর গিফটের চাহিদা আছে।

নিত্য নতুন পণ্য আনলে আপনি সারা বছর বেশ সুন্দও ভাবে ব্যবসা করতে পারবেন।

৫। পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়া বা মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় নেই

গিফট এমন কিছু বস্তু যা সাধারনত নষ্ট হয় না বা মেয়াদও শেষ হয় না। হয়ত বিক্রি না হলে ধুলা পড়তে পারে। এই বিবেচনয়া এই ব্যবসায় রিস্ক বা ঝুঁকি অনেকটাই সহনীয়।  

৬। বাড়তি আয়ের সুযোগ

একটি গিফট শপে গিফট আইটেমের পাশাপাশি আপনি চাইলে আইসক্রিম এবং কোল্ড ড্রিংকসের বিক্রি করতে পারেন। তবে খুব বেশি খাবারের আইটেম না তোলাই ভাল, কারন তখন আপনার শপের বিশেষত্ব কমে যাবে।

গিফট শপের চ্যালেঞ্জ সমূহ

১। দোকানের লোকেশন

ব্যবসার জন্য সঠিক লোকেশন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। গিফট শপের জন্য আপনাকে লোকেশন এমন ভাবে বাছাই করতে হবে যেন, ক্রেতা আপনাকে সহজেই খুঁজে পায়। গিফট শপের সম্ভাব্য ক্রেতা হল ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।

সুতরাং স্কুল করেজের আশে পাশে এই শপের চাহিদা আছে প্রচুর। আবার জনসমাগম স্থানেও আপনি এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি খুলতে পারেন। ক্রেতা যেন আপনাকে হাতের কাছেই পায়, এই বিষয়টি আপনাকে মনে রাখতে হবে। অবশ্যই পড়বেন- ব্যবসায় লোকেশনের গুরুত্ব

২। পণ্যের নানা রকম ভিন্নতা

গিফট শপে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সমাহার থাকতে হবে। ক্রেতার কাছে যেন অনেক গুলো আইটেম থাকে পছন্দ করার মতো।

খুব কম আইটেম থাকলে ক্রেতার কাছে পছন্দ করার সুযোগ কম থাকবে, সুতরাং ক্রেতা হারিয়ে ফেলার সুযোগও তৈরী হবে।

একজন ক্রেতা যে সবসময় অন্যের গিফট কিনবেন এমন নয়, তিনি তার নিজের জন্যও কিনতে পারেন। সুতরাং সেই বিষয়ে ভাবতে হবে। 

ভিজিট করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল – Bangla Preneur YouTube Channel 

৩। ইউনিক প্রোডাক্ট

গিফট শপের মালিক হিসাবে আপনাকে সবসময় আপডেট থাকতে হবে এবং নতুন নতুন পণ্য এনে ক্রেতার আকষর্ন ধরে রাখতে হবে।

ক্রেতা যদি জানেন আপনার দোকানে কি কি মালামাল আছে এবং নতুন কোন জিনিস আপনি আনেন নি, তাহলে আপনার শপের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

সুতরাং নিত্য নতুন এবং ইউনিক পণ্যের চাহিদা প্রচুর। আরো পড়ুনঃ বিজনেস আইডিয়া! কাপড়ের ব্যবসা

ব্যবসা ক্ষেত্রে আপনার হাতে যেমন ইতিবাচক কিছু বিষয় থাকবে, ঠিক তেমনি নেতিবাচক কিছু বিষয়ও থাকবে। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসাবে গড়ে উঠতে চাইলে আপনাকে চ্যালেঞ্জ গুলো মোকাবিলা করার সাহস থাকতে হবে এবং চ্যালেঞ্জ গুলোকেই সম্ভাবনায় রূপান্তর করতে হবে।