শেয়ারের দাম অ্যাভারেজ ডাউন করার উপায় কি

শেয়ারের দাম অ্যাভারেজ ডাউন

শেয়ারের দাম অ্যাভারেজ ডাউন

শেয়ারের দাম অ্যাভারেজ ডাউন

শেয়ারের দাম অ্যাভারেজ ডাউন করা একটি বিনিয়োগ পদ্ধতি যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। কবে থেকে বা কে এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে তা জানা যায়নি।

ধরুন, আপনি একটি কোম্পানির একটি শেয়ার কিছু দিন আগে ১০০ টাকা দিয়ে কিনলেন, এখন দাম কমে হলো ৯০ টাকা, এখন যদি আরো একটি শেয়ার কিনেন তাহলে এই ২টি শেয়ারের মোট দাম হবে ১৯০ টাকা, যার গড় মুল্য ৯৫ টাকা, এই পদ্ধতিকে অ্যাভারেজ ডাউন বলা হয়।

যারা দীর্ঘ সময়ের জন্য শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে তারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। আর যারা কম সময়ের জন্য বিনিয়োগ করে তারা অ্যাভারেজ ডাউন না করে স্টপ লস দিয়ে থাকে।

অ্যাভারেজ ডাউন করার সুবিধা ও অসুবিধা দুই আছে। বড় সুবিধা হচ্ছে দাম কমলে বেশি শেয়ার কেনা যায়, গড় মুল্য কমানো যায়। আর বড় অসুবিধা হচ্ছে, দাম কত কমবে তা নিশ্চিত না হওয়ার কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকা পড়ে থাকতে হতে পারে।

অ্যাভারেজ ডাউনের এখন পর্যন্ত কোনো সূত্র আবিষ্কার হয়নি যেটা শতভাগ কাজ করে। এক একজন বিনিয়োগকারী এক একরকম করে অ্যাভারেজ ডাউন করে থাকে।

কেউ অল্প দাম কমলে অ্যাভারেজ করে কেউ বেশি দাম কমলে অ্যাভারেজ করে। যেই বিনিয়োগকারীর শেয়ারবাজারের সফল হতে চায় সে মূলত একটি পরিকল্পনা নিয়ে শেয়ার বাজারে আসে।

যেমন কত টাকায় শেয়ারটি কিনবে এবং কত টাকা সে শেয়ারটি বিক্রি করবে তার পরিকল্পনা থাকে, ঠিক তেমনি অ্যাভারেজ ডাউন করার জন্যও একটি পরিকল্পনা হাতে রাখে। আপনি জানেন কি? – শেয়ারের দাম বাড়ে বা কমে কেন

ধরুন ১০০ টাকা দিয়ে একটা শেয়ার কিনলেন এখন শেয়ারের দাম কমে হলো ৯৮ টাকা। প্রতিটি শেয়ারের ২ টাকা লসে আছেন। এই দামে অ্যাভারেজ ডাউন করে ভালো ফলাফল আশা করা যায় না।

কমপক্ষে শেয়ারের দাম ১৫% পার্সেন্ট না কমা পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে যদি না আপনি স্টপ লস না দেন। যখন শেয়ারটি ১৫% দাম হারাবে তখন অ্যাভারেজ করা যেতে পারে।

তবে অ্যাভারেজ করার আগে দেখতে হবে আপনি একটি ফান্ডামেন্টাল শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন না একটি নন ফান্ডামেন্টাল শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন। সাধারণত শেয়ারটি যদি ভালো হয় এবং ফান্ডামেন্টাল strong হয় বা শক্তিশালী হয় তাহলে এভারেজ করে ভাল ফলাফল আশা করা যেতে পারে।

আর নন ফান্ডামেন্টাল যদি হয় তাহলে কমপক্ষে ২০ পার্সেন্ট কমার আগে এভারেজ করা ঠিক হবে না। যদি আপনার পরিকল্পনা থাকে যে, দাম কমলে এভারেজ করবেন তাহলে কখনোই আপনার সব টাকা দিয়ে একবারে শেয়ার কেনা যাবে না।

আমার দৃষ্টিকোণ থেকে একটা শেয়ারকে কমপক্ষে তিনবার কেনার মত আমার টাকা ব্যাকআপ রাখতে হবে, এতে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। শেয়ারবাজারে ক্ষেত্র বিশেষ অ্যাভারেজ ভাল কাজ করে এবং ক্ষেত্র বিশেষে স্টপ লস ভালো কাজ করে। শেয়ারবাজারে যারা অনেক বেশি অভিজ্ঞ এবং যারা শেয়ারবাজার নিয়ে অনেক গবেষণা করে তারাই স্টপ লস বেশি দিয়ে থাকে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্টপ লস দেওয়া উচিত এভারেজ করার থেকে। যেমন আপনি যেই কোম্পানির শেয়ার কিনলেন, সেই কোম্পানি কারখানাটিতে আজকে আগুন লেগে যায় তাহলে স্টপ লস দিয়ে বের হওয়া উত্তম।

আর যদি কম্পানি পারফরম্যান্স সব স্বাভাবিক আছে সবকিছু ঠিকঠাক মত চলতেছে তারপরও দাম কমছে এই অবস্থায় কমপক্ষে ১৫% পার্সেন্ট কমার পরে অ্যাভারেজ করা উত্তম। আপনি যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি শেয়ার বিক্রি করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার লাভ কিংবা লস হচ্ছে না।

তাই সামান্য দাম কমলে বিচলিত না হয়ে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করুন। আমাদের মনে রাখতে হবে শেয়ারবাজার ভাগ্য পরীক্ষার জায়গা না। এটা টাকার সাথে মেধা, দক্ষতা এবং সময় বিনিয়োগ করার জায়গা। ভিজিট করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল – Bangla Preneur YouTube Channel