এই ৪ বোন ৪০ বছর ধরে একসাথে ছবি তুলে আসছে

৪ বোন ৪০ বছর ধরে একসাথে ছবি তুলে আসছে

১৯৭৫ সালে তোলা চার বোনের প্রথম ছবি

১৯৭৫ সালে তোলা চার বোনের প্রথম ছবি

ফটোগ্রাফার নিকোলাস নিকসন ৪০ বছর ধরে এই ৪ বোনের একই ছবি তুলেছেন। এই চার বোনের নাম বাম দিক থেকে হিদার, মিমি, বেবে এবং লরি। বেবে হচ্ছেন ফটোগ্রাফার নিকোলাস নিকসন এর স্ত্রী।

১৯৭৫ সালে গ্রীষ্মের কোন একদিন নিকোলাস নিকসন তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যান। অনেকটা অলস ও বিরক্তিকর সময় পার করছিলেন। তখন তিনি তার স্ত্রী বেবেকে বললেন তার বোনদের সাথে দাড়াতে এবং চার বোনের একটি সুন্দর ছবি তুললেন। সেখান থেকেই এই ইতিহাসের যাত্রা শুরু।

পরবর্তীতে ফটোগ্রাফার নিকোলাস ছবিটি তার স্ত্রী ও শ্যালিকাদের দেখান। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করলেন প্রতিবছর সবাই এ ভাবে একটি করে ছবি তুলতে পারবে কিনা?

সবাই রাজি হয় এবং প্রতিজ্ঞা করেন, তারা যেখানেই থাকুন না কেন প্রতিবছর একদিন সবাই একএে হয়ে ছবি তুলবে। ফটোগ্রাফার নিকোলাস একই ফ্রেমে, একই রকম ছবি বছরের পর বছর তুলতে থাকেন।

এই ছবি গুলো শুধু ছবিই নয়। এক একটি ছবি একটি বছরের স্মৃতিকে চিত্রিত করে। ৪০ বছরে আগে আমেরিকার মহিলাদের পোশাক, ফ্যাশান, জীবন যাএার প্রতিচ্ছবি।

যখন ১৯৭৫ সালে থেকে এইভাবে ছবি তোলা শুরু করেন তখন নিকোলাস নিকসনের বয়স ছিল ২৭ বছর। তখন তার স্ত্রী বেবের বয়স ছিল ২৬, বোন- হিদার ২৪, মিমি ১৬, এবং লরি ২২।

১৯৭৬

এই ছবিটি ১৯৭৬ সালে তোলা হয়। আপনি দেখতে পাচ্ছেন ছবিটি দুর্দান্ত এবং পেশাদার হয়েছে।

ফটোগ্রাফার নিকসন, তার স্ত্রী এবং স্ত্রীর বোনেরা ছবিটি পছন্দ করেছিলেন।

শুধু তাই নয় বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিকতার জন্য তারা একই ফিল্টার এবং ছবি তোলার ধরন একই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

১৯৭৭

দুই বছর কেটে গেল। বোনেরা আবার সবাই একসাথে। এই ছবি ম্যাসাচুসেটসের হার্ভার্ডে তোলা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন বা দুই জন হার্ভার্ডের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে সঠিক কয়জন হার্ভার্ডের শিক্ষার্থী এই বিষয়টি পরিস্কার না।

৭০ এর মাঝামাঝি দশকে ফ্যাশানের যে পরিবর্তন হয়েছিল তারই প্রমান এই ছবি।

বেবে ও তার বোনেরা স্টাইলেও খুব মিল রেখেছিল।

১৯৭৮

এই ছবিটি ১৯৭৮ সালে তোলা। ম্যাসাচুসেটস এর হার্ভিচ বন্দরে গ্রীষ্ম ছুটি কাটাতে দিয়ে এই ছবিটি নিকোলাস নিকসন ক্যামেরা বন্ধি করেন।

তাদের আর্থিক অবস্থা ভাল থাকায় হার্ভিচ বন্দরে গ্রীষ্ম ছুটি কাটাতে পেরেছিলেন।  কেননা সেই সময়ে ম্যাসাচুসেটস এর হার্ভিচ বন্দরে থাকা ও ছুটি কাটানো যথেষ্ট টাকার দরকার ছিল।

১৯৭৯

আমরা এখন ৫ম বছরে পদার্পণ করেছি। আমরা এখন প্রথম ছবি থেকে বোনদের মধ্যে একটি সত্য পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি।

তারা সবাই এখন পূর্ণ বয়স্ক হয়ে উঠছে। বাকি ছবিগুলি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন কেননা চেহারার রূপান্তর দেখে আপনি অবাক হবেন।

একটা বিষয় খেয়াল করেছেন? তাদের পোশাক যথেষ্ট মডান ও রুচীশীল ছিল।

১৯৮০

এই ছবিটি ১৯৮০ সালে তোলা। চার বোন ইস্ট গ্রিনিচ, রোড আইল্যান্ডে এই বছর ছবির জন্য একত্রিত হয়েছিল।

পূর্ব গ্রিনউইচ বেড়ানোর জন্য খুব উপযোগী ছিল। ১৯৮০ সালে গ্রীষ্মকালীন সময়ে এই ছবি তোলা।

এই ছবি তাদের ক্রমবর্ধমান বন্ধন, এমনকি সুখ ও হাসির ইঙ্গিত দেখায়!

১৯৮১

১৯৮১ সালের তোলা এই ছবিও গ্রীষ্মকালীন সময়ে ইঙ্গিত দেয়। এই ছবিটি বোনদেরকে মুক্ত আত্মা হিসাবে চিত্রিত করেছে ফটোগ্রাফার নিকোলাস নিকসন।

সবাই ক্যামেরার দিকে মুখ করে তাকানো। ৭ বছর কেটে গেলেও তাদের ছবি তোলার ধরন পরিবর্তন হয়নি।

১৯৮২

গ্রীষ্মের তত্ত্বের কিছুটা অবসান হলো। অষ্টম বছরে আপনাকে স্বাগতম। এই ছবিটি ১৯৮২ সালের শীতকালে তোলা।

ফটোগ্রাফার নিকোলাস তার স্ত্রী বেবে ও বেবে’র বোনদের ছবি তোলা চালিয়ে যেতে থাকেন। নিকোলাস প্রকল্পটি সম্পূর্ণরূপে পেশাদার রাখতে চেয়েছিলেন।

এই চার বোনের ছবিতে বাইরের কেউ ছিল না। যেমনটি ফটোগ্রাফার নিকোলাস চেয়েছিলেন।

১৯৮৩

গ্রীষ্মে আবার আপনাকে ওয়েলকাম। ১৯৭৫ সালের ছবি থেকে এই ছবিতে বেশ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

এটি সর্বজনবিদিত ছিল যে নিকোলাস নিক্সন ও তার স্ত্রী বেবের দুটি সন্তান ছিল।

তবে অন্য বোনদের ব্যাক্তিগন জীবন সম্পর্কে তেমন কোন বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের স্বামী ও সন্তান সম্পর্কে তেমন তথ্য আমাদের জানা নেই।

১৯৮৪

এই ছবিটি ১৯৮২ শীতকালের ছবির মতো একই স্থানে তোলা হয়েছিল।

৪০টি ছবিতে ফটোগ্রাফার নিকোলাস নিকসন না থাকলেও ১৯৮৪ সালের তোলা এই ছবিতে রয়েছে তার ছায়া।

আমরা নিশ্চিত নই যে কোন ভাবে ছবিতে অংশ হওয়ার জন্য এটি কোনও শৈল্পিক পছন্দ ছিল কিনা। তবে যাই হোক তার ছায়া যুক্ত ছবিটি অন্য মাত্রা যুক্ত করেছে।

১৯৮৫

আমরা ১০ বছর পার করে ফেলেছি। ১৯৭৫ সালে সব থেকে ছোট বোন মিমির বয়স ছিল ১৬। এখন তার বয়স ২৬।

এই দশ বছরে বোনেরা আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং স্টাইলিশ মনে হচ্ছে।

তারা এখনও আগের মত সুন্দর রয়েছে। সুতরাং যাঁরা দ্রুত বার্ধক্য সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, কেবল এই ফটোগুলি একবার দেখুন, পার্থক্য এতটা নয় যেটি আপনি দশ বছর পরে ভাবেন!

১৯৮৬

রঙিন ফিল্ম ইতিমধ্যে বাজারে চলে আসলেও ফটোগ্রাফার নিকোলাস নিকসন সাদা কালো ছবি তুলে যাচ্ছিলেন। যা এই ছবির সিরিজকে আরো প্রানবন্ধ করেছে।

কালো এবং সাদা ফিল্টার সবসময় ছবিকে আরও বিশেষ ও সুন্দর করে তোলে।

প্রতি বছরের সঙ্গে প্রতিটি ছবিতে পরিবর্তন দেখার জন্য আরও আগ্রহী করে তুলেছিল।

৪ বোনেরা প্রথমবারের মতো কিছুটা গম্ভীর মুখের চেয়ে অন্যরকম করেছিলেন। তাদের প্রত্যেকের হাসির ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে তারা আত্নবিশ্বাসী মুডে ছিলেন। ফটোগ্রাফার নিক্সন সম্ভবত একটি হাসি উৎসাহ দিয়েছিলেন।

১৯৮৭

১৯৭৫ থেকে ৪ বোন প্রতি বছর একটি করে ছবি তুলে আসছে এবং যা ২০১৪ সাল পর্যন্ত আপনি দেখবেন।

এই ছবিতে বোনদের বয়স হয়েছে তা প্রতিয়মান হচ্ছে। মুখের অভিব্যক্তি, হালকা হাসি ও বয়স বেড়ে যাচ্ছে।

১৯৮৮

কোন বিশেষ কিছু খেয়াল করছেন? হ্যাঁ! সব বোনদের মুখে হাঁসি।

একে অপরের সাথে লেগে আছে, মুখে হাঁসি। যেমনটি আগের ছবিগুলোতে ছিল না।

১৯৮৯

আরেকটি ছবি আর এক দশক চলে গেল। আগের ছবিতে হাঁসি থাকলেও এই ছবি যেন তার বিপরীত।

সময় যাওয়ার সাথে সাথে কে বড়, কে মেজ, কে সেজ বা কে ছোট তা ধরাটা কষ্টসাধ্য। আপনি আরো কয়েকটি ছবি দেখার পর আরো ভাল ভাবে বুজতে পারবেন।

১৯৯০

উপরের এই ছবিটি ১৯৯০ সালে তোলা। ভার্মন্টের উডস্টক শহরে এই ছবি তোলা হয়।

রঙ ছাড়াই আমরা বলতে পারি এটি একটি সুন্দর পড়ন্ত বিকেলের ছবি। ৪ বোনদের আমাদের চোখের সামনে বাড়তে দেখা এটি এক সুন্দর দৃশ্য।

১৯৯১

এই ছবিটি ১৯৯১ সালে ওয়াটারটাউন, ম্যাসাচুসেটস থেকে তুলেছে ফটোগ্রাফার নিকোলাস নিকসন।

এই ৪ বোন ৪০ বছর ধরে একসাথে ছবি তুলে আসছে।

১৯৯২

দেখে মনে হচ্ছে বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রত্যেকেই অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য পেয়েছে।

বছরের পর বছর ধরে মানুষের উত্থান-পতন হয়, আলাদা থাকে, কিন্তু এর বোনেরা আলাদা ছিল না।

১৯৯৩

এই ছবিটি শীতকালীন দুপুরে তোলা হয়। যে কারনে ছবিতে কালো এবং সাদা ফিল্টার খুব বেশি দূর দেয়নি।

১৯৯৪

মেকআপের অভাব প্রকট ছিল বিধায় ছবি গুলো দেখতে আরো ভাল লাগছে। তাদের স্টাইল যুক্ত পোশাকের কারনে আরো সুন্দর ও স্মার্ট লাগছে।

তবে মজার বিষয় এই যে, তারা কখনই ছবি তোলার জন্য আলাদা ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করত না।

১৯৯৫

বন্ধু বান্ধব আসে যায় পরিবার চিরকাল থেকে যায়। এই ছবিগুলো যেন তারই সঠিক উত্তর।

বিশ বছর কেটে গেল। এই ছবিতে বোনদের মধ্যে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক স্পষ্ট ছিল। হাতে হাত মিলিয়ে, হাসতে হাসতে এবং একে অপরের কাছাকাছি থেকে বছরের পর বছর ছবি তুলে গেছেন।

১৯৯৬

ছবিতে ফটোগ্রাফারের ছায়ার সাথে আরেকটি ছবি। এই মুহূর্তে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা চার বোন।

বছরটি ১৯৯৬ তাই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ৯০ এর দশকের মাঝামাঝি দশকও বলতে পারি।

১৯৯৭

বছরের পর বছর কেটে গেলও কেউ তাদের প্রতিশ্রুতি ভুলে নাই। বছরের একটি সময়ে এসে তারা চার জন্য এক সাথে ছবি তুলে যাচ্ছেন। এ যেন তাদের এক আত্মার বন্ধন।

একবার ফটোগ্রাফার নিকোলাস নিকসনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কেন আপনি শ্বশুর বাড়ীর মানুষকে নিয়ে এই সিরিজ করেছেন?

তার উত্তরে ফটোগ্রাফার বলেছিলেন, তার নিজের ভাই বা বোন নেই এবং শ্বশুর বাড়ীর মানুষকে সে ভাই-বোনের স্থান দিয়েছিল।

১৯৯৮

এই ছবিটি সমুদ্র সৈকতে তোলা। তবে এটি কোন সিজন ছিল তা বুজতে পারা যাচ্ছে না।

কেননা এক এক বোন এক এক ধরনের পোশাক পরিধান করেছিলেন।

তাদের চুল উড়ে যাচ্ছে এবং তাদের মুখের চেহারাটি বরাবরের মতোই ক্লাসিক!

নিকোলাস ব্রাউন বোনদের এই সিরিজ করেই শুধু বিখ্যাত হন। তিনি তার সাদা কালো ছবি তোলার জন্যও বিখ্যাত।

১৯৯৯

বড় বোনের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিস্ময়ের অনুভূতি এই ছবিতে দেখানো হয়েছে। বয়স যে থেমে নেই। অনেকগুলো বছর চলে গেল।

২০০০

একবিংশ শতাব্দীতে আপনাকে স্বাগতম। এই ছবিটি ২০০০ সালে তোলা।

এই ছবিতে একে অপরের প্রতি ভালবাসা ও বন্ধন কতটা বেশী তারই বহিঃপ্রকাশ।

সৈকতে শীতল আবহাওয়ায় ৪ বোনকে যেন আরো প্রাণবন্ত লাগছে।

সত্যি বলতে কি এ রকম ছবি দেখলে যে কারো মন অজান্তেই ভাল হয়ে যায়।

২০০১

২০০১ সালে শরৎ কালে তোলা এই ছবি। তারা এমন একটি অবস্থান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন যা নীরবতার অনুরূপ।

এই বোনদের গম্ভীর চেহারা স্বাভাবিক হলেও টুইন টাওয়ার এবং পেন্টাগনের আক্রমন নিয়ে তারা যেন চিন্তিত।

২০০২

এখানে আমরা এই ৪ বোনদের মধ্যে হঠাৎ পার্থক্যটিও দেখতে পারি – তাদের উচ্চতা, স্টাইল এবং বয়স।

ভাবা যায় ১৯৭৫ সাল থেকে একএে তারা ছবি তুলে যাচ্ছেন। নিজেদের মধ্যে কতটা মিল থাকলে এমনটা সম্ভব!

২০০৩

এই বোনরা অবশ্যই সাগরের উপকূলকে ভালবাসে। বছরগুলি যেতে থাকে। হিদারকে এই ছবিতে দেখা গেছে মিমির মাথায় আলতো করে হাত রাখতে।

বিপরীতে বাকি বোনদের এই ছবিতে একটু অস্বস্তি দেখাচ্ছে যেন কোনও কিছু তাদের প্রভাবিত করছে।

২০০৪

নতুন কিছু লক্ষ করছেন? এক বোন অন্য দিকে তাকিয়ে আছে। যেমনি আগের কোন ছবিতে ছিল না।

আবার এক বোনের চুল অনেক ছোট করে কাটা। এ যেন এক একটি ছবি এক একটি থেকে আলাদা।

এই ব্রাউন বোনেরা সময়ের সাথে চলছিল এবং একবিংশ শতাব্দীর মধ্যে আসা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই অবধি কোন বোন এখনও কোন প্রযুক্তি বা নতুন গ্যাজেটে আগ্রহ দেখায় নি।

২০০৫

ভাবা যায় ত্রিশ বছর কেটে গেছে। প্রথম ছবি তোলার ত্রিশ বছর হয়ে গেছে।

তাদের পিছনে দৃশ্য একবারেই আলাদা। তারা সমুদ্র সৈকতে বা কোন রুমে ন য়। তারা কোন হ্রদ বা জলাশয়ের পাশে দাড়ানো।

ত্রিশতম বছরের ছবির জন্য একটি নতুন এবং বিশেষ অবস্থান হতে পারে।

২০০৬

এই ছবিতে ৪ বোনদের স্টাইল স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। যদিও একজন দূরে তাকিয়ে আছে এবং বাকীরা তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

এই ছবিতে বোনরা তাদের বয়সকে অল্প অল্প করে দেখিয়ে দিচ্ছে।

তারা সাধারনত দাঁড়িয়ে বেশী ছবি তুললেও এই ছবিতে তারা বসে আছেন। এই ছবিগুলোতে শুধু যে পরিবর্তনগুলি আমরা দেখতে পাচ্ছি তা কেবল বোনদের পরিবর্তনই নয়, আশেপাশের অবস্থানের পরিবর্তনও বটে।

২০০৭

এই ছবিতে বয়সের চাপ বোঝা যাচ্ছে।

চার ভাই আবার সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন, তারা সকলকেই স্বাচ্ছন্দ্য এবং প্রফুল্ল মনে হচ্ছে।

বলতে দ্বিধা নেই যে সাদা কালো ছবির দক্ষতা কতটা বেশী।

২০০৮

এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো বাইরের দৃশ্যের চিত্র আনা হয়েছে এই ছবিতে। এই ছবিটি টেক্সাসের ডালাসে তোলা হয়।

মিমিকে এই ছবিতে বেবের পিছনে লুকাতে দেখা যায়। মিমির চেহারা সম্ভবত তার বোনদের চেয়ে বেশি পরিবর্তিত হয়েছিল। কারন যখন ১৯৭৫ সালে প্রথম ছবি তোলা শুরু হয় তখন মিমের বয়স ছিল মাএ ১৬।

২০০৯

এই ছবিটি ২০০৯ সালে তোলা হয় তাদের পরিচিত ম্যাসাচুসেটসে। ফটোগ্রাফার সাধারন পজিশনে তাদের এর ছবি তুলেন।

এই ৪ বোন যত বেশি বড় হয় ততই তারা একে অপরের মতো দেখতে লাগে।

এই ছবি তাদের তুলনায় বেশি বয়স্ক দেখায়। বয়স এবং চেহারা মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে এবং এই ৪ ব্রাউন বোনেরা তার ব্যতিক্রম নয়।

২০১০

বেশিরভাগ ছবিতে হিথার, মিমি এবং বেবে একই মুখের ভাব প্রকাশ করেছেন।  অন্যদিকে লরি তার ধারাবাহিকভাবে একাই ছিলেন।

বছরের পর বছর লরি ক্ষোভ, দুঃখ বা স্ট্রেসের একটি অভিব্যক্তি দিয়ে গেছে।

এই বছর চোখ বন্ধ লরিকে দেখে মনে হয়েছে যেন সে আগের থেকে ভাল অবস্থায় আছে। সম্ভবত তিনি নিজের মধ্যে শান্তি পেয়েছিলেন।

সব থেকে বড় কথা পোশাক, চুল, পটভূমি সবই বদলে যায় কিন্তু বোনেরা এক সাথেই থাকে।

২০১১

এই ৪ চার বোন তাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছে। সেই ১৯৭৫ সাল থেকে তারা এক সাথে ছবি তুলে যাচ্ছেন।

৪ বোনেরা প্রতিটি ছবিতে কাছাকাছি ছবি তোলার সময় এমন কিছু উদাহরণ ছিল যেখানে কারো কাছে অন্যের চেয়ে গভীর সম্পর্ক এবং বন্ধন রয়েছে বলে মনে হয়।

যেমন এই ছবিটি দেখায় যে হিদার এবং মিমির মনোযোগ অন্য কোথাও রয়েছে এবং তারা দূরত্বে তাকিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে বড় দুই বোন বেবে এবং লরি আগের চেয়ে আরও কাছাকাছি আছেন বলে মনে হচ্ছে। তাদের মাথা একত্রিত আছে এবং একে অপরের চারপাশে শৌখিনতার সাথে তাকাচ্ছে।

২০১২

আমরা ইতিপূর্বে যত ছবি দেখেছি এই রকম ছবি আর দেখি নাই।

চার বোন একে অপরকে জড়িয়ে রেখেছে। কতই না সুন্দর দৃশ!

২০১৩

সব ছবির ন্যায় এই ছবি ২০১৩ সালে ফটোগ্রাফার নিকোলাস নিকসন তুলেছেন।

এই ছবিতে চার বোনের বয়স অবশ্যই দেখতে পাচ্ছেন, তবে তাদের চোখে সবসময় তারুণ্যের ঝলক রয়েছে।

তাদের দেখে মনে হচ্ছে  চেহারার মাধ্যমে কোনও বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে আমাদেরকে। তারা আমাদের কী বলবে?

২০১৪

ভালবাসা, অন্তরঙ্গ এবং প্রেমময় বন্ধনে পূর্ণ এই ছবিটি।

দীর্ঘ ৪০টি বছর কেটে গেছে। ফটোগ্রাফার নিকোলাস নিকসন এবং চার বোন হিদার, মিমি, বেবে, লরি সবাই জানতেন যে এই প্রকল্পটি শেষ হতে হবে।

তাদের এই ৪০টি ছবি দেখে মনে হচ্ছে তারা আমাদের নিজের পরিবারের অংশ, বা সম্ভবত আমরা তাদের অংশ।

অন্যদের জন্যও এই জাতীয় ঐতিহ্য অনুপ্রেরণা হতে পারে! তাই আর্টিকেলটি শেয়ার করতে ভুলবেন না।