১৩টি লাভজনক পার্ট টাইম বা সাইড ব্যবসার ধারনা

লাভজনক পার্ট টাইম বা সাইড ব্যবসার ধারনা

লাভজনক পার্ট টাইম বা সাইড ব্যবসার ধারনা Side Business Ideas

লাভজনক পার্ট টাইম বা সাইড ব্যবসার ধারনা Side Business Ideas

সাইড ব্যবসার ধারনা খুঁজছেন? বাড়তি আয়ের জন্য সাইড ব্যবসা বা পার্ট টাইম ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। ফুল টাইম বা স্বাভাবিক ব্যবসার মত পার্ট টাইম বা সাইড ব্যবসা শুরু করতেও অর্থ, সময় ও শ্রম দিতে হয়। তবে এর চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ ইচ্ছাশক্তি। আপনার যদি পার্ট টাইম বা সাইড ব্যবসা শুরু করার প্রবল ইচ্ছাশক্তি না থাকে তবে ভাল বিজনেস আইডিয়া থাকা স্বত্বেও কিছুই করা যাবে না।

 

পার্ট টাইম বা সাইড ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে কিছু বিষয় নিশ্চিত হতে হবে।

  • আপনি যেই কাজ এখন করছেন এর পরে বেশ কিছু ঘন্টা আপনি ফ্রী থাকেন।
  • যেই ব্যবসাটি করতে চাচ্ছেন তার প্রতি আপনার পরিবারের সাপোর্ট আছে ও এই ব্যবসাটি চালিয়ে নেওয়ার মত আপনাকে কাছে বাড়তি মূলধন আছে।
  • সাইড ব্যবসাটি শুরু করলে আপনি এখন যেই কাজ করছেন তার উপর কোন প্রভাব পরবে না।
  • এছাড়া ব্যবসাটি শুরু করতে গিয়ে যদি ব্যর্থ হন তবে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরবেন না।

এই শর্তগুলো পূরণ হলে আপনি নির্দ্বিধায় একটি সাইড ব্যবসা শুরু করতেই পারেন।

পার্ট টাইম বা সাইড ব্যবসার জন্য লাভজনক বিজনেস আইডিয়া

#১। অনলাইন ব্লগ – সাইড ব্যবসার ধারনা

অনলাইন ব্লগ

অনলাইন ব্লগ

একটি অনলাইন ব্লগ আয়ের অন্যতম সেরা একটি উৎস হতে পারে। অনেক আগে এটি সখের বিষয় থাকলেও বর্তমানে টাকা আয়ের ভাল একটি মাধ্যম। অনলাইন ব্লগ বা ওয়েবসাইট এর মূল ভিত্তি হলো পাঠক। আপনার ওয়েবসাইটটি যত বেশী জনপ্রিয় হবে ততই টাকা আয়ের মাধ্যমও বেড়ে যাবে।

ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনতে না পারলে সেই ওয়েবসাইটের কোন দাম নেই।  ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার দুইটি পথ আছে যেমন Search Engine ব্যবহার করে এবং আরেকটি পথ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে।

একটি অনলাইন ব্লগ থেকে অনেক ভাবে টাকা আয় করা যায়। এর মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য গুগল অ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন, গুগল অ্যাডসেন্স ছাড়া আরো অনেক মাধ্যমও ব্যবহার করা যায় তবে অ্যাডসেন্সই বেশী জনপ্রিয়। এর পরে রয়েছে এফিলিয়েট মার্কেটিং, সরাসরি স্পন্সর বিজ্ঞাপন, নিজের পণ্য বিক্রি সহ নানা মাধ্যম।

এখানে একটি কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বাংলা ব্লগের চেয়ে একটি ইংলিশ ব্লগ থেকে ইনকাম অনেক বেশী করা যায়, তবে বাংলা ব্লগে প্রতিযোগিতা তুলনামূলক এখনও অনেক কম। 

#২। ইউটিউব চ্যানেল

ইউটিউব চ্যানেল

ইউটিউব চ্যানেল সাইড ব্যবসার ধারনা

ইউটিউব সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। বাংলাদেশে গুগলের পরেই যেই ওয়েবসাইট বেশী ভিজিটর ভিজিট করে সেটি ইউটিউব। ইউটিউব থেকে টাকা আয় করা তুলনামূলক সহজ, তবে আপনাকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

যেমন, আপনার চ্যানেলে ১০০০ Subscribers ও ৪ হাজার ঘন্টা watch time লাগবে। এর পরে অন্যের কোন ভিডিও কপি করা যাবে না, এবং কোন অশ্লীল এবং সমাজের জন্য যেই বিষয় খারাপ সেই রকম ভিডিও আপলোড করা যাবে না।

ইউটিউব থেকেও নানা ভাবে ইনকাম করা যায়। প্রথম মাধ্যমটি বিজ্ঞাপন যা সরাসরি ইউটিউব আপনার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন চালাবে এবং বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত টাকা আপনার সাথে YouTube ভাগাভাগি করে নিবে।

এর পরে মাধ্যম আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর লিঙ্ক YouTube Description এ দিতে পারবেন, এছাড়া নিজের ওয়েবসাইটে ভিজিটর পেতে YouTube Description এ লিঙ্ক শেয়ার করতে পারবেন। তাছাড়া কোন প্রডাক্ট রিভিউ করেও টাকা আয় করা যায়। তবে এই জন্য আপনার চ্যানেলটি জনপ্রিয় হতে হবে।

 

#৩। আর্টিকেল রাইটার

আর্টিকেল রাইটার হতে চাইলে আপনাকে সর্ব প্রথম SEO বা Search Engine Optimization শিখতে হবে। খালি চোখে এই পেশা অনেক সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবিক অর্থে আপনাকে যথেষ্ট সময় বিনিয়োগ করতে হবে।

আপনার হাতে যদি প্রতিদিন ৩/৪ ঘণ্টা সময় থাকে তবে পার্ট টাইম বা সাইড ব্যবসা হিসাবে আর্টিকেল রাইটার হিসাবে কাজ করতে পারেন। একজন আর্টিকেল রাইটার সাধারনত চুক্তি ভিত্তিতে কাজ করে। প্রতি শব্দের জন্য পে করা হয়।

আপনার প্রফাইল ও লেখার মানের উপর নির্ভর করবে আপনি কত টাকা আয় করতে পারবেন। সাধারনত প্রতি শব্দের জন্য ১৫ পয়সা থেকে শুরু করে ১ টাকার বেশী পে করা হয়। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ফেসবুকের গ্রুপে সংযুক্ত করে লোকাল কাজ করতে পারবেন।

#৪। অনলাইন শপ – সাইড ব্যবসার ধারনা

সাইড ব্যবসা বা পার্ট টাইম ব্যবসা হিসাবে আপনি চাইলে অনলাইন শপ খুলতে পারেন। এর জন্য আপনার উচিত হবে নিদিষ্ট কোন পণ্য বিক্রি করা। অর্থাৎ অনেক পণ্যে ফোকাস না করে ২/৩টি প্যনে ফোকাস করা।

যেমন, আপনি শুধু শাড়ী বিক্রি করতে পারে, বা শুধু মাএ শার্ট বিক্রি করতে পারেন অথবা শুধু মাএ ছেলেদের পোশাক বিক্রি করতে পারেন। এতে আপনি খুব সহজেই আপনার পণ্যের প্রচার চালাতে পারবেন।

যেহেতু আপনি পার্ট টাইম ব্যবসা হিসাবে অনলাইন শপ খুলতে চাচ্ছেন তাই অধিক পণ্যের চেয়ে কম পন্যে ফোকাস করা উচিত হবে। এতে অল্প সময়ে অধিক কার্যকারী ফল আসবে।

#৫। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ

সাইড ব্যবসার ধারনা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ

বর্তমানে সাইড ব্যবসা হিসাবে অনেকেই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছে। শেয়ার বাজার নাম শুনলেই আমাদের মধ্যে অনেকই ভয় পাই, যা আসলে আমাদের সম্ভবনাকে শেষ করে দেয়। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ অন্য যে কোন বিনিয়োগের চেয়ে বেশী লাভজনক তবে রিস্কও বেশী।

আপনাকে শেয়ার বাজারের কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন, সব টাকা দিয়ে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা যাবে না। অলস টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে হবে।

অতি লোভ ও অতি ভয় পরিহার করতে হবে। অন্যের কথায় বাই সেল করা যাবে না, ঝুঁকি পূর্ণ শেয়ার এড়িয়ে যেতে হবে, এবং দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগ করতে  হবে। আরোও পড়ুন – যে ৪ কারনে শেয়ার বাজারে ভরাডুবি হতে পারে

 

#৬। ইন্সুরেন্স এজেন্ট

ইন্সুরেন্স এজেন্ট

Side business হিসাবে Insurance Agent

ইন্সুরেন্স এজেন্ট মূলত কোম্পানি ও গ্রাহকের মধ্যে একটি সম্পর্ক করিয়ে দেয়। পার্ট টাইম ব্যবসা হিসাবে একটি জনপ্রিয় পেশার নাম ইন্সুরেন্স এজেন্ট।

ইন্সুরেন্স এজেন্টের অন্য নাম Financial Associate. অনেকেই ইন্সুরেন্স বিক্রিকে চাকরির সাথে মিলিয়ে ফেলে, আসলে এটি একটি ব্যবসা। আপনি যত বেশী ইন্সুরেন্স বিক্রি করতে পারবেন তত বেশী কমিশন পাবেন।

এই পেশার সব চেয়ে বড় সুবিধা দীর্ঘ মেয়াদে সুফল পাওয়া যায়। যেমন ধরুন, আজকে আপনি একটি ১৮ বছরের মেয়াদের একটি বীমা বিক্রি করলেন। এর ফল আপনি ১৮ বছর পর্যন্ত পাবেন। অর্থাৎ গ্রাহক কোম্পানিকে টাকা দিবে এবং সেই টাকা থেকে আপনি কমিশন পাবেন।

আপনার যত বেশী গ্রাহক থাকবে আপনার কমিশন ততই বেশী বাড়তে থাকবে। তবে এই ক্ষেএে আপনাকে অবশ্যই ভাল কোম্পানিতে কাজ করতে হবে।

 

#৭। সোসাল মিডিয়া ম্যানেজার

বাহিরের দেশে সোসাল মিডিয়া ম্যানেজারের চাহিদা অনেক বেশী আছে যেখানে  আমাদের দেশে তুলনামূলক এর চাহিদা বেশ কম। তবে আশার কথা হচ্ছে আমাদের দেশে এই চাহিদা বেশ বাড়ছে।

আপনি যদি নিজেকে একজন  সোসাল মিডিয়া এক্সপার্ট মনে করেন তবে কিছু প্যাকেজ সাজিয়ে সোসাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসাবে কাজ করতে পারেন।

এর জন্য আপনার নিজের ভাল মানের একটি ওয়েবসাইট এবং সকল সোসাল মিডিয়াতে বেশ একটিভ থাকতে হবে।

 

#৮। কাপড়ের দোকান

পার্ট টাইম বা সাইড ব্যবসা হিসাবে কাপড়ের দোকনা দেওয়া যেতে পারে। তবে এর জন্য আপনাকে পার্টনারশীপে কাজ করতে হবে।

ধরুন আপনি তিন বন্ধু মিলে একটি দোকান দিলেন এবং তিনজন তিন শিফটে কাজ করলেন। অথবা বিশস্ত কর্মচারী নিয়োগ করে এই ব্যবসা করা যেতে পারে। জেনে রাখরে পারেন – কিভাবে দোকানের নাম নির্বাচন করবেন

 

#৯। বিবাহের জামা কাপড় ভাড়া

আরেকটি পার্ট টাইম বা সাইড ব্যবসার অন্যতম উদাহরন হতে পারে এই ব্যবসাটি। ছেলেদের শেরওয়ানি থেকে শুরু করে মেয়েদের বিবাহের শাড়ি সাধারনত একবার মানুষ পরে। আপনি চাইলে ভাল ডিজাইনের শেরওয়ানি ও শাড়ি ভাড়া দিতে পারেন। এর জন্য আপনি ফেসবুকে পেইজ খুলতে পারেন এবং প্রচার প্রচারনা করতে পারেন।

 

#১০। পুরাতন পণ্য কেনা বেচা

সাইড ব্যবসা হিসাবে পুরাতন পণ্য কেনা বেচা ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। সাধারনত ইলেকট্রনিক পণ্য, বই, বাই-সাইকেল এই ব্যবসার জন্য সেরা পন্য। আপনি চাইলে একটি ঘরে বসেই এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন, এছাড়া এই ব্যবসায় মূলধনও কম লাগে।

 

#১১। কৃত্রিম ফুল ভাড়া ব্যবসা

আমাদের দেশের পেক্ষাপটে এটি একটি লাভজনক ব্যবসা ক্ষেএ। সাধারনত যে কোন অনুষ্ঠান সাজাতে ফুল লাগে এবং কৃত্রিম ফুলের বেশ ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

 

#১২। হাঁস ও মাছের চাষ

একই পুকুরে এক সাথে হাঁস ও মাছের চাষ করা যেতে পারে। এতে খরচ অনেকটা কমে যায়। বিশেষভাবে ইন্ডিয়ান রানার ও খাকী ক্যাম্বেলের চাষ করা যেতে পারে। সাইড ব্যবসা হিসাবে হাঁস ও মাছ চাষ একসাথে করা যেতে পারে, কেননা এই ব্যবসায় অন্যকে খুব সহজেই কাজে লাগানো যায়।

 

#১৩। রিস্কা ও সি এন জি ভাড়া

ভাড়া দিয়ে আয় করা যায় এমন একটি লাভজনক ব্যবসা রিস্কা ও সি এন জি ভাড়া। এর জন্য আপনাকে একবারে বেশ কিছু টাকা বিনিয়োগ করতে হবে এবং দক্ষ লোক নিয়োগ দিয়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। কে এম চিশতি সিয়াম – ইউটিউব লিঙ্ক