সফল উদ্যোক্তারা যে ৭টি ভুল পুনরায় করেন না

সফল উদ্যোক্তারা যে ৭টি ভুল পুনরায় করেন না

সফল উদ্যোক্তারা যে ৭টি ভুল পুনরায় করেন না

সফল উদ্যোক্তারা যে ৭টি ভুল পুনরায় করেন না

চ্যালেঞ্জ বা বিপর্যয়ের মুখোমুখি না হলে কেউ সফল হতে পারে না। বার বার ব্যর্থ হয়েই শেষ পর্যন্ত সফল হতে হয়। একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ার জন্য যেমন কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয় ঠিক তেমনি কিছু ভুল করা থেকেও সতর্ক থাকতে হয়। যদি এই ভুল গুলো থেকে দূরে থাকা যায় তাহলেই ব্যবসায় সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়। সফল উদ্যোক্তারা অতীতে যে ভুল করে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সে ভুল গুলো পুনরায় করতে চান না তা এখানে আলোচনা করা হলো।

পর্যাপ্ত পরীক্ষা না করা

যে কোনো ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই সে ব্যবসাটি সম্পর্কে আপনাকে বিস্তারিত জানতে হবে। ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় কারণ পর্যাপ্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা না করা। তবে এক্ষেত্রে কখনো কখনো আপনার অনুভূতি আপনাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। পরীক্ষিত ব্যবসায়িক ধারণা গুলোই খুব দ্রুত সফল অর্জন করতে পারে।

নিজেকে যোগ্য মনে না করা

যে ব্যবসাটি শুরু করতে চাচ্ছেন সে ব্যবসার জন্য নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলতে হবে। আপনার নিজেকে সে ব্যবসাটির জন্য যোগ্য মনে করতে হবে। মানুষের সফলতার জন্য নিজের আতœবিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে কোন কাজের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করে আতœবিশ^াসের সাথে এগিয়ে যেতে হবে।

অত্যধিক নির্ভরশীল হওয়া

নিজের কাজটি নিজে করার অভ্যাস করতে হবে। তাহলে অন্যের উপর নির্ভরশীলতা কমে যাবে। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে হয় কিন্তু তারপর সে কাজটি নিজে শিখে রাখলে আরেকজনের উপর নির্ভরশীলতা থাকবে না। কারন অনেক সময় অন্যের প্রতি বেশি নির্ভরশীল থাকলে তারা সুযোগ গ্রহন করে থাকে। অর্থাৎ ব্যবসায় যাতে লাভ না হয় সে চেষ্টা করতে পারে তাই যত দ্রুত সম্ভব কাজটি নিজে শিখে তা কর্ম ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে নিজের কর্মীদের কিছু কাজ শিখাতে হবে যাতে করে পরবর্তীতে কাজ গুলো কর্মীদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা যায়।

ব্যর্থ হওয়ার ভয়

প্রথম অবস্থায় ব্যবসা শুরু করার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই অনেকে ভয় পেয়ে পিছিয়ে যেতে পারে। কিন্তু পিছিয়ে না যেয়ে কাজটি সাহসিকতার সাথে করতে হবে এবং সফল হওয়ার পদ্ধতি গুলো অনুসরন করতে হবে। এক্ষেত্রে সফল হওয়ার পদ্ধতি গুলো মেনে চলার ক্ষেত্রে অনেক সময় বাঁধার সম্মুখীন হতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে অবশ্যই নিজেকে ধৈর্য্যশীল হতে হবে। ধৈর্য ধারন করে সঠিকভাবে কাজ করলেই ব্যবসায় সফল হতে পারবেন।

কৌশলী না হওয়া

আপনাকে ব্যবসা পরিচালনা করার যে কৌশল গুলো আছে সে কৌশল গুলো আয়ত্ত করতে হবে। যাতে করে সেই পদ্ধতিগুলো ব্যবসায় সফল হতে কাজে লাগে। কৌশলগত পরিকল্পনাই আপনার ব্যবসাটিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছেঁ দিতে পারে।

নিজেকে বিশ্বাস না করা

আপনার নিজের উপর অবশ্যই বিশ্বাস থাকতে হবে। কারন আতœবিশ্বাসই পারে একজন মানুষকে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। কিন্তু আত্ববিশ্বাসের সাথে সাথে অবশ্যই প্রবল ইচ্ছাশক্তিও থাকতে হবে। তাহলেই কাজ করার আগ্রহ বাড়বে এবং সফল হতে পারবেন।

সঠিক অনুমান করতে না পারা

ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাকে দূরদর্শী হতে হবে। আপনার পূর্বে অনুমান করার ক্ষমতা থাকতে হবে। যাতে করে সে বুঝতে পারেন ব্যবসা পরিচালনার জন্য কতজন কর্মী প্রয়োজন, কি কি জিনিস কতটুকু প্রয়োজন, কোন কোন পণ্যের জন্য ব্যবসার প্রসারতা বৃদ্ধি পেতে পারে ইত্যাদি। এছাড়াও পরিকল্পনা মাফিক আগানোর পর তাতে ব্যর্থ হলে কতটুকু ক্ষতি হতে পারে এবং লাভবান হলে কি পরিমান লাভ হবে সে সম্পর্কেও অনুমান করার দক্ষতা থাকতে হবে। পাশাপাশি সেই লাভের অর্থ দিয়ে পরবর্তীতে ব্যবসাটি কতখানি বৃদ্ধি করা যেতে পারে তাও সঠিক ভাবে অনুমান করতে হবে। আর এই অনুমান গুলো করার জন্য আপনাকে অবশ্যই দক্ষ ও অভিজ্ঞ হতে হবে।

ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তদুপরি কিছু বিষয়ে কখনোই ছাড় দেয়া উচিৎ না। আশা করছি উপরের বিষয় গুলো লক্ষ্য রাখলে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে আপনিও নিজেকে পরিচিত করে তুলতে পারবেন।