শেয়ার বাজার নিয়ে বেসিক ১৮টি প্রশ্ন ও উত্তর । Share Market Basics for Beginners

Share Market Basics for Beginners

Share Market Basics for Beginners

আমরা যে যেই কাজ করি না কেন তা শুরু হওয়ার আগে সবাই ঐ কাজে নতুন থাকি। জন্ম থেকেই কেউ কোন কাজে দক্ষ হয়েই পৃথিবীতে আসে না। ধৈর্য, সময় এবং জানার আগ্রহ থাকলে কোন কাজই আমাদের জন্য আর কঠিন থাকে না।

ঠিক তেমনি আমরা যারা শেয়ার বাজারে নতুন বিনিয়োগ করতে চাই তাদের অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরী। আপনাদের সময়কে মূল্য দিয়ে কোন প্রকার ভনীতা না করে মূল পর্বে চলে যাই।

প্রশ্ন নাম্বার #১। শেয়ার বাজারে কারা বিনিয়োগ করতে পারে?

যারা সৎ, বুদ্ধিমান এবং সাহসী তাদের জন্য শেয়ার মার্কেট। তবে শেয়ার বাজার বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জন্য খোলা। যে কেউ চাইলে বিও অ্যাকাউন্ট খুলে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারে।

#২। বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে কত টাকা এবং কি কি কাগজ লাগে?

সাধারনত বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে ৪৫০ টাকা লাগে, বিও অ্যাকাউন্ট ব্রোকার হাউস খুলে দেয়। বিও অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য যা যা দরকার তা হলো আপনার চার কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, আপনার এইআইডি অথবা পাসপোর্ট কপি, আপনার নমীনির এনআইডি কপি ও পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি এবং আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকের ফটোকপি অথবা টাকা জমা দেওয়ার স্লিপ লাগবে।

বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে সাধারনত ২ কার্যদিবস সময় লাগে। এছাড়া প্রতি বছর জুন মাসে ৪৫০ টাকা CDBL কে চাজ দিতে হয়, এই CDBL আপনার অ্যাকাউন্ট দেখভাল করবে, এবং শেয়ার বেচা/কেনার পরে মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে আপনাকে জানাবে। তাহলে একটি বিষয় পরিস্কার যে, শেয়ার বাজারে অ্যাকাউন্ট পারপাস আপনার ৪৫০ টাকা লাগবে।

#৩। কিভাবে ভালো ব্রোকার হাউস খুঁজে পাবেন?

ব্রোকার হাউস অনেকটা ব্যাংকের মত। ব্যাংক যেমন টাকা পয়সা লেনদেন করে ঠিক তেমনি ব্রোকার হাউস শেয়ার লেনদেন করে। এর বিনিময়ে তারা একটি কমিশন নিয়ে থাকে।

হাউস ভেদে এই কমিশন ৩৫ পয়সা থেকে ৬৫ পয়সা হতে পারে। এর কমিশন মানে হচ্ছে আপনি যদি ১০০ টাকার শেয়ার কিনেন তবে ব্রোকার হাউস আপনার থেকে ৩৫ পয়সা থেকে ৬৫ পয়সা পর্যন্ত কমিশন কাটবে। আপনার নির্ধারিত হাউসের কমিশন যদি ৪০ পয়সা হয় তবে ১০০ টাকায় শেয়ার কেনার সময় ৪০ পয়সা কমিশন দিতে হবে।

এই টাকা আপনার বিও অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নিবে, ঠিক তেমনি শেয়ার বিক্রি করার সময়ও একই ভাবে ৪০ পয়সা কমিশন দিতে হবে।

ভালো ব্রোকার হাউস চেনার একদম সঠিক কোণ সুত্র আমার জানা নেই, তবে সেই ব্রোকার হাউস ভালো যাদের অনেক দিনের অভিজ্ঞতা আছে, মালিকগন সুনামের সাথে ব্যবসা করছে, ভালো সেবা দিয়ে আসছে, অতীত কোন খারাপ রেকড নেই এবং অনলাইন সেবার এগিয়ে আছে।   

#৪। অনলাইনে শেয়ার কেনা বেচা করা যায়?

এর উত্তর আপনি অনলাইনে শেয়ার কেনা বেচা করতে পারবেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ উভয় প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে শেয়ার কেনা/বেচার সুযোগ আছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের DSE Mobile App যা গুগল প্লে ষ্টোরে পাবেন সেখানে থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন এবং আপনার ট্রেডিং আইডি এবং পাসওয়ার্ড আপনার ব্রোকার হাউস আপনাকে দিবে।

এর জন্য আলাদা কোন টাকা দিতে হবে না। তবে সকল ব্রোকার হাউস একই সেবা দেয় না, তাই বিও অ্যাকাউন্ট খোলার আগে তারা আপনাকে এই অনলাইন সেবা দিবে কিনা তা জেনে নিতে হবে।

#৫। শেয়ার কেনার আগে কি টাকা জমা দিতে হবে?

অবশ্যই আপনাকে শেয়ার কেনার আগে আপনার ব্রোকার হাউসে আপনার বিও অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে হবে।

আপনি চাইলে ক্যাশ দিতে পারবেন, চেক জমা দিতে পারবেন কিংবা টাকা ট্রান্সফার করে দিতে পারবেন। আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়ার সাথে সাথে শেয়ার কিনতে পারবেন।

#৬। শেয়ার কেনার কত দিন পর বিক্রি করা যায়?

A, B, N ক্যাটাগরির শেয়ার কেনার ১ দিন পর সেল করা যায়। যেমন ধরুন, আজকে বরিবার কোন একটি কোম্পানির শেয়ার কিনলেন তাহলে মঙ্গলবার সেই শেয়ার সেল দিতে পারবেন। একই সাথে মঙ্গলবারে ঐ টাকা দিয়ে আবার অন্য কোন কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন।

#৭। বিও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার সিস্টেম কি?

বিও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে চাইলে ব্রোকার হাউসের অ্যাকাউন্ট ডিপারমেন্টে টাকা তোলার জন্য আবেদন করতে হবে এবং তারা আপনার টাকা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিবে।

এর অর্থ দাঁড়ায় টাকা জমা হবে আপনার ব্রোকার হাউসে আপনার বিও অ্যাকাউন্টে এবং টাকা বের হবে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দিয়ে। 

#৮। বিদেশে থাকা অবস্থায় শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা যায় কিনা?

আপনি চাইলে বিদেশে থাকা অবস্থায় শুরু করতে পারেন, কিছু কিছু ব্রোকার হাউস অনলাইন বিও অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা রেখেছে। তাছাড়া যারা বিদেশে থাকেন তাদের জন্য আলাদা Non-Resident Bangladeshi’s (NRB) এর ব্যবস্থা আছে।

তার জন্য আপনার ভিসা এবং work permit কপি লাগতে পারে। এছাড়া নিকট আত্মীয়ের নামে বিও অ্যাকাউন্ট খুলে আপনি বিদেশে থাকা অবস্থায় শেয়ার ব্যবসা চালাতে পারবেন।

#৯। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকে মূল পেশা হিসাবে নেওয়া যায় কিনা?

এর উত্তর যায়, তবে না নেওয়াই উত্তম। যখন আপনার অনেক টাকার সাথে অভিজ্ঞতা এবং সময় বিনিয়োগ করতে পারবেন তখন মূল পেশা হিসাবে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকে মূল পেশা হিসাবে নেওয়া যেতে পারে।

#১০। শেয়ার বাজার থেকে লাভ কিভাবে হয়?

শেয়ারের দাম বাড়লে লাভ করা যায়, আবার যেই কোম্পানিতে আপনি বিনিয়োগ করেছেন তারা ডেভিডেন্ট দিলেও লাভ করা যায়।

ধরুন আপনি ১০ টাকা দিয়ে শেয়ার কিনেছেন এবং ১১ টাকায় বিক্রি করেছেন তাহলে আপনার ১ টাকা বা ১০ পারসেন্ট লাভ হলো।

#১১। শেয়ার মার্কেটে সর্বনিন্ম কত টাকা বিনিয়োগ করা যায়?

এখানে সর্বনিন্ম বলতে নিদিষ্ট করে বলা কঠিন, তবে আপনি যদি চান ১০ টাকা দিয়ে একটি কোম্পানির শেয়ার কিনবেন তাহলে তাও সম্ভব।

তাই আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে শুরুতে কমপক্ষে ১০/১২ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করতে পারেন এতে লাভ লসের হিসাবটা ভালো জমবে। তবে যত বেশি টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন ততই ভালো।

#১২। শেয়ার বাজারে কি ধরনের টাকা বিনিয়োগ করা উত্তম?

আমরা জানি টাকার অনেক নাম আছে, যেমন ধরুন হাসপাতালে দিলে সেই টাকাকে বিল বলে, গাড়িতে চললে সেই টাকাকে ভাড়া বলে, কাউকে দিলে সেই টাকাকে উপহার বলে, ঠিক তেমনি কিছু টাকা আছে যাকে বলে অলস টাকা।

আপনাকে সেই অলস টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। এতে আপনার ঝুঁকি অনেক কম থাকবে। এমন টাকা বিনিয়োগ করুন যার উপর আপনি কিংবা আপনার পরিবার নির্ভর করেন না।

#১৩। শেয়ার মার্কেট কত দিনের জন্য বিনিয়োগ করা উত্তম?

বিনিয়োগ যত বেশি সময়ের জন্য হবে ততই ভালো, আর শেয়ার বাজারে কমপক্ষে ১ বছর বিনিয়োগ করবেন এই মানসিকতা নিয়ে আসতে হবে।

#১৪।বছরে কত পারসেন্ট লাভ আশা করা যায়?

লাভ-ক্ষতি নির্ভর করে আপনি কোন কোম্পানির শেয়ার কিনছেন তার উপর। শেয়ার বাজারে সবাই লাভ করতে আসলেও সবাই পারে না।

তার অন্যতম কারন অতিরিক্ত লোভ করা। তাই কোন অবস্থায় বছরে ৩০ পারসেন্টের বেশী লাভের আশা করা উচিত নয়।

#১৫। শেয়ার বাজার সম্পর্কে ভুল ধারনা কি কি?

আসলে আমাদের দেশে পজিটিভ খবরের চেয়ে নেগেটিভ খবর বেশী ভাইরাল হয়।

আমার এই রকম অনেক পরিচিত মানুষ আছে যারা বলে শেয়ার বাজার ভালো না, আমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা করি কেন ভালো না কিংবা শেয়ার বাজার কি, তাহলে তার উত্তর অনেকেই দিতে পারবে না।

অনেক মনে করে শেয়ার বাজার জুয়া খেলার মত, যা আসলে তাদের জ্ঞানের অভাবকে বোঝায়। আবার অনেকেই মনে করে শেয়ার বাজারে ভাগ্য লাগে, এটাও ঠিক না।

আবার অনেক মনে করে শেয়ার বাজার শুধু ধনী মানুষের জন্য, যা আরোও বড় ভুল ধারনা। আপনি আমাকে একটাও ব্যবসার নাম বলতে পারবেন না যা ৪৫০ টাকা দিয়ে শুরু করা যায়।

#১৬। শেয়ার বাজার কয়টা থেকে খোলা?

শেয়ার বাজার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা। সরকারী ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন শেয়ার বাজার খোলা থাকে।

#১৭। শেয়ার কেনার পর কত দিন অপেক্ষা করলে লাভ হতে পারে?

লাভ করতে চাইলে আপনাকে কেনার সময়ই লাভ করতে হবে। যেই কোম্পানির একটি শেয়ারের দাম ৬ মাস আগে ছিল ১৫ টাকা আর এখন যদি ৭০ টাকা দিয়ে কিনেন তাহলে লাভ করা কঠিন হয়ে যাবে।

শেয়ার কেনার সাথে কত টাকায় সেল দিবেন তা ঠিক করে রাখতে হবে। সেই কাক্ষিত দাম পাওয়ার সাথে সাথে সেল দিতে হবে। তাই আপনাকে অল্প লাভ টার্গেট করতে হবে।

#১৮। শেয়ার বাজার থেকে লাভের টাকা কি করা উচিত?

লাভের টাকা পুনরায় ঐ একই শেয়ারে সাথে সাথে বিনিয়োগ করবেন না, লাভের টাকা নিয়ে কিছু দিন বসে থাকুন, অন্য শেয়ার পছন্দ হলে কম দামে কেনার চেষ্টা করুন। অথবা লাভের টাকা মার্কেট থেকে তুলে নিয়ে যান এবং অন্য কোথাও এই টাকা বিনিয়োগ করুন।