শেয়ার বাজার থেকে কেন আমরা লাভ করতে পারি না

শেয়ার বাজার থেকে লাভ করতে না পরার কিছু কারনশেয়ার বাজার থেকে কেন আমরা লাভ করতে পারি না

শেয়ার বাজার থেকে কেন আমরা লাভ করতে পারি নাআপনি জানেন যে, শেয়ার বাজার বা Stock Market টাকা বানানোর সেরা একটি মাধ্যম। এই একই সাথে শেয়ার বাজার হলো টাকা হারানোর অন্যতম সেরা মাধ্যম। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে এই একই শেয়ার বাজার কেন দুই ভাবে কাজ করে। আজকের এই সংক্ষিপ্ত আর্টিকেলে কেন আমরা শেয়ার বাজার থেকে লাভ করতে পারি না তার উপর খুব সাধারন কিছু ধারনা তুলে ধরার ইচ্ছা প্রকাশ করছি।

১। কোন লক্ষ্য ছাড়া বিনিয়োগ করি – Invest without any goals

লক্ষ্য ছাড়া কোন কাজেই সফল হওয়া যায় না। সাধারনত শেয়ার বাজারে আমরা অনেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ না করে হুট করেই বিনিয়োগ করি। কখন আমরা একটা শেয়ার কিনব এবং কখন সেই শেয়ার বিক্রি করব তার সঠিক কোন লক্ষ্য আমাদের থাকে না।

ধরুন, একটি কোম্পানির শেয়ার ১০টা দরে আজকে আমি কিনলাম এবং আমি জানি না আমার সেল টার্গেট কত বা কত টাকায় আমি স্টপ লস দিব বা আদৌ স্টপ দিব কিনা। এই অবস্থায় ঐ শেয়ার থেকে আমার লাভ করা কঠিন হয়ে যাবে।

২। আমরা অন্ধ 

কেন বললাম এই কথাটা? এর কারন হচ্ছে আমরা অনেকই নিজের জ্ঞান বুদ্ধি কাজে না লাগিয়ে অন্যের কথা মত শেয়ার কিনি বা বিক্রি করি।

আমরা অবশ্যই অন্যের পরামর্শ শুনব, তবে চুড়ান্ত সিন্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের নিজস্ব বুদ্ধি, বিবেচনা ও এনালাইসিস করে নিতে হবে।

৩। সব টাকা দিয়ে একটি কোম্পানির শেয়ার কিনি

আমরা জানি একটি ঝুড়িতে সব ডিম রাখা ঝুঁকিপূর্ণ।

তারপরও সব টাকা দিয়ে একটি কোম্পানির শেয়ার কিনি, কেননা আমরা ঐ কোম্পানির প্রেমে পড়ে গেছি এবং আমাদের বিশ্বাস একমাএ এই কোম্পানিটি বাজারে সেরা।

ফলে আমাদের যার যা আছে তাই নিয়ে ঐ কোম্পানির শেয়ার কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

৪। শেয়ার কেনার আগে পর্যাপ্ত রিসার্চ করি না

আপনি যত টাকাই বিনিয়োগ করতে চান না কেন আপনাকেই রিসার্চ করতে হবে। আমাদের টেকনিক্যাল, ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস করার সাথে সাথে শেয়ার বাজারে অন্য ইনভেস্টরদের সাইকোলজি বুজতে হবে।  

৫। স্রোতে গা ভাসিয়ে দেই

যখন বাজারে বাই প্রেসার থাকে তখন শুধু কিনতে থাকি, আবার বাজার যখন সেল প্রেসারে থাকে তখন সব শেয়ার বেঁচে দেই। ফলে কাজের কাজ কিছুই হয় না। হওয়া উচিত এর ঠিক উল্টো।

ধরুন আজকে একটি জেড ক্যাটাগড়ির শেয়ার হল্টেড হয়ে গেল, এর মানে এই না যে জেড ক্যাটাগড়ির সব  শেয়ার ভালো হয়ে গেল। এই অবস্থায় আমরা অনেকই জেড ক্যাটাগড়ির শেয়ার কিনে থাকি, অনেকই আবার লাভও করতে পারে কিন্তু সেই সংখ্যা খুবই কম। আরো পড়ুন – শেয়ার বাজারে ইনভেস্টর সাইকোলজি বলতে যা বোঝাঁয়

৬। মিডিয়া

আমাদের দেশের মিডিয়া বাজারের খারাপ পরিস্থিতি বেশী তুলে ধরে। আবারো টানা ধরপতনে দেশের পুজিবাজার, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে সব হারিয়ে পথে বসেছে বিনিয়োগকারীরা, একদিনে বাজার থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা নেই, এই রকম শিরোনামে আমরা অভ্যস্ত।

খারাপ পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্টের বিপক্ষে আমি বলছি না, বরং খারাপ পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট করা ভাল, এতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।

তবে একটি সমস্যা হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের, বিশেষ করে যারা শেয়ার বাজারে নতুন আসতে চাচ্ছে তাদের মনোবল নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া পুরাতন বিনিয়োগকারীরাও বাজার নিয়ে নতুন করে ভাবতে চায় না। ফলে বাজারে নতুন টাকা আসে না।

অনেকেই এই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগে করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে, কই তাদেরকে নিয়ে তো কোন রিপোট করা হয় না, রিপোট তখনই করা হয় যখন বিনিয়োগকারী সব হারিয়ে পথে বসেছে।

তাই খারাপ পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি ভালো পরিস্থিতি বেশী বেশী প্রচার করলে এই সমস্যা কিছুটা দূর হয়।

৭। খারাপ কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে লিস্টেড করা

সম্প্রতি আপনি একটু খেয়াল করলে দেখবেন গত ১০ বছরে যতগুলো কোম্পানি বাজারে লিস্টেড হয়েছে তার কি অবস্থা।

বেশীর ভাগই কোম্পানি খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। আমার এখনও মনে আছে ২০১৫ সালে একটি কোম্পানি বাজারে লিস্টেড হয়, আমি তখন ঐ কোম্পানির শেয়ারের জন্য আইপিতে আবেদন করি।

দুইটি আবেদন করে দুইটিই পেয়ে যাই, যা ট্রেড শুরু হওয়ার প্রথম দিনে ২৬ টাকা দরে বিক্রি করি, আপনি শুনে অবাক হবেন সেই কোম্পানির দাম এখন দেড় থেকে দুই টাকায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

পড়ুন – ভাল কোম্পানি মানেই কি ভাল শেয়ার?

কর্তৃপক্ষ এই সব কোম্পানি গুলোকে পুঁজিবাজারে লিস্টেড করার মাধ্যমে একদিকে আর্থিক ভাবে আমাদের ক্ষতিগ্রস্থ করছে এবং এর পাশাপাশি অন্য বিনিয়োগকারীদের মনবল নষ্ট করছে।  

৮। খুব তাড়াতাড়ি ধনী হতে চাই

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, শেয়ার বাজারে সঠিক সময়ে সঠিক কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারলে ধনী হওয়া যায়।

তবে আমরা যেই ভুলটি করি তা হলো খুব তাড়াতাড়ি ধনী হতে চাই।  ফলে আমাদের কাছে যেই টাকা আছে, সেই সব টাকা দিয়ে শেয়ার কিনে ধনী হওয়ার জন্য অপেক্ষা করি। এই অতিরিক্ত লোভ আমাদের সামলাতেই হবে।

ধন্যবাদ – কে এম চিশতি সিয়াম – ইউটিউব