শেয়ার বাজারে Long Term Investment করার সেরা সময় এই এখনই

শেয়ার বাজার সাধারনত তার নিজস্ব গতিতে চললেও কিছু মুহূর্ত হঠাৎ করে পরিস্থিতি বদলে দেয়। এই ২০২০ সালে প্রথমদিকে শেয়ার বাজার বেশ চাঙ্গা ছিল, উহানে যখন করোনাভাইরাসে মানুষ মারা যাচ্ছে তখনও আমাদের দেশের শেয়ার বাজার ভালই চলছিল, তবে মূল সমস্যা হয়ে যায় যখন আমাদের দেশে Covid 19 রোগী সনাক্ত করা হয়।

এর পরে টানা কিছু দিন শেয়ারের দাম ধারাবাহিক ভাবে কমতে থাকে। এক পর্যায়ে কিছু দিনের জন্য লেনদেন বন্ধ করে রাখা হয়। দেশে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলে শেয়ার মার্কেটের লেনদেন আবার খুলে দেওয়া হয়।

মার্কেট খোলার পরেও কিছুদিন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বাই করার থেকে সেল করার প্রবনতা বেশী ছিল। 

এর পরে আস্তে আস্তে সাধারন বিনিয়োগকারীরা বাই মুডে চলে আসে। আজকে, তারিখ ২৭, অক্টবর ২০২০, এবং আমার কাছে মনে হচ্ছে শেয়ার বাজারে Long Term Investment করার জন্য সেরা সময় এই এখনই।

Long Term Investment এক এক জনের কাছে এক এক রকম। অনেকের কাছে Long Term Investment মানে গাড়ী কেনা, আবার অনেকের কাছে Long Term Investment মানে বাড়ী বানানো।

প্রতিটি মানুষের Long Term Investment এর একটি নিদিষ্ট সংজ্ঞা আছে। তবে শেয়ার বাজারের Long Term Investment বলতে ২ বছর বা এর অধিক সময়কে বোঝাঁয়।

তবে কোন ভাবেই ১ বছরের কম সময়ের জন্য শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা উচিত নয়, এবং যেই টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন তা যেন অবশ্যই আপনার দরকারী টাকা না হয়!

ক্ষেএ বিশেষ শেয়ার বাজার বিনিয়োগকে ব্যবসা হিসাবে গ্রহন করতে হবে। আসুন কেন শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের এখনই সেরা সময় এর কিছু কারন খুঁজে বের করি।

#১। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি।

আপনি একটু ভেবে দেখুন আমাদের দেশে যখন প্রথম করোনা ভাইরাসের সংক্রম দেখা যায় তখন মানুষের মধ্যে একটি আতঙ্ক কাজ করেছে যা এখন অনেকটা কমে গেছে।

ঐ আতঙ্কের জন্য শেয়ার বাজারে মারাত্নক ভাবে প্রভাব পড়েছিল যা এখন অনেকটাই নেই বললেই চলে এবং দিন দিন আরো বেশী স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

এরপরে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকিসন যখন আমরা পাব তখন শেয়ার বাজারে খুবই ভাল করার সম্ভবনা থাকবে।

তাই এখন যদি দেখে শুনে ভালো শেয়ার কিনে রাখেন এবং ভ্যাকিসন আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করেন তবে আমি বিশ্বাস করি আপনি বেশ ভালো টাকা লাভ করতে পারবেন। 

#২। ফ্লোর পাইজ।

বর্তমানে কোন শেয়ারের দাম একদম তলানীতে যেতে পারবে না। কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্ট কালের জন্য প্রতিটি শেয়ারের দাম ঠিক করে দিয়েছে।

অর্থাৎ, যেই দাম ঠিক করে দেওয়া হয়েছে আপনিও চাইলেও এর নীচে বিক্রি করতে পারবেন না।

এর মানে দাড়ায় যদি ফ্লোর পাইজে শেয়ার কিনতে পারেন তবে লাভ করা খুবই সহজ হবে।

উদাহরনস্বরূপ – ICB AMCL Second Mutual Fund এই Securities টির আজকের দাম ৭ টাকা ৭০ পয়সা এবং এর ফ্লোর পাইজ ৭ টাকা ৭০ পয়সা। এর মানে হচ্ছে এই এই Securities টি ৭ টাকা ৭০ পয়সার নীচে নামতে পারবে না।

#৩। ইনভেস্টরদের সাইকোলজির পরিবর্তন।

শেয়ার বাজারে টেকনিক্যাল এন্যালাইসিস এবং ফান্ডামেন্টাল এন্যালাইসিস এর সাথে সাথে ইনভেস্টরদের সাইকোলজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে ভয় এবং চাঁপা উত্তেজনা ছিল তা এখন অনেকটা কমে গেছে।

দিন দিন নতুন নতুন বিনিয়োগকারীদের সাথে সাইড লাইনে বসে থাকা বড় বড় বিনিয়োগকারী বাজারে আসছে, এর ফলে অচিরেই মার্কেট উর্ধমুখী হবে বলে বিশ্বাস করছি।

#৪। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি।

আপনি যদি গত ৩ মাসের বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার হোল্ডালদের percentage দেখেন তবে অবশ্যই যেই বিষয়টি চোখে পড়বে তা হলো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি।

এই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি অবশ্যই একটি ভালো মার্কেট উপহার দিতে সাহায্য করবে।

#৫। সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন আগের থেকে বেশী কার্যকারী।

বর্তমানে প্রায় ৮০% এর অধিক সাধারন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের উপর বেশ ভাল আস্তা আছে।

এছাড়া বড় বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে যেমন Walton এসেছে, কিছুদিনের মধ্যে রবিও চলে আসবে।

একটি দক্ষ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন অবশ্যই একটি ভালো শেয়ার বাজার উপহাঁর দিতে পারে।

সর্বপরি, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কোম্পানি দেখে শুনে বিনিয়োগ করতে হবে এবং এই লেখাটি লেখা হয়েছে ব্যক্তিগত মতামতের উপর ভিত্তি করে।