শেয়ার বাজারে মানি ম্যানেজমেন্ট বা অর্থ ব্যবস্থপনা

শেয়ার বাজারে মানি ম্যানেজমেন্ট

শেয়ার বাজারে মানি ম্যানেজমেন্ট

শেয়ার বাজারে মানি ম্যানেজমেন্ট হলো প্রতিরক্ষামূলক কৌশল। লসের হাত থেকে মুলধন রক্ষা করাই মানি ম্যানেজমেন্টের মূল উদ্দেশ্য। সাধারনত একটা কয়েনের মত শেয়ার বাজারে দুইটা দিক। একটা লাভ ও অন্যটা লস।

যদি আমি কোনো ভাবে লস এড়াতে পারি, বা কমাতে পারি তাহলে প্রফিট আসবেই। যেহেতু আগেই বলা হয়েছে এটি প্রতিরক্ষামূলক কৌশল তাই লস এড়ানোই মানি ম্যানেজমেন্টে মূল লক্ষ্য।

আমরা সাধারন বিনিয়োগকারীরা যে ভুল করি তা হলো, হাতে থাকা সকল টাকা দিয়ে শেয়ার কিনে ফেলি।

যখন এই অবস্থা হয় তখন আর মানি ম্যানেজমেন্টের কোনো কাজ থাকে না।

যখন আপনার হাতে টাকাই থাকবে না তখন ম্যানেজ’ই বা কি করবেন।

আমাদের মনে রাখতে হবে, মানি ম্যানেজমেন্ট ভালো হলে অনেক সময় খারাপ শেয়ার কিনেও লাভ করা যায় আর, মানি ম্যানেজমেন্ট খারাপ হলে ভালো শেয়ারটি কিনেও লস দিতে হয়।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে মানি ম্যানেজমেন্ট মেনে শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন?

শেয়ার বাজারে মানি ম্যানেজমেন্টের একমাএ এবং কার্যকারী কোন সুত্র নেই যে এটিই কাজ করবে।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীগন তাদের নিজেদের পছন্দ মত একটা সূত্র মেনে ব্যবসা করে।

তবে এর মধ্যে কমন কিছু বিষয় আছে যা সকল অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী মেনে চলে। আসুন সেগুলো কি কি জানার চেষ্টা করি।

#১। কত টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবেন তার সুস্পষ্ট ধারনা নিতে হবে।

যারা নতুন তাদের চিন্তা থাকে এই রকম যে, আগে অল্পকিছু দিয়ে শুরু করি, পরে না হয় বিনিয়োগ বাড়ানো যাবে। যেহেতু অল্প টাকা দিয়ে শুরু করেছে ফলে সব টাকা দিয়ে শেয়ার কিনে বসে থাকে।

যখনই লসের মধ্যে পরে তখনই সে মনোবল হারিয়ে ফেলে। পরে নতুন করে বিনিয়োগ করার সাহস পায় না এবং নিজের অজান্তে শেয়ার বাজার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা প্রেষন করে।

তাই আপনি সামনের কমপক্ষে ১ বছরে কত টাকা বিনিয়োগ করবেন তার স্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে। যদি টাকার পরিমান কম হয় তাহলে মানি ম্যানেজমেন্ট হবে এক রকম আর টাকা পরিমান বেশি হলে ভিন্ন রকম।

#২। একটা শেয়ার কেনার সময় হুট করে বেশি পরিমান কেনা উচিত না।

যখন আপনি একটা শেয়ার পছন্দ করেছেন যে, এই শেয়ারটি আপনি কিনবেন তখনই একবারে হুট করে বেশি পরিমান কেনা ঠিক না।

অনেক সময় বেশি পরিমান একবারে কিনলে দাম বাড়লে লাভ বেশি হবে।

তবে, মানি ম্যানেজমেন্ট মেনে ব্যবসা করতে চাইলে আপনাকে প্রথমে অল্প পরিমান কিনতে হবে এবং প্রথম যেই দামে কিনেছেন তার থেকে পরবর্তিতে কম দামে কিনতে হবে।

#৩। শেয়ার এর দাম কমলেই এভারেজ করা ঠিক না।

যেহেতু এটি একটা  প্রতিরক্ষামূলক কৌশল তাই আপনাকে পুঁজির দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

আমরা অনেক সময় এই ভুলটি করি, তা হলো এখন দাম কমে গেছে আর কমবে না তাই এখনই এভারেজ করে সব টাকা বিনিয়োগ করে ফেলি।

ফলে এভারেজ করতে গিয়ে ক্যাশ টাকা সব শেষ করে ফেলি। তাই আমাদের উচিত কম পক্ষে ১১% না কমা পর্যন্ত এভারেজ না করা।

তবে বিশেষ কোনো নিউজ থাকলে এর কমে এভারেজ করা যেতে পারে।

#৪। শেয়ার বিক্রির সময় সব শেয়ার একসাথে বিক্রি করি।

আমাদের মধ্যে অনেকেই আফসোস করে বলে, যখনই সে শেয়ার বিক্রি করে দেয় তখন থেকে এর দাম বাড়া শুরু করে। আবার কেনার সময় বলে যখনই সে একটা শেয়ার কিনে তখনই সেই শেয়ারের দাম কমতে থাকে।

আপনি যদি এই অবস্থায় পড়তে না চান তাহলে কেনার সময় এক বারে না কিনে এবং বিক্রি করার সময় এক বারে বা একই দামে সব শেয়ার বিক্রি না করে ধাপে ধাপে করাই উত্তম। আরোও পড়ুন – মার্কেট ইনডেস্ক vs PE Ratio vs অন্য কিছু

এতে ঐ শেয়ারে ভবিষ্যৎ গতিবিধি সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

সর্বপরি, শেয়ার বাজারে মানি ম্যানেজমেন্ট একটা পার্সোনাল বিষয়। এক একজন এক একধরনের সূত্র মতে মানি ম্যানেজ করে। তাই আপনার জন্য সেরাটি খুঁজে বের করার দায়িত্ব আপনাকে দিয়ে আজকের জন্য বিদায়। ভিজিট করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল – Bangla Preneur YouTube Channel