শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ কৌশল আসলেই কোন কাজে লাগে

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ কৌশল আসলেই কোন কাজে লাগে

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ কৌশল আসলেই কোন কাজে লাগে

বাংলাদেশের যে কোনো নাগরিক ৪৫০ টাকা দিয়ে বিও অ্যাকাউন্ট খুলে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা শুরু করতে পারে। এখানে কোন ধরা বাঁধা নিয়ম নেই যে আপনাকে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতেই হবে।

এমনকি আপনি ১০ টাকা দিয়েও শেয়ার কিনতে পারবেন। শেয়ার বাজারে যারা বিনিয়োগ করতে আসে তাদের মধ্যে ৯০% প্রথম দিকে লাভ করতে পারে, তবে যত দিন যায় এই ৯০% এর থেকে ১৫%-২০% থাকে আর বাকিরা লস করে।

এই যে অনেক মানুষ লস করে এর পিছনে অনেক কারন থাকতেই পারে তবে এই মধ্যে প্রধান দুইটি কারন হলো, ঝুঁকি বা রিস্ক বিশ্বাস না করা বা ঝুঁকি ব্যবস্থপনা না জানা এবং দ্বিতীয় কারন হলো, অতিরিক্ত লোভ করা।

এই লোভের বিষয়টা সামাল দিতে না পারলে প্রফিট করা তো দূরের কথা আপনার মূলধন ক্ষতির মধ্যে পড়তে পারে। আসলে কিভাবে লোভ সামাল দিতে হয় এই বিষয়টা আমরা অনেকেই জানি তবে মানি না।

যেমন ধরুন, একটা বেলুনে আপনি চাইলে এর ভিতরে বাতাস দিয়ে আকারে বড় বানাতে পারেন, এর ভিতর যখন আরোও বাতাস দিবেন সেটা আরো বড় হবে, আবার যখন আরোও বাতাস দিবেন তখন সেই বাতাস ঐ বেলুন নিতে না পেরে ফেটে যাবে।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে তবে বুজে শুনে ঝুঁকি নিতে পারলে আমাদের দেশের যে কোন বিনিয়োগের চেয়ে এখান থেকেই বেশী টাকা লাভ করা সম্ভব।

এখন আপনার বেলুন আপনি কতটুকু বাতাস দিবেন তা যদি না জানেন, কতটুকু বাতাস সহ্য করতে পারে তা যদি না বুঝেই বাতাস দেন তবে সেই বেলুন ফেটে যাওয়া শুধু মাএ কিছু সময়ের ব্যাপার।

প্রথমত, যার মূলধন কম, তাকে কম ঝুঁকি পূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত অল্প লাভে খুশী থাকতে হবে, এটা হতে পারে ১৫ থেকে ২০%।

যত লাভ পাই আরো চাই এই নীতিতে যারা বিনিয়োগ করে তারা শেয়ার বাজার থেকে এক পাহাড় সমান হতাশা নিয়ে বের হয়ে যায়। হয় হাসি, নয় কান্না এই নীতিতে বিনিয়োগ করে ২/১ দিন ভালো থাকা যায় তবে এই সুখ বেশী দিন টিকে না।

শেয়ার বাজার নামক এই মহাসাগরে গুটি কয়েক কৌশল ব্যবহার করে লাভ করা কঠিন তবে অসম্ভবও নয়। আসুন খুঁজে দেখি কিছু পাওয়া যায় কিনা।

#১। শেয়ার বাজারকে ভালোবাসতে হবে, তবে কোন নিদিষ্ট কোম্পানিকে নয়। ঐ কোম্পানিটি আমার ভালো লাগে, তাদেরকে আমি চিনি, এক মাএ এই কোম্পানিই বাজারে সেরা এই রকম চিন্তা ভাবনা আমাদেরকে হতাশ করতে পারে।

#২। শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকে মূল পেশা হিসাবে নেওয়া যাবে না।

#৩। লাভের টাকা পুনরায় ঐ একই শেয়ারে সাথে সাথে বিনিয়োগ করবেন না, লাভের টাকা নিয়ে কিছু দিন বসে থাকুন, অন্য শেয়ার পছন্দ হলে কম দামে কেনার চেষ্টা করুন।

অথবা লাভের টাকা মার্কেট থেকে তুলে নিয়ে যান এবং অন্য কোথাও এই টাকা বিনিয়োগ করুন।

#৪। কখনই সব টাকা দিয়ে একটি শেয়ার কেনা যাবে না, একই সাথে অনেকগুলো কোম্পানিতেও বিনিয়োগ করা যাবে না। ১০ লাখ টাকা থাকলে ৪টা বা ৫টা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।

#৫। এককালীন টাকা বিনিয়োগের পাশাপাশি মাসিক হিসাবে বা ৬ মাস মাস পর আরোও কিছু টাকা বিনিয়োগ করার ব্যবস্থা রাখা উত্তম। এটা আপনার পোর্টফোলিওকে অনেক নিরাপদ রাখবে।

#৬। কত দিনের জন্য বিনিয়োগ করবেন সেই সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে, এটা হতে পারে কমপক্ষে ১ বছর।

আরোও পড়ুন – শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকে মূল পেশা হিসাবে নেওয়া যায় কি

#৭। প্রচুর অভিজ্ঞতা না হওয়া পর্যন্ত কখনই লোন করে শেয়ার কেনা যাবে না।

#৮। ৬ মাস পরে কিংবা এক বছর পরে পোর্টফোলিও রিব্যানান্স করতে হবে।

#৯। ভালো কোম্পানির মানেই যে সেই শেয়ার ভালো তা কিন্তু নয়, যেখানে কোম্পানিও ভালো শেয়ারও ভালো সেখানেই আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে।

একটি ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলেন কিন্তু লেনদেন খুবই কম হয় তাহলে সেখান থেকে প্রফিট বের করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

এই ক্ষেএে আপনাকে ভালো কোম্পানি এবং একটিভ শেয়ার যা বেশী লেনদেন হয় সেই শেয়ার বেছে নিতে হবে। জেনে নিন- শেয়ার বাজারে কি DPS করা যায়

#১০। Technical Analysis এবং Fundamental Analysis এর সাথে সাথে বিনিয়োগকারীদের সাইকোলজি বুঝার চেষ্টা করতে হবে। বরং Technical Analysis এবং Fundamental Analysis এর চেয়ে অন্য বিনিয়োগকারীদের সাইকোলজি আমাদের দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর উচিৎ বার্ষিক লাভের কাঙ্ক্ষিত হার নির্ধারণ করা। সেটা ৩০ থেকে ৩৫% এর উপরে করা সমীচীন নয়। এই প্রফিট একবারে না নিয়ে ৮ থেকে ১০% এই রকম ছোট ছোট টার্গেট ঠিক করা উচিত।

যখনই একটি শেয়ার কিনবেন তখনই সেই শেয়ার কত দামে বিক্রি করবেন তা ঠিক করে নেওয়া উচিত, নিউজ রয়েছে আরোও বাড়বে এই ফাঁদে না পরে নিজের সেট করা টার্গেট প্রাইজ পেয়ে গেলে বিক্রি করাই উত্তম।

শেষ কথা, শেয়ার বাজারে ভালো করতে চাইলে টাকার সাথে সময়, পরিকল্পনা এবং ধৈর্য বিনিয়োগ করার কোন বিকল্প নেই।