শেয়ার বাজারে কি DPS করা যায়

শেয়ার বাজারে কি DPS করা যায়

শেয়ার বাজারে কি DPS করা যায়

আমরা সাধারণত Bank এর DPS এর সাথে সবাই পরিচিত। আমাদের মধ্যে অনেকেই ব্যাংকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা করে, এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরে সুদ সহ আসল টাকা পেয়ে থাকে।

আমাদের ইসলাম ধর্ম সহ সকল ধর্মেই সুদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্মীয়ভাবে সুদ নিষিদ্ধ, অন্য দিক দিয়ে মুদ্রাস্ফীতির কারণে ব্যাংক সহ যেকোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মাসিক হিসাবে টাকা জমা করা কিংবা এককালীন টাকা জমিয়ে সত্যিকারের লাভের মুখ দেখা সত্যিই চ্যালেঞ্জের বিষয়।

কেননা গড়ে প্রতিটি ব্যাংক সুদ দেয় ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি ৫ টাকার উপরে।

তাই আপনি যদি সত্যিই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে চান এবং বেশ ভাল অঙ্কের টাকা লাভ করতে চান তাহলে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারেন।

ব্যাংকে যেমন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি মাসে টাকা জমা করি এবং বিভিন্ন মেয়াদের ডিপিএস করে থাকি, শেয়ারবাজারে এই রকমের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ডিপিএস করার সিস্টেম নেই।
আমাদের মধ্যে অনেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে চাই তবে নির্দিষ্ট বড় অঙ্কের টাকা না থাকার কারণে অনেকেই বিনিয়োগ করতে পারছে না। 

তবে আপনি যদি চান তাহলে ব্যাংকের ডিপিএস এর আদলে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারেন। এই ডিপিএস এর সকল আইন-কানুন নিজের মন মতন করে তৈরি করে নিতে হবে।

আসুন জেনে নেই কিভাবে ব্যাংকের আদলে শেয়ারবাজারে ডিপিএস করা যায় এবং মোটামুটি ভাল অঙ্কের টাকা ইনকাম করা যায় এরকম কিছু সম্ভাব্য উপায়।

প্রথমে ঠিক করতে হবে আপনি প্রতিমাসে কত টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে চান।ধরে নিলাম আপনার কাছে এককালীন কোন টাকা নেই কিন্তু প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা করে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

এই অবস্থায় আপনাকে ভালো একটি কোম্পানি খুঁজে পেতে হবে যেখানে আপনার এই ডিপিএস শুরু করতে পারেন।

ধরে নিলাম আপনার নির্ধারিত কোম্পানির নাম এবিসি লিমিটেড। এই কোম্পানির শেয়ারে আপনি ডিপিএস আকারে বিনিয়োগ শুরু করতে চান।

মনে করুন, আজকে জানুয়ারি মাসের 1 তারিখ এবং বর্তমানে এবিসি লিমিটেডের প্রতিটি শেয়ারের দাম 10 টাকা।
এই অবস্থায় জানুয়ারি মাসের 1 তারিখে 5000 টাকা দিয়ে এবিসি লিমিটেডের 500 টি শেয়ার কিনতে পারবেন, কেননা প্রতিটি শেয়ারের দাম রয়েছে 10 টাকা।

ধরুন এক মাস পরে ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ এবিসি লিমিটেডের শেয়ারের দাম এক টাকা কমে গেল এবং বর্তমান দাম 9 টাকা। এই অবস্থায় আপনাকে আবার পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে শেয়ার কিনতে হবে, এবার 5000 টাকার বিনিময়ে 555 টি শেয়ার কিনতে পারবেন।

অবশ্যই পড়ুন – বিনিয়োগ করবেন কোথায় ব্যাংক না শেয়ার বাজারে? 

আবার ধরন একমাস পরে মার্চের ১ তারিখ এবিসি লিমিটেডের শেয়ারের দাম আরও এক টাকা কমে গেল এবং বর্তমান দাম হচ্ছে ৮ টাকা। এই অবস্থায় আপনাকে আবার পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে  শেয়ার কিনতে হবে। এবার ৫০০০ টাকার বিনিময়ে আপনি ৬২৫ টি শেয়ার কিনতে পারবেন।

আবার ধরুন এক মাস পরে এপ্রিল মাসে এই শেয়ারের দাম ৮ টাকা থেকে দেড় টাকা বেড়ে ৯ টাকা ৫০ পয়সা হয়ে গেল, এই অবস্থায় আপনাকে আবার ৫০০০ টাকার শেয়ার কিনতে হবে। এবারে আপনি পাবেন ৫২৬টি শেয়ার।

আবার ধরুন আর একমাস পরে মে মাসে এই শেয়ারের দাম হয়ে গেল ১০ টাকা ৫০ পয়সা এবং আপনাকে আবার ৫০০০ টাকা দিয়ে শেয়ার কিনতে হবে। এবারের ৫০০০ টাকার বিনিময়ে আপনি শেয়ার পাবেন ৪৭৬টা।

ধরুন এক মাস পরে মানে জুন মাসে এই শেয়ারের দাম হয়ে গেল 12 টাকা এবং এইবারে কোন শেয়ার না কিনে এতদিন ধরে যে শেয়ারগুলো কিনেছেন তা বিক্রি করে দিতে হবে।
তাহলে ৫ মাস ধরে, প্রতিমাসে ৫০০০ টাকা দিয়ে এবিসি লিমিটেড কোম্পানির ২৬৮২টি শেয়ার কিনেছেন যার গড় মূল্য হয়েছে ৯ টাকা ৪০ পয়সা।

১২ টাকা দরে বিক্রি করলে পতি শেয়ারে আপনার লাভ থাকবে ২ টাকা ৬০ পয়সা।
তাহলে ফলাফল দাঁড়ায় ২৫০০০ টাকা ৫ মাস বিনিয়োগ করে আপনার মোট লাভ হয়েছে ৬৯৭৩ টাকা ২০ পয়সা। ব্রোকার হাউজের কমিশন বাবদ খরচ হবে প্রায় ২৮৮ টাকা। শতকরা হিসাবে ৫ মাসে ২৫০০০ টাকায় ২৭.৮৯% প্রফিট হয়েছে।

এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই একটি বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে, তা হলো কত পার্সেন্ট আপনি লাভ করতে চান তা  অবশ্যই ঠিক করে রাখতে হবে।
যদি আপনি ২০% লাভ করতে চান তাহলে এই লাভ পেয়ে গেলেই শেয়ার বিক্রি করে দিন।

যদি দেখেন প্রথম মাসেই ৫০০০ টাকা বিনিয়োগ করার পরেই তা ৬০০০ টাকা হয়ে গেলো, যা আপনার টার্গেট ২০ পারসেন্ট প্রফিট ফুলফিল করেছে তাহলে দ্বিতীয় মাসেই বিক্রি করে দিন।

 

এবার প্রফিটের টাকা শেয়ারবাজার থেকে তুলে নিয়ে যান এবং দাম কমলে ওই কোম্পানি শেয়ার  আবার কিনুন নতুবা অন্য ভালো কোম্পানি খুঁজে আবার এভাবে বিনিয়োগ করা শুরু করুন।

এভাবে বিনিয়োগ করা অব্যাহত থাকলে ইনশাল্লাহ আপনার লস হবে না।
তবে প্রথম মাসে কোন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন কিংবা কোন কোম্পানি আপনি বেছে নিয়েছেন তা আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

কারন, আপনি যদি অধিক মূল্যায়িত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন তাহলে এখানে কিছুটা সমস্যা হলে হতে পারে।

এই অবস্থায় যে কোম্পানির দাম তলানীতে রয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে ভালো করার সম্ভাবনা আছে এমন শেয়ারে আপনার এই ডিপিএস আকারে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা শুরু করতে পারেন।