লক্ষ্য নির্ধারণ কেন গুরুত্বপূর্ণ: ১০টি কারন

যে ১০ কারনে লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিৎ

লক্ষ্য নির্ধারণ কেন গুরুত্বপূর্ণ ১০টি কারন

লক্ষ্য নির্ধারণ – প্রতিকী ছবি 

“জীবনে সফল হতে চাইলে লক্ষ্য নির্ধারন করো” এই কথাটি আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি। কিন্তু কেন লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত সেই বিষয়ে আমাদের কেউ কখনো কিছু বলে না। অবশ্যই কোন কিছু করার আগে তার কারণ জানা আবশ্যক, বা এমন করলে কি কি ইতিবাচক বিষয় পাওয়া যাবে সেই বিষয়েও জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। আজ আমরা কথা বলবো এমনই একটি বিষয় নিয়ে। কেন লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত চলুন জেনে তার ১০ টি কারণ।

১। লক্ষ্য আপনাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে

লক্ষ্য আপনাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দিবে। আপনি যখন জানবেন যে আপনি কি চাইছেন, তখন সেই বিষয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করবেন।

লক্ষ্য স্থির রাখতে পারলে কখনো নিজের মধ্যে দূর্বলতা আসলেও সেই দূর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন । লক্ষ্য আপনাকে প্রতিনিয়ত মোটিভেশন প্রদান করবে।

২। সর্বোচ্চ ফল প্রদান করবে

আমরা পরিশ্রম করি যেন ভাল একটা ফল পাই। লক্ষ্য নির্ধারণ আমাদের সর্বোচ্চ ফল পেতে সাহায্য করেন। আপনি লক্ষ্য নির্ধারণ করলে তা অর্জনের জন্য আপনাকে কি কি করতে হবে সেটি আপনি অনুধাবন করতে পারবেন।

আপনি জানবেন আপনার কি কি বাঁধা আছে এবং সেই বাঁধা অতিক্রমের জন্য আপনার করণীয় বিষয়ে আপনি সোচ্চার হবেন। ফলে একটি সুন্দর ফল আপনি প্রত্যাশা করতেই পারেন এবং তা অর্জনও করবেন।

৩। আপনি বুঝবেন সাফল্য দরকার

আমরা সবাই কমবেশি স্বপ্ন দেখি। এখানে আমরা জাগ্রত স্বপ্নের কথা বলছি না। এই স্বপ্নকে কেন্দ্র করে আমাদের পথ চলা।

স্বপ্ন পূরনের ফলে আমরা কি কি অর্জন করতে পারবো, কেমন হবে আমাদের সেই কাক্ষিত জীবন সেটিও আমরা অনুধাবন করতে পারবো লক্ষ্য নির্ণয়ের মধ্য দিয়ে।

যেমন ধরুন, কোন ব্যক্তির লক্ষ্য আর্থিক স্বাধীনতা । তিনি এমন এক জিনিস চান যেখানে খরচ করার জন্য তাকে ভাবতে হবে না। ভাবতে হবে না আজ কাজ না করলে, কাল কি উপার্জন হবে।

তিনি যদি লক্ষ্য স্থির করতে পারেন তবে সেই লক্ষ্যের জন্য সফল হওয়ার জন্য নিজের ভিতর প্রেরণা পাবেন, সফলতার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করবেন।

৪। আপনার কাজ কি হবে সেটি বুঝতে সাহায্য করবে

লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজও ভিন্ন ভিন্ন হয়।

আপনি লক্ষ্য নির্ধারণ করলে নিজেই বুঝতে পারবেন এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনার কাজ কি? আপনার ভূমিকা কি হবে? ধাপে ধাপে কাজ ভাগ করে নিতে পারবেন।

অর্থাৎ, আপনার কাজ আরো বেশি গোছানো এবং পরিকল্পিত হবে যা সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে অনেকাংশ।

৫। কাজের সিডিউল নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে

জীবনের প্রয়োজনে বা জীবনের তাগিদে আমাদের নানান ধরনের কাজ একত্রে করতে হয়। একসাথে বিভিন্ন ধরনের কাজ আসে।

যেমন সকালে আপনি অফিসে যেয়ে দেখলেন আপনার টেবিলে নতুন ৫ টি ফাইল, যার কাজ আপনার আজই শেষ করতে হবে। এখন একসাথে সবগুলো ফাইলের কাজ আপনি করতে পারবেন না।

আবার কাজের ভিন্নতা এবং ব্যপ্তির কারণে সবগুলো একদিনে শেষ নাও করে উঠতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে কাজের সিডিউল সিলেক্ট করতে হবে।

কোন কাজটি আগে করে জমা দেওয়া প্রয়োজন, কোন কাজটি আগামীকাল করলেও তেমন কোন সমস্যা হবে না সেই বিষয়ে আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ঠিক তেমন লক্ষ্য আপনাকে সিডিউল নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে। লক্ষ্য নির্ধারনের পর একটি পুরো পরিকল্পনা তৈরী করবেন এবং এর মধ্য দিয়ে আপনি আপনার কাজের বা লক্ষ্য পূরনে করণীয় বিষয়ে সিডিউল নির্ধারন করতে সমর্থ হবেন।

আরোও পড়ুন – লক্ষ্য নির্ধারন এবং পূরণ করতে চাইলে এই ৫টি ভুল করা যাবে না

৬। যোগাযোগে সাহায্য করে

আপনি টিমে কাজ করেন বা একাকী, লক্ষ্য নির্ধারণ করতেই হবে। লক্ষ্য নির্ধারণ আমাদের যোগাযোগ করতেও সাহায্য করে।

যেমন যখন আমরা কোন টিমে কাজ করি লক্ষ্যই আমাদের বুঝিয়ে দেয়, আমরা যা চাই তার জন্য আমাদের কি কি করতে হবে, কিভাবে করতে হবে এবং কোন সময়ে করতে হবে।

একাকী কাজের ক্ষেত্রে ও কিন্তু আমাদের তথ্য আদান প্রদান এবং সেই সাথে অন্য সহযোগিতার আবশ্যক হয়, সেক্ষেত্রে লক্ষ্য নির্ধারণ সহায়ক ভূমিকা রাখে।

৭। জবাবাদিহিতা তৈরী হয়

জবাবদিহিতা যে কোনো কাজকে আরো সুন্দর, অর্থবহ এবং স্বচ্ছ করে তোলে। আপনি যখন কারো অধীনে কাজ করছেন সেখানেও জবাবদিহিতার বিষয় যেমন আছে, ঠিক তেমনি নিজের স্বপ্নের সাথেও আপনার জবাবদিতিতা আছে।

আপনি কোন কাজ দেরী করে করলে তা ফলত আপনার লক্ষ্য অর্জনেই বাঁধা প্রদান করবে। শুধু কল্পনা করলেই হবে না, আপনাকে যে কাজও করতে হবে এবং নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করতে হবে সেই বিষয়ে ধারনা পরিস্কার হবে।

৮। অগ্রগতির পরিমান যাচাই করতে সাহায্য করে

আপনি শুধু কাজ করলেন কিন্তু কি করলেন , কতটা অর্জন হলো, কি আপনার ভুল ছিল তা যদি যাচাই না করেন তবে আপনার লক্ষ্য অজর্নে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনি কি করছেন, কেন করছেন, কিভাবে করছেন এবং এর ফলে আপনার প্রাপ্তি কি সেটি নির্ণয় করা আবশ্যক।

যেমন ধরুন কোন বিষয়ে আপনার লক্ষ্য ৫ বছরের মধ্যে শেষ করা। আপনি যদি কমপক্ষে আড়াই বছর পর কোন অবস্থানে আছেন, তা যাচাই না করেন তবে আপনার শতভাগ সফলতা অর্জন নাও হতে পারে। যদি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন তবে তাকে কেন্দ্র করে আপনার অগ্রগতি আপনি যে কোন সময় যাচাই করতে পারবেন।

৯। নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে সাহায্য করে

জীবনে চলার পথ সহজ ও কঠিন যেমন আছে, ঠিক একই ভাবে ভালো মন্দও তেমন আছে। আপনি কোন পথে নিজেকে পরিচালনা করবেন সেটি অবশ্যই আপনার বিবেচনা। মানুষ যখন কোন লক্ষ্য নির্ধারণ কওে কাজ করে চলে, সেক্ষেত্রে তার পদস্খলন হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, সৎ থাকার প্রবনতা তৈরী হয়।

১০। অনুপ্রেরণা প্রদান করে

অনুপ্রেরণা এমন শক্তি যা আপনাকে প্রতিনিয়ত সামনের দিকে এগিয়ে চলতে সাহায্য করে। কোন কাজে যখন আমার অন্যের উৎসাহ এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পাই, তখন আমাদের সেই কাজর প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায় এবং সুন্দর ফলাফল আসে।

অপর দিকে অনুপ্রেরণা ছাড়া লাগাতার কাজ বিরক্তির জন্ম দেয়। এখন বিষয় হলো অনুপ্রেরনা সবসময় বাইরের মানুষের থেকে পাওয়া যায় না।

পড়ুন – নিজেকে নিজেই অনুপ্রাণিত করুন (ইনফোগ্রাফিক)

আবার অনেকেই জানে না আপানর স্বপ্ন কি, কোন লক্ষ্যে আপনি এগিয়ে যাচ্ছেন ফলে তাদের পক্ষেও অনুপ্রেরনা দেওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু আপনার যদি লক্ষ্য নির্ধারিত থাকে, নিজেকে নিয়ে যে স্বপ্ন আপনি দেখছেন সেটি যদি পরিস্কার থাকে তবে নিজেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন।

যখন হাল ছেড়ে দিতে ইচ্ছে হবে তখন নিজের এতদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম, বুকের ভিতর তিল তিল করে লালন করা স্বপ্ন আপনাকে বলবে আরো চেষ্টা করি। লক্ষ্য আপনাকে প্রেষণা দিবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।

বলা হয়ে থাকে, লক্ষ্যবিহীন জীবন বৈঠাবিহীন নৌকার মতো যার পক্ষে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আসলেই বিষয়টি তেমন।

কোন কিছু পেতে হলে আপনাকে জানতে হবে আপনি কি পেতে চান। যখন আপনি জানবেন আপনি কি কি জীবনে নিজের জন্য চান, তখন সেই চাওয়াগুলো কেন্দ্র করে আপনার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।

যার ফলে লক্ষ্য অর্জন হবে এবং আপনি পাবেন আপনার কাংক্ষিত সফলতা। বিশ্বাস রাখুন নিজের উপর, জীবনে অনেক কিছু অর্জনের সম্ভাবনা আছে আপনার ভিতর। তাই জানুন আপনি কি চান এবং সেই ভাবে এগিয়ে যান। সফল হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।