লক্ষ্য নির্ধারণ কি, কেন করবেন এবং কীভাবে করবেন

লক্ষ্য নির্ধারণ

লক্ষ্য নির্ধারণ

আমাদের স্বপ্ন থেকেই আমাদের জীবনের লক্ষ্য তৈরি হয়। আপনি চাকরি করতে চান আর ব্যবসা করতে চান না কেন আপনার স্বপ্নই আপনার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে।

লক্ষ্য নির্ধারণ কি, কেন করবেন এবং কীভাবে করবেন ইত্যাদি বিষয় জানার আগে আমাদের নিজেদেরকে মূল্যায়ন করতে হবে। এখানে একটি বিষয় খুবই স্পষ্ট এই যে, ক্যারিয়ারের সফলতা একজনের কাছে এক এক রকম।

কেউ যদি ভালো একটি কোম্পানিতে চাকরি পায় তবে সে নিজেকে সফল মনে করে, আবার অনেকেই নামকরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে পারলে সফল মনে করে, কেউ আবার এই সকল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরি দিতে পারলে সফল মনে করে। সুতরাং আপনার কাছে ক্যারিয়ারের সফলতা কি তা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে।

লক্ষ্য বলতে আসলে কি বোঝায়?

আমরা স্বপ্নপ্রিয় মানুষ। স্বপ্ন দেখতে আমরা ভালবাসি। আমরা অনেকই দামী বাড়ি গাড়ির স্বপ্ন দেখি, নিজেকে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরুপে কল্পনা করি। আমরা ক্ষমতাবান হতে চাই, অন্যকে সাহায্য করতে চাই, নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি দেখাতে চাই, হাজারো মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করতে চাই। এই সকল বিষয় আমাদের স্বপ্ন ও কল্পনা।

তবে যখন এই স্বপ্ন ও কল্পনা থেকে নিদিষ্ট কোনো কিছুর আশা করব এবং সেই অনুযায়ী কাজ করব তাই হবে আমাদের লক্ষ্য।

যেমন; আমাদের স্বপ্ন- ধনী হতে পারা। এই ক্ষেএে আমাদের লক্ষ্য – ৫ বছরের মধ্যে ১ কোটি টাকার মালিক হওয়া। তারপরে আমাদের স্বপ্ন – কোনও একদিন আমি কোম্পানির মালিক হব! এই ক্ষেএে আমাদের লক্ষ্য- আগামী ডিসেম্বার মাসে নিজের কোম্পানি শুরু করব।

সুতরাং স্বপ্ন ও লক্ষ্যের মধ্যে সব চেয়ে বড় পার্থক্য হলো সময় নির্ধারণ করা এবং সুনিদিষ্ট করে কোনো কিছু চাওয়া।

আপনি একটু খেয়াল করলে দেখবেন, আমরা স্বপ্ন দেখতে ও কল্পনা করতে ভয় পাই না, কিন্তু আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করতে ঠিকই ভয় পাই।

এর পিছনে বেশ কিছু কারন থাকতে পারে তবে প্রধান কারন আমরা যা স্বপ্ন দেখি এবং কল্পনা করি তা বিশ্বাস করতে পারি না। আমাদের মধ্যে আত্নবিশ্বাসের ঘাটতি আছে।

আপনি যদি আপনার স্বপ্ন ও কল্পনার বাস্তবরূপ দিতে চান তবে অবশ্যই তা বিশ্বাস করতে হবে। আপনার লক্ষ্য কত কঠিন বা কত বড় তার থেকে বড় বিষয় আপনার লক্ষ্য অর্জনে কতটুকু বিশ্বাস আছে। আপনি যদি বিশ্বাস করেন আপনি পারবেন তাহলেই আপনি পারবেন।

কেন লক্ষ্য স্থির করবেন

যে কোনো মানুষ তখনই সফল হয় যখন যে মানসিক শান্তি পায়, আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে, অন্যের চোখে প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠতে পারে।

এই সফলতা অর্জন করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই একটি লক্ষ্য স্থির করতেই হবে। লক্ষ্য ছাড়া জীবন, সমুদ্রে নৌকা চালানোর মত। কোনো গন্তব্য ছাড়া শুধুমাএ ভেসে থাকা।

আপনি জীবনে যা হতে চান, যা কিছুর পাওয়ার জন্য স্বপ্ন ও কল্পনা করেন তা অর্জন করতে চাইলে লক্ষ্য স্থির করতে হবে।

আপনি যখন লক্ষ্য স্থির করতে পারবেন তখন লক্ষ্য নিজেই আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে, উৎসাহ দিবে  আপনার গন্তব্যে পৌঁছার জন্য।

লক্ষ্য নির্ধারণ করার উপায়

আপনি যা আপনার ব্রেনে একবার প্রবেশ করাতে পারবেন তাই অর্জন করতে পারবেন। লক্ষ্য নির্ধারণ করার সময় ৪টি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। আসুন জেন জেনে নেই কিভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন।

#১। লক্ষ্যকে আরোও সুনির্দিষ্ট করা। আপনি ধনী হতে চান এবং ৫ বছরের মধ্যে ধনী হতে চান এই বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। লক্ষ্যকে যত বেশী সুনির্দিষ্ট করতে পারবেন ততই অর্জন করা সহজ হবে।

#২। বাস্তব ও সময়ভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা। অবাস্তবত লক্ষ্য আপনাকে হতাশার দিকে ঠেলে দিবে। আপনার বর্তমানকে মুল্যায়ন করে বাস্তব ও সময়ভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। আরোও পরুন – লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাইলে নিজেকে নিজেই অনুপ্রাণিত করুন

#৩। লক্ষ্যকে ছোট করে ফেলা। বড় একটি লক্ষ্যকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করতে পারেন, এবং ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ ও অর্জন করতে পারলে একসময় বড় লক্ষ্যটি পূরণ হয়ে যায়।

#৪। লক্ষ্যের গুরুত্ব বুজে কর্মপরিকল্পনা সেট করা। আমাদের সময়ের গুরুত্ব দিতে হবে। আপনি যা অর্জন করতে চান এবং অর্জন করার ধাপগুলোর গুরুত্ব বুজতে হবে। বেশী গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আগে শেষ করা এবং তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ কাজটি পরে শেষ করতে হবে।