মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund) কী?

মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund) কী?

মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund) কী

মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund) কী

মিউচুয়াল শব্দ দ্বারা বোঝায় দুই বা ততোধিক ব্যাক্তির একটি গ্রুপ এবং ফান্ড দ্বারা বোঝায় একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত, সংগৃহীত বা প্রদান করা অর্থের পরিমাণ। একএে মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund) বলতে এক ধরনের যৌথ বিনিয়োগ স্কীমকে বোঝায়।

এটি এমন একটি ফান্ড যা আপনার টাকার সাথে অন্য বিনিয়োগকারীদের টাকা মিলিয়ে বড় একটি ফান্ড বানায়, এবং সেই ফান্ড বিভিন্ন শেয়ার, বন্ড বা অন্যান্য সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করে। মিউচুয়াল ফান্ড সাধারণত পোর্টফোলিও ম্যানেজার দ্বারা তত্ত্বাবধান করা হয় যা ব্যাক্তি পর্যায়ে একজন সাধারন বিনিয়োগকারীর পক্ষে সম্ভব নয়।

আমাদের দেশ সহ বিশ্বের নানা দেশে এই মিউচুয়াল ফান্ডের প্রচলন রয়েছে। ১৭৭২-১৭৭৩ সালের দিকে প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের প্রচলন শুরু হয়। ১৮৯০ -এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মিউচুয়াল ফান্ড চালু করা হয়। আমাদের দেশে এই ফান্ড ছাড়ার জন্য  বিএসইসির পূর্ব অনুমতির দরকার হয়। তাছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য একজন উদ্যোক্তা, একজন ট্রাস্টি, ফান্ড ম্যানেজার ও হেফাজতকারী দরকার হয়।

এদের সবার মিউচুয়াল ফান্ড রুলস মেনে চলার নির্দেশ আছে। একজন নতুন বিনিয়োগকারীর জন্য মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা উত্তম, কারন এতে রিস্কের পরিমাণ তুলনামূলক কম।

আপনি একটি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য জানতে জানতে হবে। আপনি কতটুকু ঝুঁকি নিতে পারবেন এবং কত দিনের জন্য বিনিয়োগ করতে পারবেন। মিউচুয়াল ফান্ড এর শেয়ারকে সাধারনত ইউনিট বলা হয়।

ধরে নেয়া যাক, একটি ইউনিটের ফেইস ভেল্যু ১০ টাকা এবং ফান্ডের আকার যদি ২০ কোটি টাকা হয় তাহলে ইউনিটের সংখ্যা হবে ২ কোটি। সংশ্লিষ্ট লেখাঃ কি কারনে নতুন বিনিয়োগকারী শেয়ার বাজারে লস খায়

আইন সম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান থেকে আইপিও এর মাধ্যমে টাকা উত্তেলন করে শর্তানুসারে শেয়ার বাজার ও আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করে থাকে। সাধারন কোম্পানির শেয়ারের থেকে মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ ঝুঁকি কম কারন মিউচুয়াল ফান্ডের পোর্টফোলিওতে ১০ থেকে ২০টি বা তার অধিক কোম্পানির শেয়ার থাকে।

মিউচুয়াল ফান্ডের যারা পরিচালনা করেন তারা সাধারনত দক্ষ হয়ে থাকলেও বর্তমানে অনেক মিউচুয়াল ফান্ডই ফেইস ভেল্যুর নিচে অবস্থান করছে। অনেকই ধারনা করছে সামনে দিন গুলিতে মিউচুয়াল ফান্ড করবে।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, লভ্যাংশ সবসময় ফেইস ভেল্যুর উপর প্রদান করা হয়। পেশাগত বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, সরকারি তত্ত্বাবধান, ঝুঁকি কম হওয়ার নতুন বিনিয়োগ মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে শেয়ার বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

বিনিয়োগ সংস্থা ইনস্টিটিউটের মতে, ২০১৬ সালের শেষে বিশ্বব্যাপী মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ৪১ ট্রিলিয়ন ডলার ছিল। যা এখন প্রায় ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।