ব্যবসা হউক সাফল্যের লক্ষ

ব্যবসা হউক সাফল্যের লক্ষ

ব্যবসা হউক সাফল্যের লক্ষ

ব্যবসা হউক সাফল্যের লক্ষ

প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই পৃথিবীতে পরিবর্তনের হাওয়া। বদলে যাচ্ছে রাজনীতি, সমাজনীতি, পালাচ্ছে অর্থনৈতিক ধারা। উন্নয়নের গতিধারা ক্রমবিকাশের এই উচ্ছাসতায় যোগ্যদেরই টিকে থাকা। নাগরিক কল্যানাথে প্রত্যাশা পূরণে সরকারি খাত ফলাফল দেখাতে হিমশিম খাচ্ছে। তদুপরি প্রয়াস অব্যাহত রেখে রাষ্ট্রযন্ত্র আস্তে আস্তে ঝুঁকে পড়ছে বেসরকারি খাতের দিকে। সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্যদের স্থানদিয়ে সরকারি খাত সমূহকে লাভজনক হিসেবে গড়ে উঠতে পারলে সম্পদের অংশীদার হতো সাধারন জনগন। রাষ্ট্র হয়ে উঠত সম্পদশালী।

 

সরকার বেসরকারি খাতকে কিছু সুযোগ সুবিধাসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করছে। ফলে দিনে দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।ব্যবসায়ীরা। অর্থনৈতিক চালিকা শক্তিতে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন তারা। ব্যবসায়ীদের আস্থায় নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও প্রিন্ট মিডিয়া  গুলিতে  প্রচার-প্রচারনার ফলে উৎসাহিত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। শিল্প কারখানার এই যুগে সকল প্রতিবন্ধকতা ও সমালোচনা পাশ কাটিয়ে প্রতিষ্ঠা পাক সফল ব্যবসায়ীরা।

 

ব্যবসায়ীদের ভুলে গেলে চলবে না যে তারা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নেয়ামক। সকল লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে অধিক মুনাফা অর্জনের অপকৌশল অবলম্বন থেকে দূরে থাকতে হবে। অবশ্যই ব্যবসায়ীরা মুনাফা করবে তবে সেই মুনাফা হবে সীমিত। ব্যবসায়ী দৃষ্টিভঙ্গি হবে মানবিক ও সুদূরপ্রসারী। ক্রেতার আস্থাভাজন ব্যবসাহিক সাফল্য, সুনাম ও সুখ্যাতি মাধ্যমে টিকে থাকাই ব্যবসায়ীর বৈশিষ্ট্য। অনেক ক্ষেত্রেই বেশি মুনাফা অর্জন করতে গিয়ে ক্রেতারা আস্থা হারিয়ে ঝরে যায় ব্যবসা থেকে। দোষ দেয়া হয় পারিপার্শ্বিকতার। খোঁজা  হয় নানাবিধ কারণ।  ক্রেতার আস্থা বিশ্বাস ভালবাসা অর্জনের মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী  থাকেন আজীবন।

 

ব্যবসা পবিত্র। ব্যক্তির কারণে হয়ে যায় অপবিত্র। পণ্যে ভেজাল, মাপে হেরফের, মানে নিন্ম, মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট তৈরি, ও  অতিরিক্ত মুনাফা লোভই অপকর্মের সামিল।  ক্রেতার কাছে একদিন না একদিন এই অপকর্ম ধরা পড়বেই। তখন তারা ওই ব্যবসায়ীর কাছে না গিয়ে লাইন ধরবে তাদের কাছে যারা সৎ বলে প্রমাণিত।

 

যে কোন ব্যবসা বা প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্ব থেকেই উদ্যোক্তাদের প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে নেয়া খুবই জরুরী। সম্ভাব্যতা যাচাই না করে ব্যবসা আরম্ভ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। লাভজনক প্রকল্প বাছাই, উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা নিরুপন, বাজারজাতকরণ, কাঁচামাল প্রাপ্তির সহজলভ্যতা,  সর্বোপরি পরিবেশগত দিক যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ীর সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হয়।

 

সম্ভাবনা করে তড়িঘড়ি করে ব্যবসা শুরু করলে নতুন নতুন সংকটের সৃষ্টি হতে পারে।  ব্যবসায় নিজেকে টিকে থাকতে হলে দেশি-বিদেশি উন্নয়নের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে।  প্রতিটি পণ্যের গুণাগত মান ও পণ্যের মূল্যের সামঞ্জস্যতা অপরিহার্য।

 

রাতারাতি করে বড় হওয়ার স্বপ্ন পরিহার করে আস্তে আস্তে ত্যাগ,  ধৈয্য, কঠোর পরিশ্রম ও সংযমের সাথে সৎভাবে এগুতে হবে। তবেই সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের ও দেশের জন্য কিছু করে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে। আর নয় মজুদ ও ফটকাবাজি। আমরা চাই সুখে-শান্তিতে থাকতে। দেশকে কিছু দিতে।  সুখ সেখানেই যেখানে নিজে কিছু পাওয়া যায় দেশকে কিছু দেয়া যায়।