পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা শুরু করতে চান? তাহলে আপনার জন্য কিছু পরামর্শ!

পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা শুরু করতে যা করতে হবে

পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা শুরু করতে চান

পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা শুরু করতে চান

প্রতি বছর উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন নিয়ে অনেক তরুণ গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে থাকে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ তরুণ ক্যারিয়ার গঠনের জন্য বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী চাকুরীকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তবে তাদের মধ্যে অনেকেই আবার উদ্ভাবক, প্রতিষ্ঠাতা, উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন লালন করে থাকেন।

তবে এই দু:সাহসিক শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসা ধারণা ও পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে চায়। ফলে অনেক সময় তারা তাদের দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন গুলো বাস্তবে রুপান্তরিত করতে পারে না। তাই এখানে আমরা পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা শুরু করার জন্য ধাপে ধাপে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে সে সম্পর্কে আলোচনা করবো। নিচে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

আবেগকে অনুসরণ করুন

প্রকৃতপক্ষে, উদ্যোক্তাদের আবেগই যে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে থাকে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আনন্দ ও পরিপূর্ণতার সহিত কাজ করতে আবেগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ যা করতে আপনি সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত হন সে ক্ষেত্রটি থেকে বাছাই করে একটি ব্যবসা নির্বাচন করতে হবে। একটি পরিপূর্ণ ক্যারিয়ার পেতে আপনার আবেগ তথা উৎসাহকে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরী।

গবেষণা করুন

আপনার নির্বাচিত ব্যবসা ধারণাটি দুর্দান্ত কিনা তা জানার একমাত্র উপায় হলো গবেষণা করা। এক্ষেত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে গবেষণার জন্য অধ্যয়ন করা জরুরী।

নেটওয়ার্কিং

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শক্তিশালী পেশাদার নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ের সাফল্য ও ব্যর্থতার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তাই যত দ্রুত ও যত বেশি মানুষের সাথে সম্ভব সংযোগ স্থাপন করুন। আর এ জন্য পড়াশোনা শেষ করার পরও সহপাঠী, প্রতিবেশী, পরিবারের সদস্য ও পরিচিত অন্যদেরকে কিছুতেই উপেক্ষা করা যাবে না।

প্রযুক্তি ব্যবহার করুন

বর্তমানে সকল উদ্যোক্তাই ব্যবসা শুরু, বিকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে থাকে। ব্যবসার কাজে প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে পড়াশোনা করা অবস্থাতেই আপনি একটি ওয়েবসাইট শুরু করতে পারেন।

পাশাপাশি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামও ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন ব্লগ সাইট ও অনলাইন ম্যাগাজিনের জন্যও লেখালেখি করতে পারেন। এর ফলে আপনি বেশ পরিচিত হয়ে উঠতে পারবেন। যা পরবর্তীতে আপনার ব্যবসার কাজে ব্যাপক ভাবে সহায়ক হবে।

যোগাযোগ দক্ষতা

যোগাযোগ দক্ষতা ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য একটি মৌলিক উপাদান। কিন্তু ব্যক্তি পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ অনেক শিক্ষার্থীর জন্যই চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাড়াঁতে পারে।

কারণ বর্তমানে তারা এমন এক আধুনিক পৃথিবীতে বসবাস করছে যেখানে যোগাযোগের ক্ষেত্র গুলো কেবল মাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইমেইল আর ম্যাসেজে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। তাই আপনাকে প্রযুক্তিগত যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

বিনিয়োগের জন্য খাত তৈরি করা

ব্যবসা শুরু করতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার পর পর বিনিয়োগের জন্য অর্থ যোগাড় করা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। তাই কিভাবে বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহ করবেন তা পড়াশোনা করা অবস্থাতেই পরিকল্পনা করে রাখুন। পাশাপাশি বিনিয়োগ সংগ্রহের সম্ভাব্য প্রতিটি ক্ষেত্র বিশ্লেষণ করুন।

অন্যদের সাথে নিজেকে তুলনা করবেন না

ব্যবসায় সফল হতে হলে অহংকারী মনোভাব পোষন না করে ব্যবসায় মনোযোগী হওয়া জরুরী। তাই ব্যবসা শুরু করার পর যদি দেখেন অন্যরা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক বেশি এগিয়ে গেছে তখন নিজেকে স্থির রেখে মনোযোগের সহিত ব্যবসা পরিচালনা করে যেতে থাকুন।