ব্যবসা ও চাকুরীর কয়েকটি সুবিধা এবং অসুবিধা

ব্যবসা ও চাকুরীর কয়েকটি সুবিধা এবং অসুবিধা

ব্যবসা ও চাকুরীর কয়েকটি সুবিধা এবং অসুবিধা

ব্যবসা ও চাকুরীর কয়েকটি সুবিধা এবং অসুবিধা

কোনটি ভালো- চাকুরী নাকি ব্যবসা? বহু দিন ধরেই এই বির্তক চলে আসছে এবং চলতেই থাকবে। অনেকেই মনে করেন যে কারো অধীনে চাকুরী করার চেয়ে ব্যবসা করাই উত্তম। আবার অনেকে মনে করেন ব্যবসার চেয়ে চাকুরীই ভালো। ব্যবসার ক্ষেএে যেমন কিছু খুঁটিনাটি বিষয় রয়েছে তেমনি চাকুরীর ক্ষেএেও। তাই বির্তক চলবেই। এখানে আমরা ব্যবসা ও চাকুরীর কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করব। নিচে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

নিজের ব্যবসা শুরু করার সুবিধা

১. আপনার রাজত্ব আপনার নিয়ম

অন্য কারো অধীনে চাকুরী করলে আপনি সীমাবদ্ধতা অনুভব করতে পারেন। কিন্তু নিজের ব্যবসা শুরু করলে সকল দায়িত্ব আপনার হাতেই ন্যাস্ত থাকবে। তাই সীমাবদ্ধতা অনুভব করার কোন সুযোগ নেই। ব্যবসা আপনাকে আপনার পছন্দ মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিবে।

তাছাড়া ব্যবসা শুরু করলে আপনি নিজেই সকল কৌশল নির্ধারণ করতে পারবেন। ব্যবসা আপনাকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী কাজের সময় নির্ধারণ করার ক্ষমতা প্রদান করবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সময়ে পরিবারের বিভিন্ন বিষয় গুলোও উপভোগ করতে পারবেন।

২. আপনার কঠোর পরিশ্রম আপনাকে সফলতা প্রদান করবে

নিজের ব্যবসা শুরু করার সবচেয়ে বড় কারণ হলো কর্পোরেট সেক্টরে আমরা যে কঠোর পরিশ্রম করি তার বিনিময়ে আমাদেরকে যথাযথ পুরস্কার প্রদান করা হয় না। কিন্তু নিজের ব্যবসার ক্ষেএে যদি কঠোর পরিশ্রম করা যায় তাহলে তার ফল আপনি নিজেই ভোগ করবেন। একটি ব্যবসার মালিক হতে পারলে ভবিষ্যতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

৩. নিরাপদ কর্ম

কর্পোরেট সেক্টরের কর্মীদের চাকুরীর কোন গ্যারান্টি নেই। যে কোন কারণে যে কোন সময় তাদেরকে বহিষ্কার করা হতে পারে। কিন্তু আপনার নিজের ব্যবসায় আপনি নিজেই আপনার নিজেকে নিয়োগ করবেন। ফলে আপনার চাকুরী হারানোর কোন ভয় থাকবে না।

৪. মানসিক ভাবে নিরাপদ ও সন্তুষ্ট হতে পারবেন

আপনি যা করতে চান তা করার জন্য যদি আপনি সক্ষম হন তাহলে আপনি নিজের উপর সন্তুষ্ট হতে পারবেন। সেক্ষেএে আপনার ব্যবসাটির প্রতি আপনার সর্বোচ্চ আবেগ থাকবে। এ কারণে ইচ্ছা না থাকলেও আপনার আবেগই আপনাকে জাগ্রত করবে।

আপনি সব সময়ই আপনার কর্ম সম্পর্কে উৎসাহিত থাকতে পারবেন। তাছাড়া অতিরিক্ত আবেগ থাকার ফলে আপনি আপনার গ্রাহকদেরকে প্রভাবিত করতে পারবেন। পাশাপাশি আপনি মানসিক ভাবেও প্রশান্তি লাভ করতে পারবেন।

৫. সব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন

একজন কর্পোরেট কর্মী হিসেবে আপনি আপনার সব অভিজ্ঞতা অর্জন করার সুযোগ পাবেন না। আপনি কেবল সংশ্লিষ্ট কাজের সাথে জড়িত অভিজ্ঞতাটিই অর্জন করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনার কাজ যদি হয় কোন কোম্পানীর পণ্যের বিপণন পরিচালনা করা তাহলে আপনি কেবল একটি মার্কেটিং টিমের সাথে কাজ করার সুযোগ পাবেন। অপরদিকে আপনি যদি একটি ব্যবসার মালিক হন তাহলে যে কোন দিক থেকে সব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।

৬. কোন পেমেন্ট সমস্যা থাকবে না

একজন চাকুরীজীবী হিসেবে আপনাকে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির জন্য সফল ভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এক্ষেএে যদি আপনি প্রমোশন না পান তাহলে বেতন বৃদ্ধির কোন সম্ভাবনা নেই। কিন্তু আপনি যদি একটি ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনি কেমন কাজ করছেন তার উপর নির্ভর করে আপনার আয় বৃদ্ধি পাবে। যতদিন আপনার ব্যবসা থাকবে ততদিন ক্রমান্বয়ে আপনার আয় বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আজকাল যে ১০ টি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় তা পড়ুন এখানে

নিজের ব্যবসা শুরু করার অসুবিধা

১. ঝুকিঁ

নিজের ব্যবসা স্থাপন করার সাথে সাথে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ আসতে শুরু করে। আর এই কারণেই অনেকেই ব্যবসার চেয়ে চাকুরীকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আপনার নিজের ব্যবসা শুরু করলে আপনার বিনিয়োগকৃত অর্থের সব হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। ব্যবসায় সফল না হতে পারলে উদ্যোক্তা হিসাবে আপনার কাধেঁ বিশাল চাপ পড়তে পারে।

২. অর্থনৈতিক বিনিয়োগ

যে কোন ব্যবসা শুরুর পূর্বে আপনাকে একটি মূলধন জোগাড় করতে হবে। যা দ্বারা আপনি আপনার ব্যবসার সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন। আর এ জন্য যদি ঋণ গ্রহণ করেন তাহলে তা মারাতœক ঝুকিঁপূর্ণ হতে পারে। কারণ আপনার ব্যবসার শুরুতেই আপনি মুনাফা আয় করতে পারবেন না। তখন এই ঋণ আপনার ব্যবসায় আর্থিক বোঝা হয়ে দাড়াঁতে পারে।

৩. আপনি লাভজনক আয় নাও পেতে পারেন

ব্যবসা শুরু করে আপনি অবিলম্বে বা অবিরাম ভাবে উন্নতি করতে পারবেন এমন কোন গ্যারান্টি নেই। আপনাকে প্রতিনিয়ত উথান পতনের সম্মুখীন হতে হবে। তাছাড়া আপনি দেউলিয়াও হয়ে যেতে পারেন। পাশাপাশি যদি আপনার ঋণ থাকে তাহলে আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যায় পতিত হতে হবে।

৪. স্বাধীন ভাবে কাজ করার পরিবর্তে অতিরিক্ত কাজ করতে হতে পারে

আপনার ব্যবসা থেকে আপনি যখন ইচ্ছা স্বাধীন ভাবে ছুটি নিতে পারেন। এই ব্যাপারে আপনাকে বাধা দেওয়ার কেউ নেই। অপরদিকে আপনার ব্যবসার উন্নতির জন্য আপনাকে বিনামূল্যে অতিরিক্ত সময়ও কাজ করতে হতে পারে।

কর্পোরেট চাকুরীর সুবিধা

১. প্রকাশ নমনীয়তা

কর্পোরেট সেক্টর বৈচিত্র্যপূর্ণ। বিভিন্ন প্রকল্প ও অসংখ্য পোস্ট শ্রমিকদেরকে বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করে দেয়। এখানে একজন কর্মী একই বিভাগে বিভিন্ন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। তাছাড়া কর্পোরেট কোম্পানী গুলো যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সেরা প্ল্যাটফর্ম।

২. যে কান স্থান থেকে কাজ করার সুযোগ

কর্পোরেট চাকুরী গুলোতে পূর্বে কাজের কঠিন সময়সূচী নির্ধারিত ছিলো। তাছাড়া কাজের ধরণ সম্পর্কিত অনেক বিধিনিষেধও ছিলো। কিন্তু বর্তমানে কর্পোরেট সেক্টর গুলোতে বিভিন্ন অবস্থান থেকে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে কর্মীরা বাড়ি অথবা অন্য কোন উপযুক্ত স্থান থেকে কাজ করতে পারছেন। যা সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটিকে অত্যন্ত নমনীয় করে তুলেছে।

৩. উপকারী নীতি ও বোনাস

আপনি যদি বস না হয়ে থাকেন তবুও কর্পোরেট চাকুরী গুলোতে আপনি আপনার কঠোর ও সৎ কাজ গুলোর জন্য স্বীকৃতি পেতে পারেন। যদিও এখানে নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি পাবে না তবে মাসের একটি নির্দিষ্ট তারিখে আপনার বেতনটি আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে। তাছাড়া কোম্পানী তাদের কর্মীদের কাজের উপর নির্ভর করে ও কোম্পানীর সফলতার জন্য তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের বোনাস প্রদান করে থাকে।

৪. গ্রুপ প্রকল্প ও টিম ওয়ার্ক

গ্রুপ প্রকল্প গুলোতে সাধারণত কোম্পানীর বেশির ভাগ কর্মীরা কাজ করে থাকে। কোম্পানীর যে কোন বিশাল প্রকল্পের কাজই গ্রুপ ভিত্তিক হয়ে থাকে। এর ফলে কোম্পানীর প্রতিটি কর্মী সামনে আসার, নেতৃত্বের দক্ষতা ও দলবদ্ধ দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পায়।

কর্পোরেট চাকুরীর অসুবিধা

১. স্বাস্থ্যকর কর্ম পরিবেশের অভাব

বড় কোম্পানী গুলো তাদের বাজার ধরে রাখতে ও শীর্ষ অবস্থান বজায় রাখতে কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে যায়। আর বাজারের কঠিন প্রতিযোগীতার কারণে কর্মীদেরকে পারিবারিক অনুভূতি গুলো থেকে দিন দিন দূরে সরে যেতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগীতামূলক মনোভাবের পরিবর্তে নিছক অস্বাভাবিক প্রতিযোগীতা অব্যাহত রাখতে হয়।

প্রতিটি কর্মীকেই স্বীকৃতি অর্জনের জন্য বা প্রমোশনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। এর ফলে কোম্পানীতে নোংরা রাজনীতির সৃষ্টি হয়। তাছাড়া প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয় বলে তা কর্মীদের মনোবলে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুকিঁপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

২. তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অসম্ভব

যে কোন প্রকল্পের জন্য আপনার একটি অসাধারণ ধারণা থাকতে পারে। তবে চাকুরীর ক্ষেত্রে যে কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আপনাকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে।