ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছাড়া যেভাবে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করবেন

ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছাড়া  ব্যবসা

ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যবসা

ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যবসা

ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছাড়া যে কোন ব্যবসা শুরু করাই কঠিন। তবে শুরু করতে পারলে আপনার নির্ধারিত ব্যবসাটি ফলপ্রসূ হয়ে উঠতে পারে। অধিকাংশ মানুষই জীবনের কোন না কোন সময়ে ব্যবসা শুরু করার কথা চিন্তা করে থাকে। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে তা শুরু করা সম্ভব হয়ে উঠে না।

প্রকৃতপক্ষে শুরু করাই সব চেয়ে চ্যালেঞ্জের বিষয়। নিচে কিছু দিক নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করা হলো, যা অনুসরণ করলে সহজেই ব্যবসায় সফল হওয়া যায়।

ব্যবসা পরিকল্পনা তৈরি করুন

একটি ব্যবসার পরিকল্পনাতে ব্যবসার প্রতিটি দিক বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করতে হয়। সেখানে বাজেট থেকে শুরু করে গ্রাহক কারা হবে এবং কি করে গ্রাহকদের নিকট সেবা পৌছাঁনো হবে সব কিছু বিস্তারিত বর্ণনা করতে হয়।

ব্যবসার পরিকল্পনায় আপনার কোম্পানীর আনুষঙ্গিক খরচ, শ্রম সময়, বিক্রয় প্রক্রিয়া ইত্যাদিও সংযুক্ত করুন। এক্ষেত্রে সকল তথ্য সংরক্ষণের জন্য স্প্রেডশীট ব্যবহার করুন।

আপনার গ্রাহকদের ভিত্তি সংজ্ঞায়িত করুন

আপনার টার্গেটকৃত গ্রাহকদের দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার উৎপাদিত পণ্যটি বিশ্লেষণ করুন। পাশাপাশি তাদের কি প্রয়োজন এবং তারা কি চায় তাও জানার চেষ্টা করুন। আপনার গ্রাহকদের ভিত্তি কি হওয়া উচিত তা জানার চেষ্টা করুন।

অর্থাৎ তারা কেন আপনার পণ্য বা সেবা ক্রয় করবে তা আপনাকে বুঝতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিযোগীতামূলক গ্রাহক ভিত্তি নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরী।

গ্রাহক প্রবণতা গুলো নিয়ে গবেষণা করুন

সম্পূর্ণ নতুন পণ্য বা প্রবণতা গুলো সনাক্ত করতে হলে আপনাকে প্রচুর হোমওয়ার্ক করতে হবে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকরা কি ধরনের পণ্যের প্রতি সবচেয়ে বেশি ঝুকঁছে তা সনাক্ত করতে হলে আপনাকে হোমওয়ার্ক করতে হবে।

নতুন প্রচলিত প্রবণতা গুলো সনাক্ত করতে পারলে তা গ্রাহকদেরকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে। উদাহরণস্বরুপ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বর্তমানে যা মানুষকে যোগাযোগের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে।

এক্ষেত্রে নতুন প্রবণতা গুলো শনাক্ত করতে আপনি স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে পারেন। তাছাড়া বাড়িতে বসে পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও বই পড়েও কিছু ধারণা নিতে পারেন।

প্রতিযোগীতা নিয়ে গবেষণা করুন

ব্যবসা শুরুর পূর্বে আপনার প্রতিযোগীতা নিয়ে গবেষণা করুন। কিছুতেই প্রতিযোগীতাকে উপেক্ষা করবেন না। প্রতিযোগীদেরকে হুবহু অনুসরণ না করে তাদের কাছ থেকে শিখুন।

আপনার পণ্য বা সেবার মূল্য নির্ধারণের সময় প্রতিযোগীরা কি পরিমাণ চার্জ করেছে তা যাচাই করুন। তাছাড়া আপনার পণ্যটিতে এমন কি রয়েছে যা প্রতিযোগীদের পণ্যে নেই তাও জানার চেষ্টা করুন। আর এটি নির্ধারণ করতে পারলে আপনার পণ্যটিকে অনন্য হিসেবে সহজেই গ্রাহকদের নিকট পরিচয় করাতে পারবেন।

কম খরচ

খরচের ব্যাপারে আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে এবং যতটা সম্ভব খরচ কমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে। যদি আপনি খরচ কমিয়ে রাখতে পারেন তাহলে আপনি অধিক মুনাফা লাভ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে খরচ কমিয়ে রাখার স্বার্থে আপনি ফোন বিল ও মৃদ্রণ খরচ গুলোর প্রতিও প্রখর দৃষ্টি রাখুন।

আরো পড়ুনঃ নিজের ব্যবসায় নিজের বেতন নেওয়া উচিত?

খরচ কমাতে কোথায় কি ধরনের খরচ হতে পারে সে সম্পর্কে আগেই ভাল ভাবে জানার চেষ্টা করুন।

আপনার মুনাফা আয় নির্ধারণ করুন

প্রতিটি লেনদেনে আপনি কি পরিমাণ মুনাফা আয় করতে চান তার একটি পরিমাণ নির্ধারণ করুন। উদাহরণস্বরুপ, কোন পণ্যের বিক্রয় মূল্য ১০০ টাকা।

আর পণ্যটি উৎপাদন বাবদ খরচ ৭৫ টাকা। তাহলে উক্ত পণ্য থেকে আপনি ২৫ টাকা মুনাফা আয় করেছেন। এক্ষেত্রে মুনাফা হিসাব নিকাশ করার জন্য অনলাইন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।

ঋণের উপর খুব বেশি নির্ভরশীল হবেন না

 

ঋণের উপর নির্ভরশীল হয়ে ব্যবসা শুরু করলে তা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাছাড়া আপনার মুনাফা আয়ের বেশির ভাগই ঋণ পরিশোধ করতে খরচ হয়ে যাবে।

তাই যতটা সম্ভব আপনার নিজের টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করুন। সম্ভব না হলে আপনার ব্যবসার ঝুকিঁ শেয়ার করবে এমন বিনিয়োগকারী বা অংশীদার খুজেঁ নিতে পারেন।

অবস্থান

আপনি কি ধরনের পণ্য বা সেবা বিক্রয় করবেন তার উপর নির্ভর করে আপনার ব্যবসার স্থানটি নির্ধারণ করা জরুরী। তবে স্থানটি নির্ধারণের সময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে তা নির্ধারণ করতে হবে। কারণ যে কোন ব্যবসায় সফল হতে হলে সে ব্যবসার অবস্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বেশির ভাগ ব্যবসার জন্যই প্রচুর লোক সমাগম হয় এমন স্থান নির্ধারণ করতে হয়। তাই জনসংখ্যাতত্ত্ব অধ্যয়ন করে প্রচুর গ্রাহক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন স্থান নির্ধারণের চেষ্টা করুন।