যেভাবে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করবেন

যেভাবে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করবেন

বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট

বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট

আজকে আমরা বায়োগ্যাস কি, কিভাবে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বানাতে হয়, সুবিধা ও যত্ন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব।

বায়োগ্যাস কি?

বাতাসের অনুপস্থিতিতে গোবর ও অন্যান্য পচনশীল পদার্থ পচনের ফলে যে বর্ণহীন জ্বালানী গ্যাস পাওয়া যায় তাকেই বায়োগ্যাস বলে। সাধারনত ৭০ ভাগই মিথেন থাকায় এই গ্যাস জ্বলে। বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বানাতে ৪০/৫০ হাজার টাকা খরচ হয়।

বায়োগ্যাসের ব্যবহার করা গোবর পরবর্তীতে উন্নতমানের সার হিসাবে ব্যবহার করা যায়। বড় একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে ২০ থেকে ৩০ চুলা, লাইট চালানো যায়। এছাড়া মহিশ, ছাগল, হাঁস-মুরগি থেকেও বায়োগ্যাস পাওয়া গেলেও গরুর গোবর থেকে সব থেকে বেশী গ্যাস পাওয়া যায়।

বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট সাধারনত দুই রকমের বানানো যায়। যথা – ভাসমান ডোম মডেল ও স্থিরডোম মডেল। ভাসমান ডোম মডেলে খরচ বেশী হওয়ায় স্থিরডোম মডেল বেশী জনপ্রিয়। স্থিরডোম মডেল ছিদ্রহীনভাবে বানাতে পালে টানা ৩০ বছর ঠিকে থাকতে পারে।

৫/৬ টি গরুর গোবর থেকে মাঝরী আকারের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বানিয়ে ৭/৮ জনের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস পাওয়া যায়।  প্ল্যান্ট সাধারনত শুষ্ক ও উচু স্থানে বানাতে হবে। খাল বা পুকুরের পাশে না বানানোই উত্তম।

যেভাবে স্থিরডোম মডেল বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করবেন

স্থিরডোম মডেল বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের জন্য প্রথমে ৮ ফুট ব্যাসের ৮ ফুট গর্ত বিশিষ্ট একটি কুয়া খনন করতে হবে। কুয়ার তলার ন্যায় অবতল হতে হবে। কুয়ার তলদেশে ৩ ইঞ্চি পুরু ইটের সোলিং করে উপরিভাগ ২” পরিমাণ ঢালাই করে দিতে হবে।

ঢালাইয়ের উপর থেকে ইট গাঁথা শুরু করতে হবে। গাথুনী যখন ১০’’ উঁচু হবে তখন কুয়ার এক পাশে গোবর ঢোকানের পথ (৮’’*১০’’) ও অন্য পার্শ্বে প্লান্টের অভ্যন্তরের চাপ নিয়ান্ত্রনের জন্য একটি ৬০*৩০ ফাঁকা স্থান রাখতে হবে একটি প্রকোষ্ঠের সঙ্গে উন্মুক্ত থাকবে।

গোবর ঢোকানের জন্য ৬” ব্যাসের একটি আর,সি,সি পাইপ কুয়ার দেওয়ালের সাথে ৩০ ডিগ্রী কোনাকুনি ভাবে স্থাপন করে ঢালাই দ্বারা ফাঁকা স্থান বন্ধ করে দিতে হবে।

ইটের সোলিং করে গম্বুজ আকৃতির ডোম বানাতে হবে, যেন কুয়ার তলা থেকে ডোমের ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা ৮ ফুট হয়। ডোমের ঠিক মধ্য স্থানে গ্যাস বের হওয়ার জন্য একটি গ্যাস বাল্বযুক্ত জি আই পাইপ স্থাপন করতে হবে। ডোমের ভিতর ও বাইরে এমন ভাবে প্লাস্টার করতে হবে যেন পানি না চোয়ায়।  পড়ুন – দুগ্ধ খামার স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন

বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস ব্যবহারের নিয়ম

গ্যাস নির্গমনের পাইপের সঙ্গে প্লাস্টিক অথবা জি আই পাইপ সংযুক্ত করে চুলা বা লাইট পর্যন্ত সংযোগ দিতে হবে। প্লান্টে যেহেতু পানি থাকে তাই সরবরাহ প্লান্টে পানি জমতে পারে। যদি গ্যাস নির্গমন পাইপের সাথে সরবরাহ লাইন ৫ থেকে ৬ ফুট উচু করে বেঁধে রাখার ব্যবস্থা করা যায় তবে লাইনে পানি জমার সম্ভবনা কম থাকে। গ্যাসের চাপ ধরে রাখার জন্য প্রতিদিন গোবর দিতে হবে। না দিলে গ্যাস উৎপাদন কমে যাবে।

প্রয়োজনীয় উপাদান

১০৫ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনক্ষম স্থিরডোম মডেলের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণের উপকরন নিন্মরুপঃ

১. ইট – ১১০০টি

২. সিমেন্ট – ১২ বস্তা

৩. বালি – ৫০ ঘনফুট

৪. আর সি সি পাইপ – ১২ ফুট

৫. গ্যাস বাল্ব – ১টি

৬. সরবরাহ পাইপ

৭. মোম – ২ কেজি

৮. শ্রমিক

৯. অন্যান্য

বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের যন্ত

  • গোবর ও পানি দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন ইট, কাঠ, লোহাঁ, পাথর বা অন্য কিছু ভিরতে না ঢুকে।
  • গ্যাস হোল্ডারটি দিনে কয়ের বার দিনে নাড়াচাড়া করে দিতে হবে।
  • গোবর ঢোকানোর রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে লম্বা বাঁশ দিয়ে আস্তে আস্তে পরিস্কার করে দিতে হবে।
  • গ্যাস হোল্ডার বছরে একবার বের করে পরিষ্কার করে শুকিয়ে লাগাতে হবে।