বাংলাদেশে শিক্ষিত নাগরিক বেশি থাকলেও উদ্যোক্তার অভাব কেন

বাংলাদেশে উদ্যোক্তার অভাব কেন

বাংলাদেশে শিক্ষিত নাগরিক বেশি থাকলেও উদ্যোক্তার অভাব কেন

বাংলাদেশে শিক্ষিত নাগরিক বেশি থাকলেও উদ্যোক্তার অভাব কেন

World Bank এর Doing Business Index ২০২০ সালে বাংলাদেশ ১৯০টি দেশের মধ্যে ১৬৮তম নাম্বারে আছে। এর মানে হচ্ছে বাংলাদেশের থেকে ১৬৭ দেশ এগিয়ে আছে যেখানে ব্যবসা শুরু তুলনামূলক সহজ। এই লিস্টে ১ নাম্বারে আছে নিউজিল্যান্ড এবং ১৯০ তম নাম্বারে আছে সোমালিয়া।

আমাদের দেশে শিক্ষিত নাগরিক সংখ্যা বাড়লেও উদ্যোক্তা হওয়ার মিছিলে আমরা বেশ পিছিয়ে। আজকের এই সংক্ষিপ্ত আর্টিকেলে আমি আপনার সাথে বাংলাদেশে শিক্ষিত নাগরিক বেশি থাকলেও উদ্যোক্তার অভাব কেন তার কিছু কারন তুলে ধরার ইচ্ছা প্রকাশ করছি।

১। দক্ষতার অভাব (lack of entrepreneurial skills)

উদ্যোক্তা হতে চাইলে আমাদের কিছু দক্ষতা অর্জন করতেই হবে এবং এই দক্ষতা আমাদের অল্প বয়স থেকেই অর্জন করতে হবে।

আমাদের পাঠ্যবইয়ে উদ্যোক্তা বিষয়ে যতটুকু পড়ানো হয় তা খুবই সীমিত, তাছাড়া যা বইতে থাকে তা সব আমরা পড়ি না, পরীক্ষায় যা আসতে পারে তাই শুধু সাজেশন আকারে পড়ি। এর চেয়ে বড় বিষয় আমরা শুধু মাএ পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাওয়ার জন্য সেইগুলো শুধু মুখস্থ করি।

উদ্যোক্তা কাকে বলে, উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি বিষয়গুলো আমাদের যদি হাতে কলমে ব্যবহারিক কোন শিক্ষা দেওয়া যেত হবে অনেকটাই কাজে আসত।

তাই এই পুথিগত বিদ্যা আমাদের বাস্তবিক জীবনে উদ্যোক্তা বানাতে পারে না। পড়ুন – তরুণ বয়সে উদ্যোক্তা হতে হলে থাকতে হবে ৪টি দক্ষতা

২। সামাজিক অবস্থা। (social misconceptions)

আমাদের সমাজে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জজ, ব্যারিস্টার, সরকারী চাকরি, বড় কোম্পানিতে চাকরি ইত্যাদি পেশাকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করা হয়। যা আপনার আমার উদ্যোক্তা হওয়া স্বপ্নকে গলা টিপে মেরে ফেলে।

কিন্তু আমরা এই চিন্তা করি না, উদ্যোক্তা হতে পারলে সব পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা যায়।

যেমন ধরুন, আপনি যদি একটি হাঁসপাতাল বানাতে পারেন তবে সাধারন মানুষদের সেবা প্রদান করতে পারবেন এবং সেই সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে আপনি শ’খানেক ডাক্তারের চাকরি দিতে পারবেন।  

৩। ব্যবসা শুরু করার জটিলতা। (The complexity of starting a business)

যে কোন ব্যবসা শুরু করার আগে নানা ধরনের অনুমতি বা লাইসেন্স লাগে যা পেতে হলে অনেক সংগ্রাম করতে হয়।

সত্যি সত্যি বলতে কি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র, ট্যাক্স প্রদান, ব্যাংক লোন বা সরকারি সহায়তা এসব বিষয়ে নির্ভুল তথ্য পাওয়ার কোন প্রতিষ্ঠান তেমন গড়ে উঠে নাই।

৪। যথেষ্ট ফান্ড না থাকা। (Not having enough funds)

আপনি যেই ব্যবসাই শুরু করতে চান কেন, আপনার কিছু টাকার দরকার হবে। টাকা পাওয়ার সহজ রাস্তা আমাদের পরিবার, পরিবার থেকে যদি আপনি টাকা না পান তাহলে যেতে হবে ব্যাংকের কাছে।

আর একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসাবে ব্যাংক লোন পাওয়া যথেষ্ট জামেলার এবং ব্যয়বহুল। ব্যাংকের লোন যদি ১০% হয়, তবে আপনাকে আপনার ব্যবসা থেকে মিনিমাম ২০% প্রফিট করতেই হবে, এর পরে সকল খরচ বাদ দিয়ে হয় সমান সমান না হয় লস।

তাই যথেষ্ট ফান্ড না থাকা আমাদের উদ্যোক্তা হওয়ার রাস্তায় বড় বাঁধা। আরো পড়ুন – তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে সফল হওয়ার ৯টি কার্যকারী উপায়

৫। ঝুঁকি না নেওয়ার প্রবণতা। (Tendency not to take risks)

আমারা সবাই জীবনে অনেক বড় হতে চাই, কিন্তু বেশীর ভাগই মানুষই ঝুঁকি নিতে চাই না।

আমরা টাকা আয় করার একটি নিশ্চয়তা চাই, ফলে আমাদের গন্তব্য সরকারি বা বেসরকারি চাকরি খোঁজা।

আমরা এইটা ভাবি না যে, আমাদের কাজে লাগিয়ে অন্য কেউ ঠিকই ব্যবসা করছে, তারা আমাদের চাকরি দিয়ে ঝুঁকি নিয়েছে এবং এর বিনিময়ে তারা  আমাদের বেতন দেওয়ার পরও আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রফিট করছে। তাই শিক্ষিত নাগরিক বেশী থাকলেও উদ্যোক্তার বড় অভাব।

ধন্যবাদ! – কে এম চিশতি সিয়াম – ইউটিউব