বক্তৃতা দেওয়া শিখতে হবে

বক্তৃতা দেওয়া শিখতে হবে

বক্তব্য দেওয়া শিখতে হবে

বক্তব্য দেওয়া শিখতে হবে

বক্তৃতা দেওয়া মানে সাহসী উচ্চারণ, বক্তৃতা মানে অন্যকে অনুপ্রাণিত করা, এটি একটি শিল্প এবং এটি একটি শিক্ষার অংশবিশেষ। আপনি কি বলছেন তা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আপনি কিভাবে বলছেন তা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

 

আপনার জীবনে প্রথম বক্তৃতা আর ১০০ তম বক্তৃতার মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য থাকবে। একজন সফল ব্যক্তি হিসাবে আপনাকে অবশ্যই বক্তব্য দেওয়া শিখতেই হবে। অনেকের মধ্যে একটি ধারনা থাকতে পারে যে বক্তৃতা দিতে হলে অনেক শিক্ষিত হতে হয়, আসলে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। আপনি যা বলছেন তা অন্যরা বুজতেই পারলে চলবেন।

 

বক্তৃতা দেওয়া একটি দক্ষতা যা ধীরে ধীরে উন্নত করা যায়।

আপনি যত বেশী প্রাকটিজ করবেন তত বেশী এই দক্ষতার উন্নতি ঘটাতে পারবেন। এর মানে এই না যে নির্ভুল কিছু চোখা কথা, কিছু মজার উদাহরন লিখে ও মুখস্থ করে বক্তৃতা দিবেন।

 

বিশ্বাস করুন কারো সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলা কোন কঠিন কাজ না। আপনার চিন্তা ভাবনা, ধ্যান ধারনা, মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি, আবেদন ইত্যাদি উপর ভিত্তি করে কথা গুলো একটু গুছিয়ে বলুন, এতেই হয়ে যাবে।

 

আপনার মধ্যে প্রতিভা আছে, আপনার মধ্যে অভিজ্ঞতা আছে, কোন কিছু অনুভব করার শক্তি রয়েছে, এই সবই আপনার সম্পদ। বক্তৃতা দেওয়ার সময় আপনার এই সম্পদগুলো ব্যবহার করতে হবে।

 

তবে আপনাকে সব সময় মনে রাখতে হবে আপনি একাই জ্ঞানী নন। যখন বক্তৃতা দিবেন তখন আপনার সামনে বসে থাকা অনেকই আপনার চেয়ে জ্ঞানী থাকতেই পারে। তাই এমন কোন কথা বলা যাবে না যা দ্বারা আপনি মিথ্যুক প্রমানিত হন। আপনার কথায় বিনয়ী সুর থাকতে হবে। আপনাকে মনে করতে হবে আপনার সামনে উপস্থিত প্রতিটি মানুষই আপনার জন্য মূল্যবান।

 

আপনি একজন সুন্দর মনের মানুষ তা আপনার কথায় ফুটিয়ে তুলতে হবে। কখনই বক্তৃতা দেওয়ার সময় অন্যকে নিয়ে সমালোচনা করবেন না। কথার মাধ্যমে অন্যকে সন্মান দিতে হবে তাহলে নিজেও সন্মানিত হওয়া যায়।

 

আপনি যা বলতে চান তা আগেই ঠিক করে রাখুন, অর্থাৎ আপনার কথার সামারি কি হবে তা ঠিক করে রাখুন। এর পর কথাগুলো যতটা সম্ভব স্পষ্ট ও সুন্দর করে বলার চেষ্টা করুন। আপনি যদি অল্প কথায় আপনি যা বলতে চান তা বুজাতে পারেন তবে বেশী কথা বলবেন না।

 

সাধারনত ৫ মিনিটের মধ্যে শ্রোতাগন তাদের মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। তাই আপনার মূল কথাগুলো এই সময়ের মধ্যে একটা সামারি করতে পারেন। কথা বলার সময় আস্তে আস্তে করে সামনে থাকা সকল শ্রোতাদের দিকে থাকাতেন পারেন, কেননা এক দিকে তাকিয়ে কথা বললে অন্য শ্রোতারা সহজেই মনোযোগ হারিয়ে ফেলে।

 

আপনি যেখানেই বক্তৃতা দিতে যান না কেন, সময়ের দিকে খেয়াল করতেই হবে এবং সেই সময়ের মধ্যে নিজের সেরাটা দিতে হবে। দরকারে আপনার জন্য নির্ধারিত সময়ের আগেই বক্তৃতা শেষ করুন কিন্তু বক্তৃতা লম্বা করবেন না।

কে এম চিশতি সিয়াম // ইউটিউব লিঙ্ক 

আরো পড়ুন –