পার্টনারশীপ ব্যবসা কি? পার্টনারশীপ ব্যবসায় সুবিধা ও অসুবিধা কি কি

পার্টনারশীপ ব্যবসা – সুবিধা ও অসুবিধা

পার্টনারশীপ ব্যবসা কি পার্টনারশীপ ব্যবসায় সুবিধা ও অসুবিধা কি কি

পার্টনারশীপ ব্যবসা কি পার্টনারশীপ ব্যবসায় সুবিধা ও অসুবিধা কি কি

পার্টনারশীপ ব্যবসা শুরু করা সহজ তবে ধরে রাখা কঠিন। যখন কোন ব্যবসা দুই বা তার ততোধিক সমমনা ব্যক্তির মাধ্যমে গঠিত হয় তখন তাকে অংশীদারী বা পার্টনারশীপ ব্যবসা বলা হয়ে থাকে। একে অপরের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস, আস্থা এবং শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে পার্টনারশীপ ব্যবসা শুরু করা যাবে না।

এই অংশীদারী ব্যবসায় সময় যত গড়ায় তত আস্থা, বিশ্বাস এবং আকাঙ্ক্ষার পরীক্ষা ততই কঠিন হয়। পার্টনারশীপ ব্যবসায় যেমন অনেক সুবিধা আছে ঠিক তেমনি বেশ কিছু অসুবিধাও আছে। আসুন আগে পার্টনারশীপ ব্যবসায় সুবিধা কি কি তা জেনে নেই।

পার্টনারশীপ ব্যবসা বা অংশীদারিত্ব ব্যবসার সুবিধা

 

১। সহজে গঠন করা যায়।

একমালিকানা ব্যবসার মতো পার্টনারশীপ ব্যবসা আইনী আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শুরু করা যায়।

 

২। ব্যবসার জন্য অধিক পুঁজির ব্যবস্থা করা যায়।

সম্ভবত, এটি অন্যতম প্রধান কারন যার জন্য বেশীর ভাগ উদ্যোক্তা পার্টনারশীপ ব্যবসা শুরু করতে চায়।

 

৩। দলবদ্ধ প্রচেষ্টা।

একটি কাজ যখন আপনি নিজে একা করবেন তখন অনেক বেশী জামেলায় পরবেন কিন্তু আপনার যদি ২/৩ সহযোগী থাকে তবে আপনার কাজটি সহজ হয়ে যাবে। দলবদ্ধ প্রচেষ্টায় অনেক কঠিন কাজ সহজ হয়ে যায়, তবে ব্যবসায় অনেক বেশী পার্টনার থাকলে বাড়তি জামেলায় ফেলবে।

 

৪। ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়া।

একক মালিকানায় ব্যবসায় যেখানে সকল ঝুঁকি একজনকেই নিতে হয় সেখানে পার্টনারশীপ ব্যবসায় ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়া যায়।

 

৫। পরিচালনায় সমান অধিকার।

একমালিকানা ব্যবসায় যেখানে ব্যবসার পরিচালনা দায় একজনের উপরে থাকে সেখানে পার্টনারশীপ ব্যবসায় সকল পার্টনার পরিচালনার সুযোগ পায়।

 

৬। জ্ঞান, দক্ষতা, ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করা যায়।

পার্টনারশীপ ব্যবসায় এটি একটি অন্যতম সুবিধা। আমাদের সবার জ্ঞান একই রকম থাকে না, আপনি যখন পার্টনারশীপে ব্যবসা করবেন তখন অন্য পার্টনারদের কাছ থেকে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।

 

পার্টনারশীপ ব্যবসা বা অংশীদারিত্ব ব্যবসার অসুবিধা

 

১। মতবিরোধ।

পার্টনারশীপ ব্যবসার মধ্যে সবচেয়ে সুস্পষ্ট অসুবিধা হচ্ছে মতবিরোধের আশঙ্কা। বিশেষ করে কোন সিন্ধান্ত নেওয়ার আগে সকল পার্টনারদের সেই সিন্ধান্তে একমত প্রকাশ করতে হবে। একজন বা দুইজন পার্টনার দ্বিমত প্রকাশ করলে সিন্ধান্ত নিতে অনেক বেশী সময় লাগতে পারে।

 

২। চুক্তি।

অনেক সময় অনেক ব্যবসা মৌখিক চুক্তিতে গঠন করা হয়ে থাকে। একজন পার্টনার আরেকজন পার্টনারকে বলে যে, আগে ব্যবসাটি দাড় করাই তার পরে চুক্তি করব যা পরবর্তীতে অনেক বড় জামেলার কারন হয়ে ওঠে। 

আরো পড়ুন – একমালিকানা ব্যবসা – বৈশিষ্ট্য, সুবিধা ও অসুবিধা

 

৩। ব্যবসা বিক্রয় জটিলতা।

অনেক সময় অনেক কারনে উদ্যোক্তরা ব্যবসা বিক্রি করে দেয়। পার্টনারদের মধ্যে কেউ বিক্রয় করতে আগ্রহী না হলে বড় অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

 

৪। স্থায়িত্বের অভাব।

সাধারনত একক মালিকানার ব্যবসার চেয়ে পার্টনারশীপ ব্যবসা খুব তাড়তাড়ি সফল হয়, তবে সমস্যা হচ্ছে স্থায়িত্বের অভাব। কেননা যখন ব্যবসায় প্রফিট আসা শুরু করে তখন পার্টনারদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।

 

পরিশেষে বলা যায় যে, পার্টনারশীপ ব্যবসা শুরু করা সহজ তবে ধরে রাখা কঠিন। সমমনা পার্টনার নির্বাচন করতে পারলে পার্টনারশীপ ব্যবসায় সফলতা সহজ হবে। // কে এম চিশতি সিয়াম – ইউটিউব লিঙ্ক