নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একাকী পরিচালনা করা যায় এমন ১৩টি ব্যবসার ধারণা

নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একাকী ব্যবসা করুন

নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একাকী ব্যবসা

নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একাকী ব্যবসা

ব্যবসা করতে শুধু টাকা লাগে না। নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা শুরু ও সুন্দর ভাবে পরিচালনা করা যায়। ব্যবসা শুরু করা মানেই একটি দক্ষ কর্মী বাহিনী নিয়োগ করতে হবে এটি একটি ভুল ধারণা। বর্তমানে শুধুমাত্র আপনার নিজের দক্ষতার উপর নির্ভর করে ব্যবসা শুরু করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। যদি আপনি নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একাকী ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তবে আপনার জন্য নিচে ১৩টি ব্যবসার ধারণা দেওয়া হলো।

ব্লগার

কম টাকা দিয়ে শুরু করা যায় এমন ব্যবসা ব্লগিং থেকে খুব কম আছে। যদি আপনার লেখালেখির দক্ষতার উপর নির্ভর করে একটি ব্যবসা শুরু করতে চান তবে আপনি ব্লগিং শুরু করতে পারেন। আপনার নিজের দক্ষতার উপর নির্ভর করে এটি পরিচালনা করতে পারেন। তারপর বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করে আয় করা শুরু করতে পারেন।

সময় ব্যয় করে নিজে না লিখতে পারলে আর্টিকেল রাইটার নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। অনেক বছর আগে ব্লগিং একটি শখের বিষয় থাকলেও এখন তা একটি ভাল ব্যবসা মাধ্যম। তবে ব্লগিং শুরু করার আগে আপনার কোন বিষয়ের উপর আগ্রহ ও দক্ষতা আছে তা খুঁজে বের করুন।

আর্টিকেল রাইটার

একজন আর্টিকেল রাইটার গ্রাহকের দেওয়া নির্ধারিত বিষয়বস্তুর উপর আর্টিকেল লিখে দিয়ে থাকে। আপনার যদি ভালো লেখার দক্ষতা থেকে থাকে তবে আপনি খুব সহজেই এই কাজটি শুরু করতে পারেন। এটি একটি গৃহ ভিত্তিক ব্যবসার ধারনা। সাধারনত আর্টিকেল রাইটারা পে-পার-ওয়ার্ড ভিত্তিতে কাজ করে। মানে প্রতি শব্দের জন্য টাকা আয় করা যায়।

ধরুন আপনি প্রতি শব্দের জন্য ২৫ পয়সা রেটে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তাহলে আপনি যদি একটি ১০০০ শব্দের আর্টিকেল লিখেন তাহলে আপনি ১০০০*.২৫= ২৫০ টাকা আয় করতে পারবেন একটি আর্টিকেল থেকে।  সাধারনত ইংলিশ আর্টিকেলের চেয়ে বাংলা আর্টিকেলে কম টাকা পাওয়া যায়। বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফরম থেকে কাজ পেতে পারেন। তাছাড়া লোকাল কাজ পেতে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে সংযুক্ত থাকতে পারেন।

বিশেষ নোট- কোন অবস্থায় কোন লেখা নকল বা কপি পেস্ট করবেন না।

অ্যাপস বানিয়ে গুগল থেকে আয় করুন

মোবাইল প্রযুক্তির এই যুগে অ্যাপস বানিয়ে গুগল প্লে স্টোরে প্রকাশ করে বিজ্ঞাপন থেকে আয় করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন। ইউনিক একটি অ্যাপ বানাতে পারলে কোটিপতি হতে বেশী দেরি হবে না। ব্লগ থেকেও অ্যাপের মাধ্যমে বেশী আয় করা যায়। তাই আজ থেকে এই আইডিয়াটি মাথায় রাখতে পারেন। তাছাড়া এটি একটি অন্যতম সেরা প্যাসিভ আয়ের মাধ্যম।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার

একটি ক্রমবর্ধমান আয়ের মাধ্যম গ্রাফিক্স ডিজাইন। অনলাইনের এই যুগে গ্রাফিক্স ডিজাইনার পেশা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এই পেশায় আসার আগে আপনাকে অনেক দক্ষ হয়ে আসতে হবে। তা না হলে আপনি কাজ পাবেন না এবং হতাশ হয়ে পরবেন।

পড়ুন – ১৪টি সব থেকে লাভজনক উৎপাদন ব্যবসা ধারণা

ওয়েব ডিজাইনার

একজন প্রযুক্তি সচেতন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি গ্রাহকদের ওয়েব সাইট তৈরি করে দিয়ে ওয়েব ডিজাইন ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। এটি একটি আধুনিক ব্যবসার ধারণা। গ্রাফিক্স ডিজাইনারের মত এই ব্যবসাটিও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, তবে দক্ষ হতে পারলে আয়ও বেশী।

সফটওয়্যার ব্যবসা

একা করা যায় ও দক্ষতা ভিত্তিক ব্যবসার অন্যতম ভাল উদাহরন সফটওয়্যার ব্যবসা। আপনার যদি সফটওয়্যারের উপর বিশেষ দক্ষতা থেকে থাকে তবে আপনি গ্রাহকদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সফটওয়্যার কার্যক্রমের উন্নয়ন সেবা দিতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন সফটওয়্যার তৈরি করে বিক্রির মাধ্যমে এই ব্যবসাটি পরিচালনা করতে পারেন। যেমন হাসপাতাল মেনেজমেন্ট সফটওয়্যার।

ফটোগ্রাফার

ইভেন্ট ফটোগ্রাফী আরেকটি ক্ষেত্র যা একাকী ব্যবসা শুরু করার জন্য উপযুক্ত। বিবাহ অনুষ্ঠানগুলোর মতো ইভেন্ট গুলোকে কেন্দ্র করে আপনি এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসার সমস্ত দিক গুলো আপনি একাই পরিচালনা করতে পারবেন। ছবি তোলার দক্ষতা ও ভালো মানের ক্যামেরা এই ব্যবসার পুঁজি। নতুন গ্রাহক পেতে আপনার তোলা সুন্দর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।

ব্যবসা পরামর্শদাতা

অন্যতম সেরা ইউনিক ব্যবসা ধারনার নাম ব্যবসা পরামর্শদাতা। ব্যক্তিগত পরামর্শ ও সেমিনারের মাধ্যমে এই ব্যবসাটি করে আয় করতে পারেন। সত্যি বলতে প্রথম দিকে গ্রাহক পেতে অনেক কষ্ট করতে হবে। জেনে নিন – পরামর্শকারী ব্যবসা ধারণা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

এই ব্যবসায় নিজের কোন পণ্য থাকে না। অন্যের পণ্য আপনার মাধ্যমে বিক্রি হলে আপনি নিদিষ্ট হারে কমিশন পাবেন। আপনার জন্য আমাজন ডট কম অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য সেরা সাইট হতে পারে।

ইভেন্ট পরিকল্পক

যদি আপনি সংগঠিত করতে ও মানুষের সাথে কাজ করতে উপভোগ করেন তবে আপনি একজন ইভেন্ট পরিকল্পক হিসেবে আপনার নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

গৃহ শিক্ষক

যদি আপনি আপনার জ্ঞানকে অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করতে চান তাহলে একজন গৃহ শিক্ষক হিসেবে সেবা প্রদান করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

ডে কেয়ার সেন্টার ব্যবসা

আপনার যদি আপনার সন্তানদের পরিচর্যার অভিজ্ঞতা থাকে তবে আপনি আপনার বাড়িতেই ডে কেয়ার সেন্টার ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তার জন্য আলাদা জায়গার দরকার হয় না।

হয়ে যান ভাষা অনুবাদক

যদি আপনি একের অধিক ভাষায় দক্ষ হয়ে থাকেন তবে একজন ভাষা অনুবাদক হিসেবে গ্রাহকদেরকে আপনার সেবা প্রদান করতে পারেন। নানা কারনে মানুষের অনুবাদ করার দরকার হয়। বিশেষ যারা বিদেশে ব্যবসা বা পড়াশুনা করতে যায় তাদের অনেক কাগজ অনুবাদ করার দরকার হয়। এছাড়া বই অনুবাদ করে টাকা আয় করা যায়।