নিজেকে খুঁজে পাওয়ার মধ্যেই সাফল্য

নিজেকে খুঁজে পাওয়ার মধ্যেই সাফল্য

নিজেকে খুঁজে পাওয়ার মধ্যেই সাফল্য

প্রত্যেক মানুষের মধ্যে অন্তনিহিত বা ঘুমন্ত একটি শক্তি রয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি যারা এই বিষয়ে উদাসীন। কিভাবে নিজের ভিতরে থাকা এই শক্তিকে উজ্জীবিত করে সফলকাম হওয়া যায় সে বিষয়ে কিছু ধারনা তুলে ধরার ইচ্ছা প্রকাশ করছি। 

#১। প্রতিভা বিকাশে অভিজ্ঞতা অর্জন

আমাদের সমাজে অনেক প্রতিভা রয়েছে যারা উপযুক্ত পরিবেশ এবং সহযোগিতার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে।

এমনকি আমরা কে কোন প্রতিভার অধিকারী সে বিষয়ে আমরা অবহিত বা সচেতন নই। প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে আমরা কি একবারও অভিজ্ঞতা লাভের কথা ভেবেছি? কখনো জানতে চেয়েছি সাফল্যপ্রাপ্তি বা অর্থ উপার্জনের চাবিকাঠি কি? 

অনেক সময় দেখা যায় যে, কোনো ব্যক্তির মধ্যে যে প্রতিভা রয়েছে সে নিজেই নিজের প্রতিভা সম্পর্কে অবচেতন।

এক্ষেত্রে একটি সমাধান হলো, সাফল্য অর্জনকারীদের সাফল্য সম্পর্কে জানা, তাদের সংস্পর্শে আসা, সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে তাদের সাফল্য ও মানসিক শান্তি সমৃদ্ধি লাভের ব্যাপারে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজের মনকে অনুপ্রাণিত করা। 

#২। আত্মউপলব্ধি ও আত্মবিশ্লেষণ

একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্তরের লুকায়িত শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে নিজেকে জানা ও বোঝার জন্য নিজের ব্যক্তিত্ব পর্যালোচনা, নিজের দোষ গুণ সম্পর্কে জেনে আত্ম মূল্যায়ন করতে হবে।

আমি কি ছিলাম, বর্তমানে যে কাজ গুলো আমি করছি সেটা আমার জন্য উপযুক্ত কিনা এবং সামনের দিনগুলোতে এই কাজের ফলাফল কি আসতে পারে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।

আমি পারলাম না, অন্যরা পারে এটা হতাশা তৈরি করে। যারা অন্যের মতন হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন তারা হতভাগা।

আমাদের মনে রাখতে হবে আমি নিজে যা নই, সেভাবে হতে চাওয়া বোকামি। নিজের মধ্যে অন্তর্নিহিত শক্তি কাজে লাগানোর মাধ্যমেই নিহিত রয়েছে এ সাফল্য সচেতনতা। 

#৩। নেগেটিভ প্রভাব মুক্ত থাকা

জীবনে চলার পথে মনের মধ্যে এমন কোন প্রভাব পড়তে দেওয়া যাবে না, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে পারে। আমাদেরকে ধৈর্য, ত্যাগ ও সৃষ্টিশীলতা দিয়ে নিজের মতো করে চলার পথ নির্দিষ্ট করে নিতে হবে।

চাপিয়ে দেওয়া মতামত বা সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের জীবনযুদ্ধের প্রতিযোগিতা শুধু নিজের সাথে নিজের লড়াই। এই লড়াই নিজেকে জয়ী করার লড়াই।  

#৪। দৃঢ়চেতা মনোভাব

সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে নিজের জীবনের লক্ষ্য স্থির করে অন্তরের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পথের সন্ধানে এগিয়ে চলতে হবে।

যারা বর্তমান জীবন থেকে নিজের স্বপ্নের জীবনে পৌঁছাতে চায় তাদের জন্য অপেক্ষা করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। এক্ষেত্রে গরিমসির প্রভাব মনের মধ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

লক্ষ্য অর্জনে চাই অটুট মনোভাব, বিরামহীন কর্মতৎপরতা এবং কঠিন সংকল্প। যারা এটা করতে পেরেছে তারাই নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সফলতার গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে। 

#৫। দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা বা ব্যর্থতা মুছে ফেলা

নিজেকে যখন জানা যাবে, বোঝা যাবে, চেনা যাবে সর্বোপরি নিজের মত করে জীবন যাপন করা যাবে তখন অতীতের সকল দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা বা ব্যর্থতা মন থেকে মুছে যাবে। নতুন নতুন সম্ভাবনা আপনার মনের দরজায় এসে দাঁড়াবে।

নিত্য নতুন কাজের অভিজ্ঞতায় আরো উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে যেতে পুরনো ঘটনাগুলো মন থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে। 

#৬। কাজের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস

 যে কাজ আপনি বেছে নিয়েছেন সেই কাজের প্রতি আপনার শতভাগ আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যেতে হবে।

আপনাকে মনে রাখতে হবে, সহজে হাল ছাড়া যাবে না। শুরুতেই যে ভালো করা যাবে বিষয়টা এরকম না। কাজের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সংশ্লিষ্টদের সাথে সুসম্পর্ক অত্যন্ত জরুরী।

প্রয়োজনে ছোট আকারের শুরু করুন। একটু লক্ষ করলেই বুঝতে পারবেন, কাজের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে সফলতা অর্জন করেছে এমন অসংখ্য লোক আপনার আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। 

#৭। মনের অন্তরায় দূর করা

আপনি কি আশাবাদী? আপনার মনকে আশাবাদী করতে পারলে আপনার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ চিরকালের জন্য হাতের মুঠোয় চলে আসবে।

আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে মনের অন্তরায়। এটা দূর করার জন্য আপনি কেমন ছিলেন, কেমন আছেন এটা চিন্তা না করে, কি হতে চান, আপনার স্বপ্ন কি এই বিষয়ে গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে।

এর ফলে মন থেকে আশাহীনতা দূর হয়ে যাবে। মন সফলতায় ভরে উঠবে আপনি সফলকাম হতে পারবেন। মনে রাখবেন আপনি কখনই দুর্বল ছিলেন না। 

#৮। কাজের প্রতি সঠিক ধারণা

কোন কাজ করতে গেলে প্রথমে আমাদের একটু ভয় ভয় লাগে। কেমন হবে কি, কি হবে, কিভাবে আগাবো ইত্যাদি। এই সকল বিষয় লক্ষে পৌঁছাতে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে আপনার পরিকল্পনা আগে ভাগে ঠিক করে নিতে হবে।

আপনার মনে একটি সঠিক ধারণা নিয়ে আসতে হবে। আপনি কি করতে চান, আপনার কি কি প্রয়োজন, কেন প্রয়োজন, সর্বোপরি কিভাবে আগাবেন ইত্যাদি বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে উঠতে পারলে আপনার লক্ষ্য চোখের সামনে ভেসে উঠবে।

মনটা চাঙ্গা হয়ে উঠবে এবং আপনি জয়ের দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাবেন। 

#৯। ছোট পরিসরে অগ্রসর

সমাজে এমন কিছু ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে তাদের যথেষ্ট পরিমাণ শিক্ষা, মেধা বা সম্পদ না থাকলেও সফলতা অর্জন করতে পেরেছে। 

কিন্তু কিভাবে- এর প্রধান কারন ছিল সাফল্য অর্জনের স্বপ্ন, সচেতনতা ও অটুট লক্ষ্য। কিছু-না-কিছু অর্থ-সম্পদ নেই এরকম লোক খুঁজে পাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য।

নিজ আয়ত্বে ছোট পরিসরে শুরু করতে হবে, তবে স্বপ্ন বড় রাখা চাই। অনেক সচেতন ও আশাবাদী মানুষ সজ্ঞানে, স্বেচ্ছায়, নিজস্ব সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ছোট থেকে বড় হয়েছে। আজকে তারা লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারছে। আরোও পড়ুন – এ পি জে আব্দুল কালাম এর ১৫টি অনুপ্রেরণা মূলক সেরা উক্তি

#১০। কাজের প্রশংসা

আমরা সবাই প্রশংসা পেতে চাই। যারা নিজেকে চিনতে পারে, জানতে পারে হোক পরিবার বা বাহিরের এরকম সমাজসচেতন চতুর ও বুদ্ধিমান লোকদের যথাযথ উপদেশ গ্রহন করতে হবে।

অন্যের কাছ থেকে উপদেশ গ্রহন করতে হবে কিন্তু সকল সিন্ধান্ত নিজ বুদ্ধি বিবেচনার উপর ভিত্তি করে নিতে হবে।