টাকা জমানোর সেরা কিছু কৌশল

টাকা জমানোর সেরা কিছু কৌশল

টাকা জমানোর সেরা কিছু কৌশল

টাকা জমানোর সেরা কিছু কৌশল

আপনি যখন বৃদ্ধ হবেন বা বয়স অনেক বেড়ে যাবে, যখন আপনার টাকা আয় করার মত শক্তি থাকবে না তখন আপনার কপালে দুইটি জিনিষ থাকবে। এক অন্যের করুনা বা মুখ-ঝামটা দুই সিগন্যাচার পাওয়ার বা জমানো টাকা।

আপনার সিগন্যাচারে যখন ব্যাংক থেকে টাকা উঠবে তত দিন’ই আপনি অন্যের চোখে ক্ষমতাবান হয়ে থাকবেন আর যখনই আপনার এই সিগন্যাচার পাওয়ার থাকবে না তখনই আপনার কপালে জুটবে এই করুনা বা মুখ-ঝামটা।

এখন সিদ্ধান্ত আপনার হাতে, আপনি কোনটা খেতে চান মুখ-ঝামটা না জমানো টাকা? এটাই আমাদের সমাজের বাস্তবতা যা অস্বীকার করার মত দুঃসাহস আমাদের কারো নেই।  

ছোট বেলার পড়া একটি ভাবসম্প্রসারণ “ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল”। এর অর্থ ছোট বেলায় না বুঝতে পারলেও এখন কিছুটা বুঝতে পারি। যেমনি করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা দিয়েই একটি মহাদেশ হতে পারে, বিন্দু বিন্দু পানি দিয়েই যদি একটি সাগর হতে পারে তাহলে আজকে আমাদের ১ টাকা ২ টাকা জমানোর মাধ্যমেই লাখ টাকা হতে পারে।

আমরা সকলেই জানি টাকা জমানো মোটেই সহজ কোন কাজ না। নিজের ভালোলাগা বলিদান দিয়েই টাকা জমাতে হয়। আজকের আপনার এই ত্যাগ আগামী দিনে আপনাকে এনে দিতে পারে আর্থিক স্বাধীনতা।

এই আর্থিক স্বাধীনতা এমন কিছু বিষয় যা কেবল আপনাকেই ভালো রাখবে না, বরং আপনার পরিবারকেও আর্থিক সুরক্ষা দিবে। এই করনাকালীন সময়ে সঞ্চিত টাকার গুরুত্ব আমরা আরেকবার ভালো করে টের পেয়েছি। তাই টাকার গুরুত্ব নতুন করে বলার কিছুই নেই।

আসুন টাকা জমানোর কিছু সেরা এবং কার্যকারী কিছু উপায় জানার চেষ্টা করি।  

#১। টাকা জমাতে চাইলে একাধিক আয়ের রাস্তা বানাতে হবে।

আপনি যতই ভালো একটি চাকরি বা ব্যবসা করেন না কেন একটি ইনকামের পথ দিয়ে বেশি দূর আগানো সত্যি’ই চ্যালেঞ্জের বিষয়। টাকা জমানো তখনই সহজ হবে যখন আপনার একাধিক আয়ের পথ থাকবে।

একাধিক আয়ের পথ থাকা মানে এই না যে, অনেক টাকা ইনকাম করতে হবে, বরং একাধিক আয়ের পথ মানে আপনার খরচের পথগুলোকে ঐ আয়ের পথগুলো রুখে দিবে। তাই টাকা জমানোর সব থেকে সেরা কৌশল এই একাধিক আয়ের পথ সৃষ্টি করা।

#২। বড় স্বপ্ন দেখা

আমরা সকলেই স্বপ্ন প্রিয় মানুষ। আমাদের স্বপ্ন হতে হবে অনেক বড়, একই সাথে লক্ষ্য হতে হবে সুস্পষ্ট। আপনি যখন আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করতে যাবেন তখনই আপনাকে অনেক বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। এই স্বপ্নকে যখন আপনি বিশ্বাস করবেন তখনই আপনার মধ্যে টাকা জমানোর একটি মানসিক পরিবর্তন চলে আসবে।

#৩। টাকা জমাতে হবে বিনিয়োগ করার উদ্দেশ্যে  

আপনি যখন শুধুমাএ জমানোর জন্য টাকা জমাবেন তখন সেই টাকা আপনার জন্য ক্ষতির কারন হবে। আপনি যদি মাটির ব্যাঙ্কে টাকা জমান তাহলে মুদ্রাস্ফীতির জন্য বছরে প্রায় ৬ টাকা হারাবেন।

যেমন ধরুন এক বছর আগে মাটির ব্যাঙ্কে ১০০ টাকা জমিয়ে রেখেছেন। ১ বছর আগে যেই পণ্যের দাম ছিল ১০০ টাকা, আর আজকে সেই পন্যের জন্য আপনাকে গুনতে হবে ১০৬ টাকা। এই যে ৬ টাকা বেশি লাগবে এই টাকা আপনি পাবেন কোথায়? এই টাকার গ্যাপকে পূরণ করতে চাইলে আপনাকে টাকা জমাতে হবে বিনিয়োগের মাধ্যমে।

#৪। জরুরী পরিস্থিতির জন্য আলাদা করে টাকা রাখুন

জরুরী দরকারে টাকা ব্যয় করার জন্য আপনাকে প্রতি মাসে এই ফান্ডে টাকা জমাতে হবে। দুর্ঘটনা, চিকিৎসা, ভালো সুযোগ লুফে নেওয়া ইত্যাদি নানা কারনে টাকা ক্যাশ করে রাখতে হবে। আপনার মোট ইনকামের ১ থেকে ২ শতাংশ এই ফান্ডে রাখতে হবে।  

#৫। খরচের খাতগুলো লিখে রাখুন

টাকা জমানোর সেরা একটি উপায় খরচের খাতগুলো লিখে রাখা এবং মাস শেষে মিলিয়ে নেওয়া। এতে আপনি বুঝতে পারবেন কোথায় কোথায় বেশি টাকা খরচ করেছেন যা পরবর্তী মাসে এই ভুল এড়িয়ে যেতে পারবেন। এছাড়া খরচের খাতগুলো নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলুন, এতে তাদের মধ্যে কম খরচ করা একটা প্রবণতা সৃষ্টি হবে।  

#৬। ঋণ না করার চেষ্টা করুন

টাকা জমানোর পথে অন্যতম বড় বাঁধা এই ঋণ বা লোন করা। আপনার দরকারে অনেক সময় লোন করার প্রয়োজনীয়তা আসতে পারে, তবে যতটুকু সম্ভব লোন করা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

লোন করলে একদিকে সুদ দিতে হবে অন্যদিকে টাকা জমানোর বিষয় মাথা থেকে চলে যাবে। আর অবশ্যই কখনই লোন করে নিজের কোন শখ পূরণ করবেন না। আমার কাছে টাকা নেই কিন্তু আমি যদি লোন করে শখ পূরণ করি তবে আমার চেয়ে বোকা আর কে আছে?

#৭। বাইরে খাওয়া কমিয়ে দিন

বাইরে রেস্টুরেন্টে বসে মজাদার খাবার আমরা সকলেই পছন্দ করি। আপনি অবশ্যই বাইরে খেতে যাবেন তবে তা যদি আপনার অভ্যাসে পরিনত হয়ে যায় তবে তা পরিহার করুন।

#৮। আড্ডা দেওয়া কমিয়ে দিন

আপনি খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন বন্ধুদের সাথে আপনি যখন বাইরে আড্ডা দিচ্ছেন তখন আপনার পকেট থেকে অকারনেই টাকা খরচ হচ্ছে। আড্ডা দেওয়াকে আমি খারাপ বলছি না, তবে বেশী আড্ডায় দুইটা জিনিষ বেশী হয়। এক অন্যের গীবত করা হয় এবং দুই টাকা খরচ হয়। 

#৯। পোষাক ও ফ্যাশনে মনোযোগ দিন

আপনি যখন সফল হবেন তখন আপনার আজকের এই মলীন পোশাক জাদুঘরে ঠাই পাবে আর ব্যার্থ হলে আজকের এই সুন্দর দামী পোশাকের কোন দাম নেই।

বিশ্বাস করুন আপনি কি পরে বাইরে যাচ্ছেন তা অন্য কেউ মনে রাখে না। চলার মত যতটুকু দরকার ঠিক ততটুকুই এই পোষাক ও ফ্যাশনে খরচ করুন। আমাদের মনে রাখা উচিত আজকের এই ত্যাগ আমাদেরকে এনে দিবে আর্থিক স্বাধীনতা।

#১০। অন্যকে দেখানোর জন্য কিছু কেনা বন্ধ করে দিন

নিজের দরকারের বাইরে অন্যের সাথে তুলনা দিয়ে যদি কিছু কিনেন তবে তা আপনার নিজের ক্ষতি। অন্যের মত হতে চাওয়া, অন্যের মত জিনিস কেনা শুধুমাএ আর্থিক ক্ষতি ছাড়া আর কিছু দিতে পারে না। 

#১১। মাসের বাজার এক সাথে করুন

কাঁচা বাজার ছাড়া মাসের সকল বাজার একদিনে করার চেষ্টা করুন। এতে আপনার বেশ কিছু টাকা সঞ্চয় হবে। বাজারে যাওয়ার আগে কি কি জিনিষ কিনতে হবে তার তালিকা লিখে নিন। এই তালিকার বাইরে অন্য কিছু কেনা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

একই সাথে বাকিতে পণ্য কেনা বন্ধ করে দিন, কেননা বাকিতে পন্যে কিনলে দামাদামি করা যায় না এবং দরকারের চেয়ে বেশি কেনা হয়, যা আপনার জন্য মোটেই সুখকর বিষয় না।

#১২। সাধ্যের বাইরে উপহার দেওয়া বন্ধ করুন

অনেক সময় ক্ষেএ বিশেষ আমাদের এমন পরিস্থিতিতে পরতে হয় যে নিজের সাধ্যের বাইরে উপহার দেওয়াকে গর্বের বিষয় মনে করি। যা আসলে ভুল ধারনা।

ধরুন, আপনার নিকট আত্মীয়ের ছেলের জন্মদিনের দাওয়াতে যাবেন। আপনি জানতে পেরেছেন যে, অন্য আত্মীয়রা দামী উপহার দিচ্ছে, কিন্তু আপনি জানেন যে, আপনার নিজের তত দামী উপহার দেওয়ার সাধ্য নেই, তাই এই জায়গায় অন্যের চোখে ভালো সাজতে গিয়ে ধার বা লোন করে উপহার দেওয়া বন্ধ করে দিন। আপনাকে অবশ্যই নিজের সাধ্যের বাইরে উপহার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। 

#১৩। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে

এখন পর্যন্ত যতগুলো পয়েন্ট নিয়ে কথা বললাম এর মধ্যে টাকা জমানোর সব চেয়ে সহজ ধাপটি এই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে পারা। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে পারা এই একটু ইচ্ছাশক্তি দেশের জন্য এবং নিজের জন্যই মঙ্গল। আপনি যদি সারা মাসে ১০ টাকারও বিদ্যুৎ বিল বাঁচাতে পারেন তবে এই ১০ টাকাই থেকে যাবে।

#১৪। পাবলিক পরিবহন ব্যবহার করুন

এই ক্ষেএে সময়কে মূল্য দিতে হবে। কাজের ধরন অনুযায়ী আপনাকে পরিবহন বেছে নিতে হবে।   

#১৫। নিজের স্বাস্থ্যের খেয়ার রাখুন

আমাদের খরচের একটি বড় অংশ চিকিৎসার জন্য বাজেট রাখতে হয়। আপনি যদি জীবনের শুরুর দিকেই নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে পারেন তাহলে আরোও বেশী কর্মঠ এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারবেন যা দিন শেষে আপনার টাকা জমাতে সাহায্য করবে।