টাকা জমানোর চমৎকার ১১টি উপায়

টাকা জমানোর চমৎকার উপায় জেনে নিন!

টাকা জমানোর চমৎকার ১১টি উপায়

টাকা জমানোর উপায় খুঁজছেন? টাকা জমানোর পদ্ধতি এক এক জনের কাছে এক এক রকম। টাকা আমাদের সব চেয়ে কাছে বন্ধু যে কখনই প্রতারনা করে না।

টাকার গুরুত্ব বুঝতে চাইলে কিছু টাকা ধার করার চেষ্টা করতে পারেন। বর্তমান এই বিশ্বে টাকার গুরুত্ব বোঝাতে যাওয়া এক বিশাল বোকামি ছাড়া আর কিছুই না।

আপনি যদি সত্যিকার অর্থে টাকা জমাতে চান তবে একটি আয় থেকে প্রাপ্ত টাকা জমিয়ে বেশি দূর যেতে পারবেন না।

ধরুন, আপনি চাকরি বা ব্যবসা থেকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করেন। যার মধ্যে ২৪/২৫ হাজার টাকা প্রতিমাসে খরচ হয়ে যায়। বাকি থাকে ৫/৬ হাজার টাকা, যা জমাতে চান।

ধরে নিলাম প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা আপনি জমাবেন। আপনি যদি সত্যিকার অর্থে ৬ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে জমান তবে এক বছরে জমবে ৭২ হাজার টাকা।

এই ভাবে জমালে এক কোটি টাকার মালিক হতে আপনার সময় লাগবে প্রায় ১৩৯ বছর।

টাকা জমিয়ে যদি সত্যিকার অর্থে ধনী হতে চান তবে একাধিক আয়ের কোন বিকল্প নেই। যদি আপনার একাধিক আয়ের পথ না থাকে তবে এখন থেকেই একাধিক আয়ের পথ খোঁজার চেষ্টা করুন।

এছাড়া আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করতে চাইলে টাকা জমানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ করা অব্যাহত রাখতে হবে।

আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনার সাথে টাকা জমানোর চমৎকার ১১টি উপায় তুলে ধরার ইচ্ছা প্রকাশ করছি যা হয়ত আপনার টাকা জমানোর পথকে কিছুটা সহজ করতে পারে।

#১। টাকা জমানোর মনোভাব গড়ে তুলুন

টাকা জমানোর চেয়ে খরচ করার মধ্যে আমরা বেশি আনন্দ খুঁজে পাই। টাকা জমানোর মনোভাব গড়ে তোলার জন্য নিজেকে একটি বড় স্বপ্ন দেখান।

এই রকম কিছু স্বপ্ন দেখান যা আপনার মন থেকেই টাকা জমানোর নেশা হয়ে যাবে।

#২। ঋণ মুক্ত থাকুন

একদিক দিয়ে ঋণ পরিশোধ করবেন এবং অন্যদিক দিয়ে টাকা জমাবেন এর সহজ মানে হচ্ছে ফুটো বালতিতে পানি ঢালার মত।

আপনি যদি বর্তমানে ঋণগ্রস্থ থাকেন তবে যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করে দিন এবং এর পরে টাকা জমাতে মনোনিবেশ করুন।

#৩। কোথায় খরচ করেন তা জেনে নিন

প্রতি মাসে আপনি কত টাকা ব্যয় করেন তা জানতে হবে। আপনার থাকা, খাওয়া, ও অন্যান্য খরচ কত হয় তা জানতে হবে।

এই খরচের খাতগুলো সঠিক ভাবে জানতে পারলে কোথায় কোথায় খরচ কমানো যেতে পারে তা আপনি বুঝতে পারবেন।

#৪। জরুরী খরচের টাকা সব সময় আলাদা রাখুন

আপনার কাছে সব সময় জরুরী খরচের জন্য কিছু টাকা ক্যাশ রাখতে হবে।

কেননা যে কোন সময়ে জরুরী কাজের জন্য টাকার দরকার পরতে পারে, হতে পারে কোনো একটি দুর্ঘটনা কিংবা কোনো সুযোগ লুফে নেওয়া।

এই টাকাতে স্বাভাবিক অবস্থায় হাত দিবেন না। জরুরী খরচের টাকা সব সময় আলাদা রাখতে পারলে টাকা জমানোর পথটি আরো সহজ হয়ে যাবে।

#৫। ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন জিনিস কিনুন

যেই জিনিস আপনি অনেক দিন ধরে ব্যবহার করবেন তা কেনার আগে এর কোয়ালিটি যাচাই করে নিন।

কোয়ালিটি সম্পন্ন জিনিসে কিছু টাকা বেশি লাগলেও দীর্ঘ মেয়াদে বার বার খরচ করা লাগবে না।

#৬। বাইরে খাওয়া ত্যাগ করুন

বর্তমানে আমাদের মধ্যে বাইরে খেতে যাওয়া একটি ট্রডিশন হয়ে উঠেছে।

আপনি যদি টাকা জমাতে চান এবং ভবিষ্যতে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করতে চান তবে বাইরে খাওয়া ত্যাগ করার সেরা সময় এই এখনই।

#৭। পোশাক ও ফ্যাশনে খরচ কমান

এই খাতটি খরচের একটি বিশাল অংশ। টাকা জমাতে গিয়ে আমি আপনাকে বলব না যে, কোন ধরনের কেনা কাটা করবেন না।

আপনি অবশ্যই পোশাক ও ফ্যাশনে টাকা খরচ করবেন তবে তা যেন খুব অতিরিক্ত না হয়ে যায়।

মনে রাখবেন, যদি আপনি জীবনে সফল হন তবে আপনার ছেড়া লুঙ্গী জাদুঘরে টাই পাবে, আর জীবনে ব্যর্থ হলে আজকের এই স্যুট প্যান্টেরও কোনো দাম নেই।

#৭। পরিবহন খাতে খরচ কমান

আমাদের খরচের অন্যতম একটি বড় অংশ এই পরিবহন খাতে চলে যায়।

আপনাকে যদি প্রতিদিন বাইরে যেতে হয় তবে পাবলিক বাস ব্যবহার করুন।

হাঁটার দূরত্ব হলে হেটেই চলে যান এতে স্বাস্থ্য ও মন দু’ই ভালো থাকবে।

#৮। ইলেকট্রনিক্স পণ্যে খরচ কমান

ইলেকট্রনিক্স পণ্যের প্রতি আমাদের অনেকের’ই আসস্তি আছে।

আপনি যদি একটি কম দামী মোবাইল ব্যবহার করেন এবং এই কম দামী মোবাইল দিয়ে যদি যাবতীয় কাজ হয়ে যায় তবে নতুন মোবাইলের সখকে আপতত মাটি চাঁপা দিয়ে দিন।

মনকে বলুন, একটা সময় আপনি নিজে এই রকম মোবাইল ব্র্যান্ডের মালিক হবেন।

#৯। নিত্যদরকারি জিনিস কেনা কাটায় খরচ কমান

কাঁচা বাজার বাদে নিত্যদরকারি জিনিস পএ একবারে কিনুন।

দোকানে যাওয়ার আগে একটি লিস্ট করে নিন যে আপনার কি কি জিনিস কিনতে হবে এবং এই লিস্টের বাইরে একটি পণ্যও কেনা থেকে বিরত থাকুন।

#১০। অব্যবহৃত জিনিস বিক্রি করে দিন

যে সকল জিনিস আপনি এখন ব্যবহার করছেন না কিংবা দরকার হবে না সেই সকল জিনিস বিক্রি করে দিন। এতে আপনার হাতে নগত কিছু টাকা আসবে।

#১১। অনাকাক্ষিত টাকা সাথে সাথে বিনিয়োগ করুন

ধরুন আপনার ব্যবসা, চাকরি, কিংবা উপহার হিসাবে অনাকাক্ষিত কিছু টাকা পেয়ে যান তবে এক মুহূর্ত দেড়ি না করে সাথে সাতে বিনিয়োগ করে রাখুন। কে এম চিশতি সিয়াম – ইউটিউব লিঙ্ক