টাইম ম্যানেজমেন্ট শিখতেই হবে

টাইম ম্যানেজমেন্ট শিখতেই হবে

টাইম ম্যানেজমেন্ট শিখতেই হবে

টাইম ম্যানেজমেন্ট শিখতেই হবে

এই বিশ্বে একটি মাএ সম্পদ রয়েছে যা ধনী-গরীব, ফকির-মিসকিন, রাজা-প্রজা সকলের জন্য সমান। সেই সম্পদ যে যেমন ব্যবহার করবে সে তেমনই ফল পাবে। এই সম্পদের নাম সময়।

 

“সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না।” এই সদা সত্য বাক্য আমরা সবাই জানি এবং কিছু মানুষ মানে তবে আমরা অনেকেই মানি না। যারা সত্যিকার অর্থে মানে তারাই সফল হওয়ার পথে একধাপ এগিয়ে থাকে। আপনি যদি আপনার জীবনে সাফল্য আনতে চান তবে টাইম ম্যানেজমেন্ট শিখতেই হবে।

টাইম ম্যানেজমেন্ট কি?

Time management এর বাংলা অর্থ সময় ব্যবস্থাপনা। টাইম ম্যানেজমেন্ট মানে আপনার সময়কে বিভিন্ন কাজের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া এবং সেই সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করা। গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আগে শেষ করা এবং তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ কাজটি পরে শেষ করা।

 

টাইম ম্যানেজমেন্টের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রাপ্ত সময়ের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পনা অনুযায়ী গন্তবে পৌঁছানো। পরিকল্পিতভাবে টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে পারলে জীবনের মোড় ঘুরে যেতে পারে।

 

আপনি একটু খেয়াল করলে বুজতে পারবেন আমাদের যত সম্পদ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে সীমিত সম্পদ সময়। কেননা কেউ চাইলেই এক দিনকে ২৪ ঘণ্টার চেয়ে বড় করতে পারবে না। এই সময় কারো কাছ থেকে কেনা বা ধার করা সম্ভব না।

 

তবে মজার বিষয় সফল মানুষের জন্য যেই সময়, একজন ব্যর্থ মানুষের জন্য এই একই সময়। আপনি যদি সফল হতে চান তবে সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য পরিকল্পনার বিকল্প আর কিছুই নেই। আমাদের সবার পরিচিত একটি প্রবাদ – 

“Well plan is half done” অর্থাৎ কোন কাজের পরিকল্পনাই কাজের অর্ধেক

তবে আমরা যদি পরিকল্পনা করতে ভুল করি, তাহলে আমরা একটি ভুল পরিকল্পনা করলাম যা আমাদের ব্যর্থ বানাবে। তাই সফল হওয়ার জন্য আমাদের দরকার সময় ব্যবস্থাপনার একটি সুন্দর পরিকল্পনা।

 

আসুন জেনে নেই কিভাবে টাইম ম্যানেজমেন্ট করবেন।

 

#১। কমানো

আপনার যা দরকার না, তা যদি না কিনেন তবে নষ্ট হয়ে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়ার কোন ভয় নেই। আপনি যখন টাইম ম্যানেজমেন্টের সাথে এর তুলনা করবেন এর মানে হচ্ছে, আপনার জীবন থেকে অহেতুক কিছু বিষয় বাদ দিতে হবে।

যেমন, অতিরিক্ত আড্ডা দেওয়া, অতিরিক্ত সোসাল মিডিয়া ব্যবহার করা, নেগেটিভ মানুষদের এড়িয়ে চলা ইত্যাদি।

 

#২। পুনরায় ব্যবহার

আপনাকে এমন কিছু বানাতে হবে বা এমন কিছু কিনতে হবে যা বার বার ব্যবহার করা যায়। এতে আপনার অনেক সময় সেভ হবে। যেমন ধরুন, আপনাকে অফিসের জন্য প্রেজেনটেশন বানাতে হয় এই ক্ষেএে কয়েকটি টেম্পলেট বানিয়ে রাখতে পারেন যা অনেকগুলো প্রেজেনটেশনে ব্যবহার করতে পারেন।

 

#৩। রিসাইকেল

আপনি জেনে অবাক হবেন আমাদের ব্যবহৃত যে কোন জিনিসের মাএ ১৫% আমরা রিসাইকেল করতে পারি। একজন সফল ব্যক্তি তার সময়কে যথেষ্ট মূল্য দেয় এই ক্ষেএে রিসাইকেল অর্থ ও সময়কে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাচায়।

যেমন ধরুন আপনি একজন ব্লগার, এখন আপনার লেখা একটি পুরাতন আর্টিকেল মডিফাই করে নতুন বানাতে পারেন, সেই আর্টিকেলটি ভিডিওতে রুপান্তত করতে পারেন, আবার সেই আর্টিকেলটি ইনফোগ্রাফিক, স্লাইড ডেক বা একটি ই-বুকের একটি অংশে ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার সময়, শ্রম ও অর্থ সেভ হবে।

 

৪। সিদ্ধান্ত গ্রহণ

আমাদের সময় নষ্ট হওয়ার আরেকটি কারন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বেশী সময় নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে, তার মানে এই না যে আপনি অনেক সময় নষ্ট করবেন।

অনেক সময়ে দ্রুত সিন্ধান্ত নিতে না পারলে অনেক সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পূর্বে আপনি ৫ট কাজ করতে পারেন। যেমন, লাভ লসের হিসাব করা, অপশন কমিয়ে আনা, লক্ষ্যে অটুট থাকা, অতিরিক্ত চিন্তা না করা এবং সময়সীমা বেঁধে দেওয়া। আরোও পড়ুন – সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি দক্ষতা

 

#৫। তালিকা অনুযায়ী কাজ করা

আপনার টাইম ম্যানেজমেন্টে এই বিষয়টি অবশ্যই রাখবেন। রাতে গুমানোর আগে আগামীকালকে কি কি করবেন তা লিখে ফেলুন এবং সকালে উঠে কাজ করা শুরু করুন। আপনার লিস্টে যেই কাজটি সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন তা সকাল সকাল শেষ করে ফেলুন এতে অন্য কাজগুলো সহজ হয়ে যাবে। – কে এম চিশতি সিয়াম // ইউটিউব চ্যানেল