জুতার ব্যবসা প্রাথমিক ধারনা

জুতার ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা! 

জুতার ব্যবসা প্রাথমিক ধারনা

জুতার ব্যবসা প্রাথমিক ধারনা

জুতার ব্যবসা (Shoe Store) একটি লাভজণক ব্যবসা হিসাবে পরিচিত। আমাদের দেশে জুতার বাজার বেশ বড়। কেননা বছরে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার জুতা কেনা বেচা হয়। এই জুতার বাজারকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। একভাগে রয়েছে ব্র্যান্ডের জুতা, অন্যভাগে রয়েছে নন-ব্রান্ডের জুতা।

জুতার বাজার প্রায় ৪০ শতাংশ ব্র্যান্ডের জুতার দখলে বাকী ৬০ শতাংশ ননব্রান্ডের দখলে রয়েছে। জুতার প্রচলিত ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে Bata, Appex, Lotto, Bay, Orion ইত্যাদি ব্র্যান্ড উল্লেখযোগ্য। তবে এর মধ্যে সব চেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হচ্ছে বাটা এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে Appex।

ব্র্যান্ডের জুতার পাশাপাশি অনেক নন-ব্র্যান্ড ও আঞ্চলিক ব্র্যান্ড থাকায় জুতার বাজারে সবসময় তীব্র প্রতিযোগিতা চলে আসছে। ব্র্যান্ড বলুন আর নন-ব্র্যান্ড বলুন প্রতি বছর জুতার দাম কমপক্ষে ১০ শতাংশ বেড়েই চলছে। সারা বছর যত জুতা বিক্রি তার ৩০ শতাংশ ঈদে বিক্রি হয়।

জুতার ব্যবসা শুরু করার সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দোকান ভাড়া। বিশেষ করে শহর অঞ্চলে দোকান ভাড়া অনেক বেশী হওয়ার এই ব্যবসাটি বর্তমানে মফস্বলে বেশী জমজমাট হচ্ছে।

আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি জুতার মার্কেট হচ্ছে ঢাকার ফুলবাড়ীয়ায়, এখান থেকে আপনি পাইকারি দামে জুতা সংগ্রহ করতে পারবেন।

জুতার ব্যবসা শুরু করার বেশ কিছু কারন আছে।

যেমন, কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই এই ব্যবসাটি শুরু করা যায়। আর অভিজ্ঞতা থাকলে অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকবেন। এছাড়া ঝুঁকির পরিমান খুবই কম এবং লাভের পরিমান অন্য ৫টি খুচরো খাতের ব্যবসার চেয়ে বেশ ভালো।

এই ব্যবসায় সফলতার জন্য জুতার ডিজাইন বুঝতে হবে। কোন ধরনের জুতা আপনার গ্রাহক পছন্দ করতে তা বুঝেই জুতা কিনতে হবে। জুতার বাজারে সমসাময়িক ও ইউনিক ডিজাইন খুঁজে বের করতে হবে। আপনাকে বিক্রির সময় নয়, কেনার সময় জিতে কিনতে হবে।

জুতার ব্যবসা শুরু করার পূর্বে আপনাকে ঠিক করতে আপনি কাদের কাছে আপনার পণ্য বিক্রি করতে চান। অর্থাৎ আপনি কি মেয়েদের, ছেলেদের নাকি বাচ্চাদের জুতা বিক্রি করতে চান তা ঠিক করতে হবে।

তবে বেশীর দোকানেই সকলের জন্য জুতা পাওয়া যায়, তবে কিছু কিছু দোকানে ছেলেদের জুতায় বেশী নজর দেয়, আবার কিছু দোকানে মেয়েদের জুতায় বেশী নজর দেয়। এই বিষয়টি আপনাকে মার্কেট রিসার্চ করে নিশ্চিত করতে হবে।

জুতার ব্যবসা শুরু করার জন্য একটি ভালো লোকেশন ঠিক করতে হবে। যদি আপনার দোকানটি ভালো পয়েন্টে না হয়, তবে বেচা বিক্রি কমে যাবে এবং জুতা পুরান হেয়ে গেলে বিক্রি করতে জামেলায় পরবেন। তাই দোকানের স্থান নির্বাচনে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এরপরে রয়েছে আপনি ফিক্সড প্রাইজে পণ্য বিক্রি করবেন নাকি মুলামুলি করে পণ্য বিক্রি করবেন। এই জায়গায় আপনার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে।

তবে আমার মনে হয়, আপনার দোকন যদি শহরে হয়ে থাকে তবে আপনি ফিক্সড প্রাইজে পণ্য বিক্রি করে বেশী টাকা লাভ করতে পারবেন এবং আপনার দোকান যদি গ্রামে বা মফস্বলে হয়ে থাকে তবে মুলামুলি করে বিক্রি করতে পারেন। কেননা মফস্বলের মানুষ মুলামুলি করে পণ্য কিনতে পছন্দ করে।

একটি মজার বিষয় রয়েছে, আপনি যদি ফিক্সড প্রাইজে পণ্য বিক্রি তবে আপনি দোকানটি কর্মচারীদের উপর কিছুটা ছেড়ে দিতে পারবেন আর যদি মুলামুলি করে পণ্য বিক্রি করতে চান তবে নিজেকেই দোকানে থাকতে হবে।

আপনার দোকানে কতজন কর্মচারী লাগবে তা নির্ভর করে দোকানের সাইজের উপর। তবে বেশীরভাগ দোকানে ১ বা দুইজন কর্মচারী থাকে। অনেক সময় কর্মচারীদের বেতন ফিক্সড থাকে, আবার অনেক সময় বিক্রির উপর কমিশন পেয়ে থাকে।

এরপরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, তা হচ্ছে দোকানের ডিসপ্লে।

আপনার দোকান আপনি কিভাবে সাজাবেন তার উপর আপনার বিক্রি অনেকটা নির্ভর করবে। বিক্রি বাড়াতে প্রতি ১০/১২ দিন পর পর ডিসপ্লে পরিবর্তন করা উচিত। কেননা এতে গ্রাহক আকৃষ্ট হতে পারে। এছাড়া গ্রাহক যেন আপনার দোকানটিকে বাইরে থেকে দেখতে পারে তা নিশ্চিত হতে হবে। 

ভালো মান ও ডিজাইনের পণ্য, গ্রাহকের সাথে ভালো ব্যবহার, সঠিক স্থান নির্বাচন এবং দোকানের সুন্দর ডেকেরেশন এই ব্যবসাটিকে সফল করতে পারে। বিশেষভাগে দেয়ালে সাদা রঙ এবং বড় সাইজের আয়নার ব্যবস্থা রাখতে হবে। – ব্যবসা ভিত্তিক ভিডিও পেতে ভিজিট করুন –  ইউটিউব লিঙ্ক