কিভাবে চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করবেন

শুরু করুন চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা

চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা

চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা

যে কোন রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করা কঠিন। সেটি চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা হোক, কিংবা থাই রেস্টুরেন্ট বা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট। আপনি জানেন কি শতকরা ৪০ ভাগ রেস্টুরেন্ট ২ বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। যার অন্যতম কারন ভুল জায়গা নির্বাচন। আজকে এই পোষ্টে কিভাবে চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করবেন তার কিছু ক্ষদ্র ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

বর্তমানে বাংলাদেশে চায়নিজ খাবারের চাহিদা বেড়েই চলেছে। অনেকের কাছেই চায়নিজ খাবার একটি পছন্দনীয় খাদ্য হিসেবে পরিচিত। শহরের অধিকাংশ মানুষ এখন চায়নিজ রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে স্বাচ্ছন্যবোধ করেন। অনেক সময় বিদেশি অতিথিরা এসে এই রেস্টুরেন্টে খাবার খায়। সারা বিশ্বেই এখন চায়নিজ খাবার ব্যাপক ভাবে প্রচলিত। এই ব্যবসাটি শুরু করতে অধিক অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অর্থের তুলনায় আয়ের পরিমান অনেক বেশি। এই ব্যবসাটি শুরু করতে হলে অনেক পরিশ্রমী হতে হয়।

অবস্থান: এই ব্যবসাটি শুরু করতে হয় মূলত আবাসিক এলাকাতে। শহরের বিভিন্ন বড় বড় মার্কেটে বা শপিং-মল এর পাশে এই ব্যবসাটি শুরু করা ভালো।

কেন চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করবেন

ব্যবসাটি একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। অনেক নতুন এবং তরুণ উদ্যোক্তা এই ব্যবসাটি শুরু করতে আগ্রহী। এই ব্যবসাটিতে যেমন লাভের পরিমান বেশি তেমনি বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়। চায়নিজ খাবারের চাহিদা সব সময় সমান থাকে। খাবারের স্বাদ বিবেচনায় চায়নিজ এর অবস্থান প্রথমে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাইরে খেতে যাওয়ার জন্য অন্যতম পছন্দ চায়নিজ রেস্টুরেন্ট। তাছাড়া ছোট বিবাহ অনুষ্ঠান, জন্মদিন পালন, মিটিং এর জন্য চায়নিজ রেস্টুরেন্ট বেশ বিখ্যাত।

চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগতে পারে

এই প্রশ্নের উত্তর সঠিক ভাবে কেউ দিতে পারবে না। সাধারনত খরচ নির্ভর করে আপনি কোন এলাকায় আপনার চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন তার উপর। কেননা এলাকা ভেদে দোকান বা স্পেস এর ভাড়া অনেকটা নির্ভর করে। তাছাড়া অগ্রিম ভাড়া দেওয়ার একটি বিষয় থেকে যায়। তারপরে আসুন ডেকারশন ও আসবাবপত্রের খরচ।

পরবর্তীতে বাবুর্চি/সেফ খরচ, খাবার বানানোর মেশিননারী খরচ, স্টাফ খরচ, restaurant software খরচ ইত্যাদি। তাই সব দিক বিবেচনায় মোটামুটি সাইজের একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করতে হলে ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন।

যেভাবে শুরু করবেন

চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করতে হলে সবার প্রথমে চাই একটি বিজনেস প্ল্যান। আপনার বাজেট এর সাথে মিল রেখে ও পছন্দ অনুযায়ী মোটামুটি বড় একটি জায়গাতে চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসাটি শুরু করতে হবে। যাতে করে রেস্টুরেন্টের ভিতরের জায়গাটা খোলামেলা হবে। সুন্দর করে ডিজাইন করতে কোনো ইনটেরিয়র ডিজাইনারকে দিয়ে ডিজাইন করতে হবে।

রাত্রে রেস্টুরেন্ট এর ভিতরের অংশকে আকর্ষনীয় করতে হালকা আলোর লাইট ব্যবহার করতে হবে। গরমকালে শীতল তাপ এর ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি ছোট বাচ্চাদের জন্য খেলার স্থান রাখতে পারলে ভালো হয়। ভালোমানের র্পদা দিয়ে টেবিলের উপরের অংশে আবরন রাখতে হবে। দক্ষ খাবার কারিগর  ও শিক্ষিত ওয়েটার নিয়োগ করতে হবে।

ইউনিক চায়নিজ খাবারের মেনু বানাতে হবে। দাম ও মানের সাথে অবশ্যই মিল থাকতে হবে। কারন আপনি এই ব্যবসাটি একদিনের জন্য করতে চাইবেন না।

আরো পড়ুন – রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করে সফল হওয়ার কিছু উপায়

বাজারজাত করণ

উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষরা চায়নিজ খাবারের ভোক্তা। এখন বিয়ে, মিটিং, জন্মদিন ছাড়াও যেকোনো অনুষ্ঠানে চায়নিজ খাবার সরবরাহ করা হয়। বর্তমান বাজারে সময়ের সাথে সাথে চায়নিজ খাবারের চাহিদা বেড়েই চলেছে। অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন গ্রাহকদের আপনার ব্যবসা সম্পর্কে জানান দিতে পারেন।

যোগ্যতা

এই ব্যবসাটি শুরু করতে যোগ্যতার প্রয়োজন আছে। দক্ষ ওয়েটার দিয়ে এই ব্যবসাটি শুরু করা হয়। দক্ষ কারিগরের মাধ্যমে চায়নিজ ব্যবসাটি শুরু করা হয়। তাছাড়া খাবার সম্পর্কে খুব ভাল ধারনা থাকতে হবে।

সম্ভাব্য আয়: এই ব্যবসাটিতে অনেক টাকা আয় করা যায়। এই ব্যবসায় প্রতিমাসে ১ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ বা তার অধিক টাকা আয় করা যায়।