কিভাবে বাড়িতে ঘি বানানোর ব্যবসা শুরু করবেন

বাড়িতে ঘি বানানোর ব্যবসা

ঘি বানানোর ব্যবসা

ঘি বানানোর ব্যবসা

কম পুঁজিতে গৃহ কেন্দ্রিক ব্যবসা হিসাবে ঘি বানানোর ব্যবসা অন্যতম। দুগ্ধজাত খাবারের মধ্যে ঘি অতি পুরাতন একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রায় সব স্থানেই ঘি খুব মুখরোচক ও খানদানী খাবার হিসেবে সমাদৃত। রেস্টুরেন্ট বা খাবারের দোকান গুলোতে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আপ্যায়নজনিত মুখরোচক খাবার তৈরীতে ঘি একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।

এছাড়াও ঘি দ্বারা আরো বহু ধরনের সুস্বাদু খাবার তৈরী করা যায়। ব্যবসায় দিক বিবেচনায় ঘি বানানোর ব্যবসা হতে পারে অত্যন্ত লাভজনক ও কার্যকরী ব্যবসার সিদ্ধান্ত। কেননা, ঘিয়ের কারখানা স্থাপন করতে হলে কোনো জনবহুল বা বিশেষ স্থানের প্রয়োজন হয় না।

নিজ বাড়িতে বসে শুধুমাত্র ঘি তৈরীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে সহজেই একটি ঘিয়ের কারখানা স্থাপন করে লাভবান হওয়া যেতে পারে। ঘি উৎপাদনের জন্য দুধ ছাড়া আর তেমন কোন উপাদান লাগে না বিধায় এ ব্যবসাটি শুরু করার জন্য স্বল্প মূলধনই যথেষ্ট। এই ব্যবসাটি বাড়িতেই শুরু করা যায়।

কেন ঘি বানানোর ব্যবসা শুরু করবেন

শুধু মাত্র ঘি তৈরীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সহজেই ব্যবসাটি শুরু করা যায়। কম মূলধন বিনিয়োগ করেই এই ব্যবসাটি শুরু করা যায়। এই ব্যবসাটি শুরু করতে বাড়তি কোন ঝামেলা পোহাতে হয় না। যে কোন ব্যবসামনা মানুষ এই ব্যবসাটি শুরু করে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্ভী হতে পারেন। বাড়িতেই এই ব্যবসাটি শুরু করা যায় বলে ঘর বা দোকান ভাড়ার জন্য বাড়তি অর্থ খরচ করতে হয় না। তাছাড়া মহিলারাও একটি বাড়তি আয়ের পথ হিসাবে ঘি বানানোর ব্যবসা শুরু করতে পারে।

প্রথম দিকে এই ব্যবসাটি শুরু করার জন্য ৪০০০০ টাকা থেকে ৮০০০০ টাকা পর্যন্ত পুজিঁ বিনিয়োগ করতে হবে।

কিভাবে এই ব্যবসাটি শুরু করবেন

এই ব্যবসাটি শুরু করার জন্য প্রথমেই দুধ সংগ্রহ করে জ্বাল দিতে হবে। তারপর দুধ ঠান্ডা করে ওপর থেকে সর উঠিয়ে ফেলতে হবে। এরপর সর গুলো মিহি করে শিল-পাটায় বাটতে হবে। বাটা সর মাটির পাত্রে নিয়ে ব্লেন্ড করে ক্রিম তৈরী করতে হবে। তারপর এর সাথে পানি মিশালে যে ঘন ডো উপরে ভেসে উঠবে সে ডো পাতলা কাপড়ে ছেকে নিয়ে কড়াইতে নিয়ে পুনরায় জ্বাল দিলেই তৈরী হয় ঘি।

তারপর এই ঘি বাজারজাত করণের জন্য ছোট ছোট প্লাস্টিক বোতলে ডুকিয়ে নিতে হয়। এই ব্যবসাটি শুরু করতে হলে অবশ্যই বিএসটিআই হতে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। এই ভাবে ছোট আকারে ঘি বানানোর ব্যবসা পরিচালনা করা যায়।

গ্রাহক কই পাবেন

সকল শ্রেণীর মানুষই এই ব্যবসার ভোক্তা। বিভিন্ন মুদি দোকান ও সুপার শপে ঘি পাইকারী বিক্রি করা যায়। আপনার উৎপাদিত ঘি যদি শতভাগ খাটি থাকে তাহলে আপনি বিক্রি করে শেষ করতে পারবেন না। প্রথম দিকে গ্রাহক পেতে কষ্ট হলেও লেগে থাকতে হবে। একবার কোন গ্রাহক যদি বুজতে পারে আপনার উৎপাদিত পণ্য খাঁটি তাহলে সেই আপনার জন্য বিজ্ঞাপন হিসাবে কাজ করবে। আরো পড়ুন – খাবার ভিত্তিক লাভজনক ব্যবসা আইডিয়া

যোগ্যতা: ঘি তৈরীর অভিজ্ঞতা থাকলে যে কেউ এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। তাছাড়া মার্কেটিং কিভাবে করবেন তা জেনে নিন।

ঘি বানানোর ব্যবসা করে সম্ভাব্য আয়

এই ব্যবসায় এক কেজি ঘি তৈরী করতে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে থাকে। আর বাজারে বিক্রির সময় এক কেজি ঘিয়ের দাম পড়ে ৪৫০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। এভাবে এই ব্যবসায় অনেক টাকা আয় করা যায়।