গ্রামে কোন ব্যবসা করে মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করা যায়?

গ্রামে ব্যবসা করে মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার

গ্রামে কোন ব্যবসা করে মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করা যায়

গ্রামে কোন ব্যবসা করে মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করা যায়

প্রশ্ন ও উত্তর পর্বে স্বাগতম। একটি কঠিন প্রশ্নের সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছি। গ্রামে ব্যবসা করে মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করা অনেক কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। আসুন দেখে নেই, কি ব্যবসা করে মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয়।

বাণিজ্যিক ভাবে হাঁস পালন করে মাসে ৬০ হাজার

কি বিশ্বাস হচ্ছে না? আপনার যদি বড় পুকুর বা পাশে নদী বা খাল থাকে তাহলে শুরু করতে পারেন বাণিজ্যিক ভাবে হাঁস পালন ব্যবসা। প্রতি মাসে সব খরচ বাদে ৬০ হাজার টাকা আয় করতে চান তাহলে কম পক্ষে ১৫০০ হাঁস পালন করতে হবে। মুরগীর চেয়ে হাঁসে লাভ বেশী এবং সঠিক সময় ভেকসিন দিলে ঝুঁকি থাকে না। সঠিক ব্যবসায়িক লিখিত পরিকল্পনা করেই ব্যবসা শুরু করা উচিত। আরো পড়ুন- স্বল্প পুজিঁর কিছু সহজ ব্যবসার ধারণা

বিনিয়োগ কত লাগতে পারে

সম্ভাব্য বিনিয়োগ সাত লাখ টাকা।

১৫০০ হাঁস *২০০ = ৩০০০০০ টাকা

যদি আপনি বাচ্চা হাঁস কিনেন তাহলে আরো কম লাগবে। বাচ্চা হাঁস না কিনে ৪ মাস বয়সী হাঁস কিনলে ভাল হবে। কারন ছোট বাচ্চা হাঁস বড় করতে করতে খরচ বেশী হতে পারে। সেই হিসাবে ৪ মাস বয়সী বাচ্চার দাম এভারেজ ২০০ টাকা করে পাবেন। নারায়ণগঞ্জ হাঁস প্রজনন কেন্দ্র – প্রানী সম্পদ অধিদপ্তর এর পরিচালনায় কেন্দ্রীয় হাঁস প্রজনন খামার থেকে হাঁস সংগ্রহ করতে পারেন।

ঘর বাবদ ১৫০০ হাঁস থাকার জন্য আনুমানিক খরচ হবে প্রায় ২ লক্ষ টাকা। ঘরটি মাচা সিস্টেম এ বানাতে পারলে আরো বেশী হাঁস এক সাথে রাখতে পারেন। খোলা, আলো বাতাস পূর্ণ, উচু জায়গায় হাঁসের ঘর বানাতে হবে। সেই ক্ষেএে বড় পুকুরের দক্ষিন  পাড়ে হাঁসের ঘর বানানো উত্তম।

হাঁসের সাথে মাছ চাষ করতে পারলে আরো বেশী লাভবান হবেন। কারন হাঁসের মল  মাছের খাবার হিসাবে কাজ করে। আমরা আজকে সেই দিকে না যাই! ভেকসিন, লাইট, খাবার দেওয়ার পাএ বাবদ আমরা খরচ ধরলাম আরো ১ লক্ষ টাকা।

হাঁস সাধারনত ৫ মাসের শেষের দিক থেকে ডিম দেওয়া শুরু করে। সেই হিসাবে হাঁসের জন্য ১ থেকে ২ মাসের খাবার মজুদ করে রাখতে হবে। যদি আপনার খামার নদীর পাড়ে হয় তাহলে খাবারের খরচ কম হবে। এই ১/২ মাসের খাবার বাবদ খরচ ধরলাম বাকী ১ লাখ টাকা।

ডিম দেওয়ার আগ পর্যন্ত কোন লাভ ছাড়াই হাঁসের পিছনে টাকা খরচ হবে, হতে চিন্তার কিছু নেই, হাঁস যখন ডিম দেওয়া বন্ধ করবে তখন হাঁস বিক্রি করে এই সময়কালের খরচ উঠে যাবে।  আরেকটি গুরুত্ব পূর্ণ তথ্য, প্রতি ১০ টি মহিলা হাঁসের সাথে ১ টি পুরুষ হাঁসও পালতে হবে। আমাদের দেশের পরিবেশের সাথে ইন্ডিয়ান রানার জাতের হাঁস পালন করাই উত্তম।

এই হাঁস পালন ব্যবসায় অনেকটা সফলতা নির্ভর করে হাঁসের খাবারের খরচের উপর। হাঁস যদি নিজে নিজের খাবার খুঁজে খেতে পারে তাহলে আপনার অনেক টাকা বেঁচে যাবে। খামারের জন্য হাঁসের খাবার নিজে বানাতে পারলে আরো ভাল। নিন্মে কিভাবে সুষম খাবার বানানের তার নমুন দেওয়া হলঃ

গম ভাঙ্গা – ১০০০ গ্রাম

গমের ভুষি – ১২৫ গ্রাম

চালের কুড়া – ৬২৫ গ্রাম

শুটকি মাছের গুড়া – ২৫০ গ্রাম

ঝিনুকের গুড়া – ১৫০ গ্রাম

লবন  – ১০ গ্রাম

খৈল- ৩০০ গ্রাম।

মোট- ২৪৬০ গ্রাম বা প্রায় আরাই কেজি।

এই অনুপাতে হাঁসের খাবার নিজে নিজে বানাতে পারেন।

বিশেষ নোটঃ এটি একটি সফল ব্যবসা তাতে সন্দেহ নেই, তবে সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে লসও হতে পারে। সঠিক লোকবল, সঠিক সময়ে ভেকসিন ও সুন্দর ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা ব্যবসাকে সফল করে। আর্টিকেলটি ভাল লাগলে শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ।