কিভাবে টি শার্ট বিজনেস শুরু করবেন

কিভাবে টি শার্ট বিজনেস শুরু করবেন

টি শার্ট বিজনেস

টি শার্ট বিজনেস

টি শার্ট বিজনেস একটি কম পুঁজির লাভজনক ব্যবসা। কম টাকা দিয়ে শুরু করা যায় বিধায় তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় ব্যবসা। আজকে আমরা জানার চেষ্টা করব কিভাবে সফল ভাবে টি শার্ট বিজনেস শুরু করবেন। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় চলে যাই।

যতই দিন যাচ্ছে ততই আমাদের পোষাক-পরিচ্ছেদের পরির্বতন ঘটছে। তার মধ্যে আরামদায়ক পোশাক হিসাবে টি শার্ট বেশ পরিচিত। ছেলেদের পাশাপাশি অনেক মেয়েরাই আজকাল টি শার্ট পরিধান করে। যত দিন যাবে ততই টি শার্টের চাহিদা বেড়ে যাবে। ভালো ডিজাইন ছাড়া আজকাল কেউ টি শার্ট কিনতে চায় না। সারা বিশ্বে টি শার্ট ডিজাইনারদের চাহিদাও অনেক। দোকানের পাশাপাশি অনলাইন টি শার্ট বিজনেস এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

কেন টি শার্ট বিজনেস শুরু করবেন?

  • এই ব্যবসাটি একটি জনপ্রিয় ব্যবসা হিসেবে পরিচিত। এই ব্যবসায়ের চাহিদা সব সময় থাকে, এজন্য বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
  • কম টাকা বিনিয়োগে এই ব্যবসাটি শুরু করে বেশী টাকা আয় করা যায়।
  • এই ব্যবসাটি শুরু করতে তেমন বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না।
  • সকলের কাছে টি-শার্ট একটি পছন্দনীয় পোষাক।
  • এই ব্যবসায় ঝুঁকির পরিমাণ কম।
  • নিজের রুচিশীলতা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়।
  • নিজ বাসা বা ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে টি শার্ট তৈরির কারখানা পরিচালনা করা যায়।
  • অনলাইনে টি শার্ট ব্যবসা করা যায়।

ব্যবসার অবস্থান: এই ব্যবসাটি শুরু করতে বেশির জায়গার প্রয়োজন হয় না। কম জায়গাতে এই ব্যবসাটি শুরু করা যায়। বড় বাজার বা মার্কেটের পাশে ছোট একটি দোকানে এই ব্যবসাটি শুরু করা যায়। বাড়িতেও এই ব্যবসাটি শুরু করা যেতে পারে। তাছাড়া অনলাইনে কাস্টমাইস টি শার্ট বিজনেস করা যায়। পড়ুন- ব্যবসা শুরু করতে হলে যে দক্ষতা গুলো প্রয়োজন হয়

কিভাবে টি শার্ট ব্যবসা শুরু করবেন

টি শার্ট ব্যবসা আপনি নানা ভাবে শুরু করতে পারেন। সব থেকে সহজ উপায় হচ্ছে কম দামে পাইকার থেকে পছন্দমত রেডিমেট টি শার্ট কিনবেন আর বিক্রি করবেন। এই ব্যবসাকে অনেক স্টক লট ব্যবসা হিসাবেও চিনে থাকবেন। এই পদ্ধতি সহজ হলেও অনেক সমস্যা আছে। যেমন, কাপড়ের মান ঠিক থাকে না, ডিজাইন পছন্দ মত সব সময় পাবেন না, কাপড় থেকে রঙ উঠতে পারে, লম্বা সময় এই ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা যায় না।

২য় উপায় কাপড় নিজে কিনে টি শার্ট বানানো। এই পদ্ধতি সব থেকে জনপ্রিয় ও লাভজনক।  কেননা কাপড় আপনি নিজে কিনবেন এবং আপনি চাইবেন না যে খারাপ কাপড় দিয়ে আপনার বান্ডের বদমান করবেন। যদিও এটি কঠিন ও সময় সাপেক্ষ। টিশার্ট নিজে বানিয়ে তারপর প্রিন্ট করে কিভাবে ব্যবসা শুরু করবেন তা নিন্মরুপঃ

১। ব্যবসার লিখিত পরিকল্পনা

২। ভালো ও চলমান (Trend) বিষয়ের উপর টি শার্ট ডিজাইন করা।

৩। ডায়িং ফ্যাক্টরী খুঁজে বের করা।

৪। গারমেন্টস ফ্যাক্টরী পাওয়া।

৫। পছন্দ মত কাপড় কেনা।

৬। ডায়িং করা।

৭। ডায়িং থেকে গারমেন্টসে কাপড় স্থানান্তর করা।

৮। টি শার্টের সাইজ ঠিক করা।

৯। কাপড় কাটানো।

১০।। প্রিন্ট করা। (স্ক্রীন প্রিন্ট, সাব্লিম্যাশন ও হীট ট্রান্সফার)

১১। টি শার্ট প্রিন্ট থেকে এনে সেলাই করা ও ট্যাগ লাগানো।

১২। আয়রন করা।

১৩। পলি করা।

১৪। প্যাকেট করা।

বাজারজাত করণ: তরুন ছেলে মেয়ে প্রধান ক্রেতা হলেও যেকোনো মানুষ এই পণ্যের ক্রেতা। নিজের দোকানে ও শোরুম করে টি-শার্ট বিক্রি করা যায়। অনলাইনে বিক্রি করতে পারবেন, তাছাড়া কর্মী নিয়োগ দিয়ে দোকানে দোকানে মার্কেটিং করা যায়।

যোগ্যতা: এই ব্যবসাটি শুরু করতে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে। অভিজ্ঞতা না থাকলে অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করুন এবং ব্যবসা বুজে সামনে এগিয়ে যান।

সম্ভাব্য পুঁজি: ২০-২৫ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করতে পারবেন। ব্যবসা ভাল চললে বিনিয়োগ বেশী করতে পারেন।

সম্ভাব্য আয়: ২৫ থেকে ৩০ পারসেন্ট লাভ করা যায়।