এশিয়ার শীর্ষ ১০ টি ধনী দেশ

এশিয়ার শীর্ষ ১০ টি ধনী দেশ

এশিয়ার শীর্ষ ১০ টি ধনী দেশ

এশিয়ার শীর্ষ ১০ টি ধনী দেশ

এশিয়া মহাদেশের ৪৯ টি দেশে প্রায় ৪.৪ বিলিয়ন মানুষ বসবাস করছে। এই মহাদেশের অর্থনীতি সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রমবর্ধমান হারে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জিডিপি-র ক্ষেত্রে এশিয়া বৃহত্তম মহাদেশীয় অর্থনীতি। এখানে আমরা এশিয়া মহাদেশের ১০ টি শীর্ষ অর্থনীতির দেশ সম্পর্কে আলোচনা করব। নিচে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১০. বাহরাইন

বাহরাইন মধ্যপ্রাচ্যের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। বাহরাইন কিং ফাহাদ নামক উচ্চ সড়কের সাহায্যে সৌদি আরবের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। এই দেশের মাথাপিছু গড় জিডিপি প্রায় ২২৩৫৪ মার্কিন ডলার। এই দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১২৩৪৫৭১ জন।

যার মধ্যে ৬৬৬১৭২ জন ভিন দেশী নাগরিক রয়েছেন। বাহরাইন এশিয়া মহাদেশের তৃতীয় ক্ষুদ্র জাতি। এটি আরব বিশে^র দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশ। এটি বিশে^র ১২তম স্বাধীন অর্থনীতির দেশ।

আরো পড়ুন – আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম ১০ টি দেশ

পেট্রোলিয়াম প্রক্রিয়াজাত করণ বাহরাইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পন্য। তাছাড়া অ্যালুমিনিয়াম, অর্থ এবং নির্মাণ উপকরণ বাহরাইনের অন্যান্য বড় পণ্য ও পরিষেবা।

৯. ব্রুনাই দারুস সালাম

ব্রুনাই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ। এটি এশিয়া মহাদেশের নবম ধনী দেশ। এই দেশটি দক্ষিণ চীন সাগর বরাবর সমুদ্র উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং মালয়েশিয়ার সাথে এর সীমান্ত রয়েছে। এই দেশটির অর্থনীতি ছোট কিন্তু অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

কার্যকরী সরকারী নিয়ম নীতি ও উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ ব্রুনাইয়ের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে।

অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি এই দেশের জিডিপি-তে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। ব্রুনাই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ।

৮. কোরিয়া প্রজাতন্ত্র

দক্ষিণ কোরিয়া কোরিয়া উপদ্বীপের দক্ষিণ অংশে পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত। এটি একটি মিশ্র অর্থনীতির দেশ। এই দেশটি স্যামসাং ও এলজি ইলেকট্রনিক্সের মতো আন্তর্জাতিক ভাবে বিখ্যাত ব্র্যান্ডের জন্য পরিচিত। এই দেশের মানুষ অত্যন্ত দক্ষ ও শিক্ষিত। এই দেশের অর্থনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভরশীল।

৭. ইসরায়েল

ইসরায়েল এশিয়ার সপ্তম ধনী রাষ্ট্র। রেড সী ও ভূমধ্য সাগর বরাবর এই দেশটির উপকূল রয়েছে। এই দেশের শিক্ষিত কর্মী ও উন্নত বিকাশমান শিক্ষা ব্যবস্থা এই দেশটিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে ধাবিত করেছে। ইসরায়েল পৃথিবীর ২৪তম প্রতিযোগীতা মূলক অর্থনীতির দেশ। এই দেশটির খাদ্য উৎপাদনের যথেষ্ট সামর্থ্য রয়েছে। যন্ত্রপাতি, কাটা হিরা, রাসায়নিক, পোশাক, কৃষি পণ্য এই দেশের শীর্ষ রপ্তানি পণ্য।

৬. সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাত আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট জনসংখ্যা ৯.২ মিলিয়ন।

ব্যবসা পরিচালনার জন্য এই দেশটি পৃথিবীর ২৬তম অবস্থানে রয়েছে। এই দেশের অর্থনীতি তেলের রাজস্বের উপর নির্ভরশীল। তাছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস ও ও পেট্রোলিয়াম এই দেশের শীর্ষ রপ্তানি পণ্য। পড়ুন – ব্যবসা শুরু করার জন্য সেরা ১০ টি দেশ

৫. জাপান

জাপান পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ। যা প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত। এই দেশের গড় জিডিপির পরিমাণ প্রায় ৩৮৮৯৪ মার্কিন ডলার। এই দেশের অর্থনীতি অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের উপর নির্ভরশীল। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও তৃতীয় বৃহত্তম অটোমোবাইল উৎপাদনকারী দেশ। এটি বিশ্ব বৃহত্তম পাওনাদার দেশ।

৪. হংকং

হংকং পার্ল নদীর বদ্বীপের উপর ভিত্তি করে গঠিত একটি স্বশাসিত অঞ্চল। এই দেশটির আয়তন প্রায় ১১০৪ বর্গ কিলোমিটার। এই দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭.২মিলিয়ন। এটি এশিয়ার চতুর্থ ধনী দেশ। এই দেশের মাথাপিছু গড় জিডিপি ৪৩৬৮১.১ মার্কিন ডলার।

এই দেশের অর্থনীতি আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল। এই দেশটি প্রতি বছর পর্যটন খাত থেকে প্রচুর অর্থ আয় করে থাকে।

৩. সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুর এশিয়ার তৃতীয় ধনী দেশ। যার মাথাপিছু গড় জিডিপি ৫২৯৬০.৭ মার্কিন ডলার। এটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এই দেশটির একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বাণিজ্য ভিত্তিক বাজার অর্থনীতি রয়েছে। এই দেশের অর্থনীতি সর্বাধিক ব্যবসাবান্ধব। এই দেশটির বিনিয়োগ সহায়ক দৃশ্যকল্প গুলো বিশ^ব্যাপী বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করে।

২. কাতার

কাতার পশ্চিম এশিয়ার একটি দেশ। যা আরব উপদ্বীপের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে অবস্থিত। এই দেশের মাথাপিছু জিডিপি ৫৯৩৩০.৯ মার্কিন ডলার। সৌদি আরবের সাথে এই দেশটির একমাত্র ভূমি সীমানা রয়েছে।

তাছাড়া পারস্য উপসাগর বরাবর এই দেশের সমুদ্র উপকূলও রয়েছে। এই দেশের অর্থনীতি পেট্রোলিয়াম ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির উপর নির্ভরশীল। তাছাড়া এই দেশে তেলের অপরিমেয় ভান্ডার রয়েছে।

১. মাকাও- চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল

মাকাও পূর্ব এশিয়ার একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এটি বিশে^র সবচেয়ে কম ঘনবসতি পূর্ণ অঞ্চল গুলোর একটি। এই অঞ্চলটির আয়তন ৩০.৫ বর্গ কিলোমিটার।

যার মোট জনসংখ্যা ৬৫০৯০০ জন। এই দেশের অর্থনীতি মূলত পর্যটনের উপর নির্ভরশীল। বস্ত্র এই দেশের প্রধান রপ্তানি ভিত্তিক পণ্য। বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের সাথে মাকাও এর সুপ্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।