এনট্রাপ্রেনিউরশীপ (ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শিল্পবানিজ্য উদ্দ্যোক্তা উন্নয়ন ধারণা)

আর্থ সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে এন্ট্রাপ্রেনিউরশীপ বা ক্ষুদ্র উদ্দ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম। আরো সহজভাবে বলা যায় ঝুঁকি বা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কোন ক্ষুদ্র ব্যবসা বা শিল্প বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা।

এনট্রাপ্রেনিউরশীপ (ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শিল্পবানিজ্য উদ্দ্যোক্তা উন্নয়ন ধারণা)

এনট্রাপ্রেনিউরশীপ (ক্ষুদ্র ব্যবসা ও শিল্পবানিজ্য উদ্দ্যোক্তা উন্নয়ন ধারণা)

এন্টাপ্রেনিউর এর মাধ্যমে নিদ্দৃষ্ট ব্যক্তিকে বুঝায়। যিনি সকল চ্যালেঞ্জ বা ঝুঁিক মাথায় নিয়ে ব্যবসা বা শিল্প বাণিজ্যের কাজে উদ্দোগ গ্রহণ করেন। কোন উদ্যোগী ব্যক্তি কোথাও বা নিদ্দৃষ্ট কোন এলাকায় প্রথম নতুন কোন ব্যবসা বা শিল্প স্থাপন কাজ শুরু করেন তাহলে তাকে এন্ট্রাপ্রেনিউর বলা হয়।

এন্ট্রাপ্রেনিউর এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট সমূহ

ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতাঃ একজন এন্ট্রাপ্রেনিউর তার কাজে অত্যান্ত দৃড়চেতা ও আত্মবিশ্বাসী। পরিবর্তন প্রত্যাশায় ঝুঁিক নিতে পিছ পা হয় না। কোন উদ্দোগ নেওয়ার পূর্বে উদ্দোক্তাকে ঝুঁকির বিষয়ে বিশেষভাবে ফলাফল কি হবে ভাল বা মন্দ, লাভ বা ক্ষতি, সফলতা না বিফলতা ইত্যাদি যাচাই করা এছাড়া কোন ধরনের সুবিধা বা অসুবিধা সৃষ্টি হতে পারে এবং কিভাবে তা মোকাবেলা করা যায় ইত্যাদি জেনে নিয়ে অগ্রসর হয়। এন্ট্রাপ্রেনিউর এর ঝুঁকির বিষয়টি এমন যে,
”হয় জিতবো, নয় শিখবো
হারবো না কখনো”। 

ব্যবসায়ে নতুনত্ব থাকা: এন্ট্রাপ্রেনিউরকে এমন কিছু করার উদ্দোগ নিতে হবে যা তার এলাকায় সম্পূর্ন নতুন। ইতিপূর্বে কেউ এই ধরনের কাজ বা ব্যবসা শুরু করে নাই। এর অর্থ এই নয় যে, তাকে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনুকরন করা যেতে পারে। যাহা তার এলাকায় নাই বা ছিল না, অন্য এলাকায় আছে এখানে উদ্দোক্তা তা দেখে শুরু করতে পারে যাকে নতুন কিছু করা বলা যাবে। এই রূপ ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনকারীই একজন এন্ট্রাপ্রেনিউর।

ব্যবসায়ে বিনিয়োগ: একজন সফল উদ্দোক্তা নিজের মেধা, বুদ্ধি, ও শ্রম দিয়েই ক্ষান্ত হয় না। তিনি ব্যবসায়ে তার নিজস্ব পুঁিজ বিনিয়োগে কার্পন্য করে না। এখানে নিজের টাকার পরিমান কত কম বা বেশি হবে সেটা বিবেচ্য নয়। বিবেচ্য হচ্ছে নিজের থেকে সর্বাধিক পরিমানে টাকা জোগান দেয়া। এ ছাড়া লোন, ব্যাংক ঋণ বা অন্যান্য সুত্র থেকেও প্রাপ্ত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ থাকে।

নিজের ব্যবসা নিজেই মালিক: একজন এন্ট্রাপ্রেনিউর নিজেই তার ব্যবসায়ের মালিক। অন্যের অধীনে তাকে কাজ করতে হয় না। স্বেচ্ছায় ও স্বাধীনভাবে নিজের কাজ পরিচালনার মাধ্যমে স্বার্থকতা নিয়ে আসা। এখানে উদ্দোক্তা তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে একই ব্যবসায়ীক কাজে সম্পৃক্ত করতে পারেন আবার না ও
করতে পারেন। উল্লেখ্য যে, একজন কৃষক যিনি নিজের জমিতে নিজে কাজ করেন এই রূপ ক্ষেত্রে তাকে এন্ট্রাপ্রেনিউর বলা যায় না।

এনট্রাপ্রেনিউর যোগ্যতা অর্জনে যাহা সহায়ক

একজন এনট্রাপ্রেনিউর হওয়ার ক্ষেত্রে নিম্মে উল্লেখিত দিক গুলি সহায়ক হিসাবে ভূমিকা রাখে।
১। পূর্ব থেকেই নিদৃষ্ট কোন ব্যবসায়ে জড়িত থাকা অথবা কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে তার পক্ষে এনট্রাপ্রেনিউর হওয়া সহজ। যেমন একজন ওস্তাদের অধীনে (রিকসা বা মটর সাইকেল মেরামত) কাজ করতে করতে খুটিনাটি রপ্তকরে পরবর্তীতে সে নিজেই রিকসা বা সাইকেল মেরামতের গ্যারেজ স্থাপন করতে পারে।

২। লিখতে পড়তে ও সাধারণ হিসাব নিকাশ করতে জানা। যাতে ব্যবসার স্বার্থে হিসাব নিকাশ রাখা, লেনদেন করা ও চিঠি পত্র লেখাও বিনিময়ের ক্ষেত্রে সচারচর অন্যের দ্বারস্থ না হওয়া। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় দু’একটি সাটিফিকেট প্রাপ্ত হলেই চাকুরির প্রত্যাশা বেড়ে যায়।

৩। জীবনে দুঃখ-কষ্ট চাহিদা, ব্যর্থতা, হতাশা সর্বোপরি অনুপ্রেরনা এন্ট্রাপ্রেনিউর হবার পথ দেখায়। মাঝে মাঝে দেখা যায় অন্য কোন উপায় না থাকায় বাবা-মা অথবা স্ত্রীর অনুপ্রেরনা এ ক্ষেত্রে খুবই কাজ দেয়।

৪। যার আয়ের উপর দৈনিক পরিবারের ভরণ পোষন নির্ভর করে তার পক্ষে একক ভাবে এন্ট্রাপ্রেনিউর হওয়া কষ্টকর। কারণ পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন মিটানোর পর নতুন কিছু চিন্তা ভাবনা করার মানসিকতা থাকে না।

৫। পরিবারের প্রতি তুলনা মূলক দায়িত্ব যার কম তার পক্ষে এন্ট্রাপ্রেনিউর হওয়া সহজ। কারণ তাকে পরিবারের প্রয়োজন মিটানোর জন্য তাৎক্ষনিক ভাবতে হয় না। আয়ের আশায় অপেক্ষা করার সুযোগ পায়।

এন্ট্রাপ্রেনিউর হওয়ার গুনাবলী
-লক্ষ্য নির্ধারণ করার মত সামর্থ ও সুনিদ্দৃষ্ট লক্ষ্যে স্থির থাকা
-সফলতা অর্জন ব্যতিরেকে লক্ষ্যচ্যুত না হওয়া।
-অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতা না থাকা।
-দৃঢ় মনোভাবী
-সম্পদ ও সুযোগের সদ ব্যবহারে সক্ষমতা
-সৃষ্টিশীলতা
-নিজের মত কে প্রাধান্য দেয়া
-যে কোন ধরনের পরিবেশে খাপ খাওয়ানো