এক জন জীবন বীমা কর্মী এর বৈশিষ্ট

একজন জীবন বীমা কর্মী নিজেকে প্রকাশ করার মূলে হচ্ছে নিয়মিত প্রসপেক্টিং, প্রডাক্ট নলেজ ও ব্যক্তিগত চাহিদা উপলব্দিতে পারদর্শিতা অর্জ্জনে সক্ষমতা। সফলতার সোপানে পৌছাতে হলে সবর্দা ইতিবাচক মনোভাব ও আচরন গত উচ্চমান বজায় রাখা সহ নিম্মোক্ত বিষয় সমূহ প্রনিধান যোগ্য। insurance

এক জন জীবন বীমা কর্মী বৈশিষ্ট

এক জন জীবন বীমা কর্মী বৈশিষ্ট

) দৈনিক কর্ম তালিকা মোতাবেক কার্যক্রম বাস্তবায়ন:

কর্মতালিকা হতে হবে গুচ্ছমানের। এতে সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয়ে সাশ্রয় হয়। কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। এলোপাথারি কাজে সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় বেড়ে যায়। সফলতার হার কমে আসে। বিষন্নতা পেয়ে বসে।

 

) দক্ষতা উন্নয়ন:-

বিভিন্ন প্রডাক্ট সম্মন্ধে স্বচ্ছধারনা, বিক্রয় কৌশল সমন্ধে জানা  ও গ্রাহকদের সেবা দান বিষয়ে খুটিনাটি বিশ্লেষন। দক্ষতা উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া। এটা আনুষ্ঠানিক ভাবে অথবা অআনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা যেতে পারে।

 

) যে কোন পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ানো:-

কাজের মধ্যে মানুষ যেমন চায় সন্তষ্টি, তেমনি নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ ঘটে। প্রতিকুল পরিস্থিতির কারণে কখনো কখনো কারো কারো কথায় আঘাত আসতে পারে। আঘাত কে আশির্বাদ হিসাবে মেনে নিয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনের পথ চলা। সবার আগে গ্রাহকের সন্তুষ্টি। “no” না শব্দ শুনতে অভ্যস্থ থাকা। no কে ঘঙ “no” ভেবে “no” এর মধ্যে n=next, o= opportunity.  এই next opportunity মধ্যে স্বার্থকতা খুজে বের করা।

 

৪) ইতিবাচক মনোভাব:-

সব কিছুর মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব অপরিহায্য। ইতিবাচক মনোভাবই কাজের প্রতি একাগ্রতা, আন্তরিকতা, বিশ্বাস, সহনশীলতা, কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি ও ভয় দুর করে। সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে আচরণ গত পরিবর্তন আনায়ন সহ একে অন্যকে বুঝার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

 

৫) অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা:-

গ্রাহকের মনোভাব বুঝে কথা বলা। বলার চেয়ে শোনাকে প্রাধান্য দেয়া। অতিরিক্ত কথা বলে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা গ্রাহকের বিরক্তির কারণ হতে পারে। গ্রাহকের চাহিদা খুঁজে বের করতে স্বচেষ্ট থাকা।

 

৬) অঙ্গিকার রক্ষা করা:-

জীবন বীমা কর্মী কাজ হচ্ছে বেশি বেশি লোকের সাথে দেখা করা এবং বীমার গুরুত্ব তুলে ধরা। এক্ষেত্রে একে অপরের সাথে দেওয়া কথা তথা অঙ্গীকার যথাযথ ভাবে রক্ষা করা। অঙ্গীকার, ওয়াদা রক্ষার ফলে আস্থার জায়গা অর্জনে সময়ে গুরুত্ব অনেক বেশি।

 

৭) নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি:-

দৈনিক কর্ম পরিকল্পনায় নিদৃষ্ট সময় অফিসে উপস্থিতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধান, প্রতিবন্ধকতা দূরীকরন, নতুন নতুন ধারণা ও কৌশল রপ্ত করার সুযোগ ঘটে। যাহা বীমা পেশায় সফলতার অন্যতম উপদান। পাওয়ার হাউজ থেকে যেভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হয়ে আলোকিত করে তেমনি বীমা কর্মীদের সকালে অফিসে উপস্থিতি ও সভায় অংশগ্রহণ বৈদ্যুাতিক চার্জের মতো কাজের গতি ও অনুপ্রেরণা যোগায়।

 

৮) ক্রীয়েটিভনেস:-

এটা এমনই একটি কাজ বা পেশা যেখানে ক্রীয়েটিভনেস দরকার। কোন কারনে এই পেশায় একঘেয়েমি পনায় পেয়ে বসলে সফলতা সুদূর পরাহত। তখন নিজের কাজে সময় ব্যয় না করে পরচর্চায় ও পরনিন্দায় সময় পার করে দেয়। একজন কর্মীর চিন্তা চেতনায় কর্মে ক্রীয়েটিভনেস চর্চা থাকবে হবে।

 

৯) মার্জিত পোশাক পরিচ্ছদ:-

জীবন বীমা কর্মী পোষাক পরিচ্ছদ মার্জিত ও রুচি সম্মত হওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠানের ভাবমুর্তি, সুনাম সুখ্যাতি বীমা কর্মীর মাধ্যমে প্রচার ও প্রসারিত হয়। পোশাক পরিচ্ছদ দামী না হলেও রুচি সম্মত হওয়া চাই। স্যূট, প্যান্ট, টাই, জুতা, মোজা, শার্ট, সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। চুল, দাঁড়ি ও গোঁফ পরিপাটিভাবে ছেটে রাখা। প্রয়োজনে হালকা সুগন্ধি ব্যবহার করা।

 

১০) আস্থাশীলতা:-

বীমা কোম্পানীর প্রতিটি কাজের নির্দেশনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস থাকা। প্রতি নিদের্শনাকে আস্থায় নিয়ে এগিয়ে যেতে পারলে শত ভাগ সফলতা অর্জন সম্ভব। আস্থাহীনতা উন্নয়ন/পরিবর্তনের অন্তরায়।

 

১১) চাহিদা সৃষ্টিকারী:-

একজন জীবন বীমা কর্মী তথাবীমা বিক্রেতা হিসাবে ক্রেতাকে বিশ্বাস সৃষ্টি করানো যে, এই পরিকল্পনা তার প্রয়োজনে আসবে এবং সে কিনতে আগ্রহী হবে।

 

১২) নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ:-

কাজের মাধ্যমে নিজেকে সফল হিসাবে তুলে ধরা। সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করার  ক্ষেত্রে নিজের উপলব্দিকে কাজে লাগানো। নিজের কাছে নিজেকে দায় বদ্ধতায় আবদ্ধ রাখা।

 

১৩) অর্থনৈতিক উপদেষ্টার ভূমিকা পালন:-

বীমা প্রতিনিধি অন্য পরিবারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন। ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও সঞ্চয় গড়ার উপদেশ দেন।

 

১৪) স্বাধীন ভাবে কাজ করা:-

একজন বীমা কর্মী স্বাধীনভাবে তার পেশায় নিয়োজিত থেকে কাজ পরিচালনা করেন। নিজের এবং পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় আয় করার সুযোগ প্রাপ্তি হয়। কাজের কোন প্রতিদন্ধী থাকে না। নিজের কাজের সফলতা পর্যায় ক্রমে ধাপে ধাপে উপরের দিকে টেনে নেয়।