নিজের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ৭টি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

নিজের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ৭টি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

নিজের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ৭টি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

নিজের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ৭টি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

একজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠাটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। এখানে আপনাকে প্রতিদিনই কিছু অনিশ্চয়তা আর সন্দেহের সাথে যুদ্ধ করতে হয়। কিন্তু এটি আরও কঠিন কিছু হতে পারে যদি এখানে আপনি ব্যক্তিগত ভাবে নিজেকে সব সময় সক্রিয় না করতে পারেন। আপনাকে অনেক ভেবে চিন্তে নিজেকে প্রস্তুত করে একজন উদ্যোক্তার খাতায় নাম লিখাতে হবে।

যে কাজটি একজন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না আপনাকে সেই কাজটিই আপনার জায়গায় থেকে বুঝতে হবে। তবে এখানে অবশ্যই আপনার নিজের যতœ নিতে হবে এবং আপনার কাজের প্রতি নিজেকে বিশ^স্ত করে তুলতে হবে। তাই আমরা আপনি যাতে সহজেই  সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হন এ জন্য প্রতিদিনের একটি কার্যকলাপ তৈরি করেছি। আপনি চাইলে এই গুলোকে অনুসরণ করে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন।

যথেষ্ট ঘুমান

আপনি জানেন এবং পৃথিবীর প্রায় অনেকেই বলেন ঘুম আর মৃত ব্যক্তি এক জিনিস। আপনি যদি সফল উদ্যোক্তা হতে চান তাহলে প্রতিদিনকার রূটিনে আপনাকে অবশ্যই আপনার ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখতে হবে। এটি আপনার মন, প্রান এবং শরীর সুস্থ্য রাখবে। আপনার ঘুম আপনাকে একটি সতেজ প্রানময় জীবন উপহার দিবে। তাছাড়া আপনার ব্যবসার কাজে মনোযোগ বাড়াতে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অতিব জরুরী।

আপনি যদি দীর্ঘ সময় না ঘুমান তাহলে আপনার মস্তিস্ক ভাল ভাবে কাজ করবে না। তখন আপনার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। ফলে আপনি সমস্যা সমাধান করতে অক্ষম হয়ে যাবেন। তাছাড়া ঘুমের অভাবে আপনার শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যেতে পারে যা আপনার কাজের জন্য ক্ষতিকর। তাই আপনাকে যথেষ্ট পরিমাণ ঘুমানোর গুণটি অর্জন করতে হবে।

ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুমাতে হলে আপনাকে প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে। এতে আপনার শরীরে ক্লান্তি আসবে। আর এর ফলে আপনার ঘুম আসবে। ব্যায়াম আপনার শরীরের রাসায়নিক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করে যা আপনার কর্মের জন্য আপনার স্বাস্থ্যকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে ব্যায়াম আপনাকে একটি স্বাস্থ্য সম্মত জীবন উপহার দিবে। আর এর ফলে আপনি খুবই স্বত:স্ফুর্ত ভাবে আপনার কাজ গুলো সম্পূর্ন করতে পারবেন। তাই আপনাকে ব্যায়াম করার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ মিনিট সময় নিজের হাতে রাখতে হবে।

বিরতি নিন

অনেক উদ্যোক্তারাই নিজেদের কাজ করার জন্য সপ্তাহে কোন বিরতি নেন না। এটা একটি পরীক্ষিত ফল। যদি পূর্বেই আপনার এই অভ্যাস থেকে থাকে তাহলে আপনাকে এই খারাপ কাজটি বর্জন করতে হবে। হ্যাঁ, কাজত অবশ্যই করবেন। কিন্তু তার জন্য আপনাকে সপ্তাহে অন্তত এক দিন বিশ্রাম নিতে হবে। এতে আপনি মানসিক ভাবে প্রশান্তি লাভ করতে পারবেন। তাছাড়া এটি নতুন কাজের প্রতি নিজের দৃষ্টিকোণ প্রসার করতেও আপনাকে সাহায্য করবে।

নিজে নিজে ধ্যান করুন

আপনি একটি জায়গায় একাকি বসে আছেন। অযথা বসে না থেকে আপনি আপনার চিন্তা, বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে পারেন। আপনি আপনার কাজ সম্পর্কে গভীর ধ্যান করতে পারেন। কি করে আপনি আপনার ব্যবসায় বিজ্ঞান আর প্রযুক্তিকে ব্যবহার করবেন এবং আপনি কিভাবে সহজেই আপনার ব্যবসায় সৃজনশীল শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন ব্যবসা বা সেবা উদ্ভাবন করবেন তা ভাবুন।

আপনার ছোট বিজয়ে আনন্দ করুন

বিষয়টা এমন না যে যখন আপনি একটি ব্যবসার মালিক হবেন আর কোন বিষয়ে সফল হবেন তখন কিন্তু কেউ আপনাকে পুরস্কৃত করবে। তখন আপনার নিজেকেই নিজে পুরস্কৃত করতে হবে। আপনি এই পর্যন্ত যা সম্পন্ন করেছেন এবং যা আপনি অর্জন করেছেন অথবা আপনি যে সমস্ত অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন সেই গুলো ভেবে আপনার নিজেকে নিজে সুখী ভাবতে হবে। আপনার নিজের সফলতার জন্য নিজেই গর্ববোধ করতে হবে। আর এ জন্য আপনি একটি খাতায় আপনার সফলতার দিক গুলোও তুলে ধরতে পারেন।

হাসিঁ

আপনাকে আপনার গম্ভীরতাকে দূর করতে হবে। সকলের সাথে আপনাকে হাসাঁর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যদি পূর্বে আপনার এই রকম অভ্যাস না থাকে তাহলে আপনাকে অচিরেই তা অভ্যাস করতে হবে। আপনার হাসিঁ মুখ দিয়েই আপনি সহজেই আপনার গ্রাহকদের আকর্ষন করাতে পারবেন। আপনার মুখে যাতে সব সময় হাসিঁ লেগেই থাকে তার প্রতি আপনাকে মনোযোগী হতে হবে।

একটি স্বাস্থ্যকর খাবারের মেন্যু রাখুন

আপনার মেজাজ, চিন্তাধারা, দৃষ্টিশক্তি এবং উৎপাদনশীলতা সবই নির্ভর করে আপনার স্বাস্থ্যের উপর। আর আপনাকে আপনার স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে অবশ্যই পুস্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। একটি গবেষনায় দেখা গেছে যে, পুষ্টিভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস উদ্যোক্তাদের সরাসরি উৎপাদনশীলতায় প্রভাবিত করে। বাড়িতে কিংবা অফিসে যেখানেই থাকুন না কেন আপনাকে একটি স্বাস্থ্যকর পুষ্টিগুন সম্পন্ন খাবারের তালিকা রাখতে হবে। আপনাকে পুরোপুরি ভাবে জাঙ্ক ফ্রুট জাতীয় খাবার পরিত্যাগ করতে হবে। মনে রাখবেন আপনার সাফল্য সম্পূর্ণই নির্ভর করবে আপনার স্বাস্থ্যের উপর।