ঘরে বসে ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা শুরু করতে গেলে যে জিনিস গুলোর প্রয়োজন

ঘরে বসে ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা

ঘরে বসে ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা শুরু করতে গেলে যে জিনিস গুলোর প্রয়োজন

ঘরে বসে ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা শুরু করতে গেলে যে জিনিস গুলোর প্রয়োজন

ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন? ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা গুলোর বেশির ভাগই গৃহ কেন্দ্রিক হয়ে থাকে। আর গৃহ কেন্দ্রিক অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা গুলো শুরু করতে কিছু অপরিহার্য উপাদান প্রয়োজন হয়ে থাকে। নিচে এমন কিছু উপাদান সম্পর্কে আলোচনা করা হলো যে গুলো ছাড়া অনলাইন বা ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা শুরু করা প্রায় অসম্ভব।

ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসা শুরু করার প্রথম ধাপ উচ্চ গতির ইন্টারনেট

যদি আপনি একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে প্রথমত আপনাকে একটি অবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগের ফলে অনলাইন ভিত্তিক সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। আপনার ইন্টারনেট সংযোগটি দ্বারা সহজেই ভিডিও আপলোড, ডাউনলোড ভিডিও কল, ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন কার্য গুলো সম্পাদন করা যায় কিনা তা আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে।

ল্যাপটপ

আপনার এমন একটি ভালো ল্যাপটপ প্রয়োজন যার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর পাশাপাশি ফটো ও ভিডিও এডিটিং, ভারি সফটওয়্যার চালানো, ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজগুলো সম্পাদন করা যায়। বর্তমানে যে সব ল্যাপটপ পাওয়া যায় তার বেশির ভাগই অনলাইন সম্পর্কিত যে কোন ব্যবসায়িক কার্যকলাপ সম্পাদনের জন্য প্রায় উপযুক্ত। আর ল্যাপটপের সব চেয়ে বড় সুবিধা হলো তা যে কোন জায়গায়ই বহন করে নিয়ে যাওয়া যায়।

ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক

ল্যাপটপে কাজ করার সময় আপনার ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হতে পারে। ল্যাপটপে সাধারণত আউটপুট ডিভাইস সংযোগের জন্য অল্প সংখ্যক পোর্ট থাকে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আউটপুট ডিভাইস সংযোগের সুবিধার্থে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সবচেয়ে কার্যকরী হতে পারে। তাছাড়া মোবাইল দিয়ে ইন্টারনেট চালাতে হলে ওয়াইফাই থাকা চাই।

হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার

যে কোন ব্যবসার ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গৃহ কেন্দ্রিক ব্যবসার ক্ষেত্রেও অর্থপ্রদান, খরচ, চালান ও অন্যান্য অর্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় গুলোকে সুশৃঙ্খল ভাবে হিসাব করা প্রয়োজন হয়। আর এই সব অর্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম গুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখার সুবিধার্থে হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়।

আরো পড়ুন – পরামর্শকারী হিসাবে যেই ব্যবসা করা যায়

মোবাইল ব্যাংকিং

অর্থ গ্রহণ বা প্রেরণ করতে আপনি বিকাশ, রকেট, নগদের মত মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করতে পারেন। এই ধরনের সেবা গুলো নিরাপদ এবং সহজে ব্যবহারকারীদের অর্থ স্থানান্তর ও গ্রহণে সহায়তা করে।

প্রিন্টার

যে কোন ব্যবসাতেই বিভিন্ন কাগজের প্রিন্ট করা দরকার হয়। আপনার যদি প্রায় কাগজ প্রিন্ট করার দরকার হয় তবে কাজের সুবিধার্থে তার বিহীন প্রিন্টারই উপযুক্ত হতে পারে। এমন একটি প্রিন্টার কিনুন যা দিয়ে স্কান, প্রিন্ট, ফটোকপি সবই করা যায়। এই রকম একটি প্রিন্টার আপনি hp থেকে ৫০০০ টাকায় নিতে পারেন।

সময়সূচী নির্ধারণ

কাজের সুবিধার্থে মিটিং, ইভেন্ট ও অন্যান্য কাজের জন্য একটি সময়সূচী নির্ধারণ করা যেতে পারে। গুগল ক্যালেন্ডার বা এ জাতীয় অ্যাপ্লিকেশন গুলো আপনাকে সময়সূচী সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

ভিডিও কলের ব্যবস্থা রাখুন

অনেক সময় জরুরী ভিত্তিতে দলের অন্যান্য সদস্য, গ্রাহক বা অন্য কারো সাথে আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে। বাড়িতে বসেই আপনি যাতে তাদের সাথে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা সম্পন্ন করতে পারেন সেই সুবিধার্থে ভিডিও কলের ব্যবস্থা রাখুন। আপনার ল্যাপটপ কেনার সময় ক্যামেরার কোয়ালিটি দেখে নিন, তাছাড়া ভাল মানের একটি মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে পারেন।

ই-মেইল বিপণন

আপনার সেরা গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের উপযুক্ত মাধ্যমটি হতে পারে ই-মেইল। কিভাবে আপনি ই-মেইলে এক সাথে অনেক গ্রাহকে বার্তা দিতে পারবেন তা আগেই নিশ্চিত করুন।

ব্যবসার নাম

আপনি যদি বাড়িতে থেকেও একটি ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলেও আপনার ব্যবসার একটি নাম নির্ধারণ করতেই হবে। আপনার ব্যবসার নামটি গ্রাহকদের কাছে আপনার ব্যবসাটিকে পরিচয় করিয়ে দেয়।

ডোমেইন ও হোস্টিং

আপনার ব্যবসার নামের সাথে মিল রেখে একটি ডোমেইন নাম নির্বাচন করুন এবং অনলাইনের বিভিন্ন প্লাটফর্ম যাচাই করে ডোমেইন নামটি ক্রয় করুন। ডোমেইন ক্রয়ের পর পরিপূর্ণ ভাবে একটি ওয়েব সাইট চালু করতে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান গুলোর নিকট হতে হোস্টিং ক্রয় করতে হবে।

সকল সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করুন

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যে কোন ব্যবসার জন্য খুবই দরকারী ভোক্তাদের কাছে পৌছাঁতে চাইলে ফেইসবুক, ইউটিউব ও ইন্সাটাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থাকতেই হবে।

ব্যবসার পরিকল্পনা

আপনার গৃহ কেন্দ্রিক ব্যবসাটির জন্য একটি প্রকৃত ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনারও প্রয়োজন। কিভাবে আপনার ব্যবসাটি আয় করবে? আপনি পণ্য বিক্রি করবেন নাকি সেবা দিবেন? ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা থাকা অত্যন্ত জরুরী। মোট কথা আপনার ব্যবসাটিকে সার্বিক ভাবে সফল করে তুলতে হলে অবশ্যই পরিকল্পনা মাফিক এগোতে হবে।