যেভাবে আগরবাতি বানানো কারখানা শুরু করবেন

আগরবাতি বানানো কারখানা শুরু করবেন

যেভাবে আগরবাতি বানানো কারখানা শুরু করবেন

আগরবাতি বানানো কারখানা 

আপনি যদি অল্প মূলধনে কোন উৎপাদনমুখী ব্যবসার কথা ভেবে থাকেন তাহলে শুরু করুন আগরবাতি বানানো কারখানা। আগরবাতিকে ধর্মীয় ভাবে পবিত্র ও অত্যাবশ্যকীয় বস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। মুসলিম এবং হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে আগরবাতি অতীব প্রয়োজনীয় একটি বস্তু। বিশেষ করে মিলাদ, মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্যে, ও পূজায় আগরবাতি একটি বহুল ব্যবহৃত উপাদান।

আগরবাতি বানানো কারখানা হতে পারে একটি লাভজনক ও স্বনামধন্য ব্যবসার উদ্যোগ। তরুণ উদ্যোক্তাদের কম পুঁজিতে আগরবাতি তৈরীর ব্যবসাটি হতে পারে একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসাক্ষেত্র।

কোথায় আগরবাতি বানানো কারখানা দিবেন

আগরবাতি বানানো কারখানা আপনি চাইলে আপনার বাড়িতেই শুরু করতে পারেন। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ও বাজার কাছে এমন স্থানে এই ব্যবসাটি শুরু করা যায়। আপনার নিকটস্থ বাজারে এই ব্যবসাটি সহজেই শুরু করতে পারেন।

কেন এই ব্যবসাটি শুরু করবেন

এটি একটি সহজ ব্যবসা ধারণা। লাভের দিক বিবেচনায় আগরবাতি তৈরী ব্যবসায় উচ্চ মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগরবাতি বানাতে কাঠি, সুগন্ধী, প্যাকেট ইত্যাদি সহজলভ্য উপাদান সমূহ লাগে। অতি সহজেই এই সব উপাদান সংগ্রহ করা যায়। অতি চাহিদা বহুল ধর্মীয় উপাদান আগরবাতি তৈরী করে ধর্মীয় ভাবে অবদান রাখার পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা আনয়ন করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অনেক উদ্যোক্তাই এই ব্যবসাটি শুরু করতে আগ্রহী।

সম্ভাব্য পুজিঁ

এই ব্যবসাটি শুরু করতে আনুমানিক ২ লাখ টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত পুজিঁ বিনিয়োগ করতে হয়।

কিভাবে আগরবাতি বানায়

এই ব্যবসাটি শুরু করতে ১০ ফুট বাই ১০ ফুটের একটি ঘর ভাড়া নিতে হবে। চাইলে নিজ বাড়ীতেও শুরু করা যায়। আগরবাতি তৈরী করতে বাশঁ দিয়ে চিকন কাঠি তৈরী করতে হবে। কাঠি গুলো রঙিন করতে রঙে ভিজাতে হবে। তারপর বিজলা গাছের ছাল ও কয়লা গুড়া করে চালনি দিয়ে চালতে হবে। সকল উপাদান এক সাথে মিশিয়ে উপাদান গুলোর সাথে ডিপিই তেল মিশাতে হবে।

তারপর কাঠি গুলো পিড়িঁতে রেখে কাঠিতে ডলে ডলে কয়লার গুড়া দিয়ে তৈরী মিশ্রণটি লাগাতে হবে। এরপর মিশ্রণ মাখানো কাঠি গুলো রোদে শুকাতে হবে। রোদে শুকানো শেষ হলে কাঠিতে সুগন্ধী ছিটিয়ে প্যাকেট করে আগরবাতি বাজারজাত করণের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এভাবে সহজেই একটি আগরবাতি কারখানা শুরু করা যায়।

গ্রাহক: যে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজকরাই এই ব্যবসার প্রধান ভোক্তা। যে কোন মুদি দোকানে পাইকারী আগরবাতি সরবরাহ করেও এই ব্যবসাটি পরিচালনা করা যায়।

যোগ্যতা: এই ব্যবসাটি শুরু করতে বিশেষ কোন যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। তবে দক্ষ ভাবে মার্কেটিং এর ব্যবস্থা করলে সফলতা তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়।

সম্ভাব্য আয়: ৪৫ গ্রোস আগরবাতি তৈরী করতে আনুমানিক খরচ হয় ১৫০০০ টাকা। আর যখন এটি বাজারে বিক্রি করা হয় তখন এর দাম পড়ে ২৪০০০ টাকা। এভাবে এই ব্যবসায় অনেক টাকা আয় করা যায়।