যে উপায়ে কঠিন সময়েও অর্থ সঞ্চয় করা যায়

যে উপায়ে কঠিন সময়েও অর্থ সঞ্চয় করা যায়

কঠিন সময়েও অর্থ সঞ্চয়

কঠিন সময়েও অর্থ সঞ্চয়

বর্তমানে জীবনযাএার খরচ দ্বিগুণ হওয়ায় দিন দিন অর্থ সঞ্চয় করার  প্রয়োজনীয়তা বেড়ে চলেছে। কিন্তু প্রতিদিনকার খরচ সামাল দিয়ে সহজে সঞ্চয় করা হয়ে উঠে না। এখানে আমরা কিভাবে কঠিন সময়েও অর্থ সঞ্চয় করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করবো। আশা করছি উপায় গুলো অবলম্বন করে আপনিও অর্থ সঞ্চয় করতে পারবেন।

একটি বাজেট তৈরি করুন

বাজেট পরিকল্পনাকে অর্থ সঞ্চয়ের হৃদপিন্ড বলা হয়ে থাকে। বাজেট আপনাকে খরচ ও সঞ্চয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুজেঁ পেতে সাহায্য করে থাকে।

আপনি আপনার আয়ের উপর নির্ভর করে ভাড়া, বিল ও অন্যান্য খরচ গুলো কত টাকার মধ্যে সম্পন্ন করবেন তার একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন। এই খরচ গুলো মেটানোর পর কিছু অর্থ সঞ্চয় করুন। যদি আপনার একটি বাজেট পরিকল্পনা না থাকে তাহলে সঞ্চয়ের পরিবর্তে আয়ের চেয়ে বেশি খরচ হয়ে যেতে পারে।

কিন্তু যদি একটি বাজেট পরিকল্পনা থাকে তাহলে কোন খাতে কত টাকা খরচ করবেন তা নির্দিষ্ট করা থাকে। ফলে অতিরিক্ত অর্থ খরচ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। বরং খরচ মেটানোর পর মাস শেষে কিছু অর্থ সঞ্চয় করা যায়।

একটি সঞ্চয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন

মৌলিক লেনদেন অ্যাকাউন্ট গুলোর চেয়ে সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট গুলো থেকে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে আপনি চাইলে আপনার আয়ের কিছু অংশ বা সমস্ত অংশ রাখতে পারেন।

সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে অর্থ রাখলে তা থেকে মাসিক হিসেবে একটি ভালো মানের মুনাফা ফেরত পাওয়া যায়। তাছাড়া একটি সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট থাকলে প্রতি মাসে খরচের পর অতিরিক্ত যে অর্থ থাকে তা সহজেই অ্যাকাউন্টে রেখে দেওয়া যায়।

অর্থ সঞ্চয় এর জন্য পুনরাবৃত্তি খরচ গুলোর প্রতি দৃষ্টি দিন

অর্থ সঞ্চয়ের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা পুনরাবৃত্তি খরচ। একই কাজের জন্য বার বার অর্থ খরচ করাই হলো পুনরাবৃত্তি খরচ। যেমন মনে করুন খরচ বাচাঁতে আপনি আপনার ঘরে কম দামী একটি বাল্ব লাগালেন। দু’দিন পরই সেই বাল্বটা নষ্ট হয়ে গেল।

এর ফলে আপনাকে ডাবল খরচ করতে হলো। কিন্তু যদি আপনি প্রথমেই একটু বেশি দাম দিয়ে ভাল বাল্ব কিনতেন তাহলে হয়তো এই বাড়তি খরচটুকু হতো না। তাই পুনরাবৃত্তি খরচের ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। আরো পড়ুন – ছাএ অবস্থায় টাকা জমানো ১০টি সেরা উপায়

আপনার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন

বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড, অনলাইন শপিং, এটিএম ইত্যাদি অর্থ খরচ করাকে সহজ করে দিয়েছে। বলা বাহুল্য যে, খরচ করা সহজ হয়ে উঠায় আমরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খরচ করছি। এক্ষেত্রে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা অতীব জরুরী।

বিলের ব্যাপারে সর্তক থাকুন

মাস শেষে আমাদেরকে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, টেলিফোন অপারেটর ইত্যাদির জন্য বিল পরিশোধ করতে হয়। তাই পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন ইত্যাদি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন। অপ্রয়োজনে এই সব উপযোগিতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

খাবার পরিকল্পনা

সঞ্চয় করতে হলে প্রতিটি জিনিস একটি নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে রাখতে হবে। সে তালিকা থেকে খাবারকেও বাদ দেওয়া যাবে না। তাই সপ্তাহের কোন দিন কি খাবেন তার একটি তালিকা করে নিন। এর ফলে বাড়তি খরচের সম্ভাবনা কমে যাবে।