অবসর জীবনের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা করবেন যেভাবে

অবসর জীবনের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা করবেন যেভাবে

অবসর জীবনের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা করবেন যেভাবে

অবসর জীবনের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা করবেন যেভাবে

অবসর জীবনে আমরা সাধারনত দুইটি জিনিষ পেয়ে থাকি। এক, ধাতানি (ছেলে, মেয়ে,ভাই,বোন, স্ত্রী, জামাই থেকে অবজ্ঞা ও খারাপ ব্যবহার)। দুই, পেনশন বা জমানো টাকা যা দিয়ে নিজের খরচ চালিয়ে নিজে রাজা হয়ে থাকা। এখন আপনি কি ধাতানি খাবেন না পেনশন খাবেন তা নির্ভর করে আপনি কর্ম ক্ষেএে আর্থিক পরিকল্পনা কিভাবে করেছিলেন তার উপর।

আমাদের সবার জীবনে বেঁচে থাকার তাগিদে অর্থের জন্য কোন না কোন কর্মের সাথে যুক্ত হতে হয়। এই কর্মের সাথে জীবনের অনেকটা সময় পাড় হলে নির্দিষ্ট সময়ে থেকে অবসর নিতে হয়। তবে এই সময়ে অর্থাৎ আপনার অবসর সময়ে আপনি কি করে আপনার আর্থিক দিক আরও উন্নত করবেন? এ জন্য আপনাকে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি নজর রাখতে হবে। নিচে এই রকমই ছয়টি আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছি যা আপনার অবসর সময়ে আপনাকে অর্থ কষ্ট থেকে দূরে রাখবে।

পরিকল্পনায় নমনীয় হতে হবে

প্রত্যেকেই তার কাজের জন্য একটি পরিকল্পনা  গ্রহণ করে থাকে। ঠিক তেমনি আপনাকে আপনার অবসর জীবনটা সাজাতে এই রকম একটি নমনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আপনার জমানো টাকা দিয়েই আপনি নতুন করে কোন কিছু শুরু করতে পারেন। তবে কেবল একটি দিকেই নজর না দেওয়া ভাল। কর্মের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে আপনাকে ভাল ভাবে ধারণা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। মাঝে মাঝে আপনি আপনার প্ল্যানে পরিবর্তনও আনতে পারেন।

উদ্দেশ্য নিয়ে বিনিয়োগ করুন

আপনাকে আপনার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ঠিক করতে হবে। কোন কিছু একটা শুরু করে আপনি শুধু অর্থ উপার্জন করবেন ব্যাপারটা তেমন নয়। আপনি যাতে এর থেকে বিভিন্ন সুযোগও গ্রহণ করতে পারেন তার দিকেও আপনাকে নজর দিতে হবে।

আপনাকে এমন খাতে বিনিয়োগ করতে হবে যেখান থেকে আপনি অর্থনৈতিক সুবিধা ছাড়াও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। যেমন ইন্সুরেন্স বা বীমা।

বীমার মূল সুবিধা হচ্ছে দুইটি। এক, টাকা জমানো যায়। দুই, আল্লাহ না করুক দুর্ঘটনা হলে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়।

ঝুঁকি

সব কাজেই ঝুঁকি বিদ্যমান। তবুও আপনি যেহেতু আপনার অবসর সময়ে কাজটি করছেন তাই কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই ভাবতে হবে। তাছাড়া ঝুঁকি এড়ানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই একজন দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিও হয়ে উঠতে হবে। তবে এটা মনে রাখবেন আপনার কাছে যেই কাজটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ মনে হবে তা থেকে নিজেকে অনেক দূরে রাখাই সবচেয়ে ভাল হবে।

বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ

অবসরের পরে সকলের কাছেই সীমিত অর্থ গচ্ছিত থাকে। আর এই সীমিত টাকা দিয়েই আপনি চাইলে অনেক কিছু করতে পারেন। সবচেয়ে ভাল পথ হচ্ছে আপনাকে সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাত নির্বাচন করতে হবে।

পড়ুন – বীমা ব্যবস্থা কি ভাবে আর্থিক নিরাপত্তা বিধান করতে পারে

আর এই সম্ভাবনাময় খাত গুলো থেকে বাছাই করে কয়েকটি খাতে আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন। এক্ষেএে যদি কোন কারণে একটি খাত বন্ধ হয়ে যায় তাহলে অন্য খাত গুলো আপনার জন্য খোলা থাকবে।

খরচে ভারসাম্য

আপনাকে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট খরচের মধ্যে চলতে হবে। অতিরিক্ত খরচ এই সময়ের জন্য অনেক খারাপ দিক। আর এ জন্য আপনাকে একটি খরচের তালিকা তৈরী করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় খরচ আসতেই পারে। এই গুলো পরিহার করাই আপনার জন্য শ্রেয় হবে। খরচ এলোমেলো না হলে বাড়তি ঝামেলা গায়ে লাগবে না।

উন্নয়ন চিহ্নিত

আপনি যেই খাতে বিনিয়োগ করছেন সেই খাতের উন্নয়ন গুলো সনাক্ত করুন। যদি আপনার বিনিয়োগ সঠিক হয় তাহলে আপনি এর ফল পাবেন। যদি দেখেন যে আশা অনুযায়ী আপনি ফল পাচ্ছেন না তাহলে উক্ত খাত থেকে ফিরে আসুন। আপনাকে আপনার ব্যয়ের সাথে আয়ের সামঞ্জস্য করতে হবে।